যেভাবে জন্ম নেয় টেস্টটিউব বেবি, জেনে রাখুন এই অজানা বিষয়টি

যেভাবে জন্ম নেয়- বাংলাদেশে টে’স্টটিউব বেবি এখন আর কোনো ক’ল্পনার বিষয় নয়। উল্লেখ্য, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্ট’টিউব বেবি লুইস ব্লা’উনের জ’ন্ম হয় ১৯৭৮ সালের ১১ নভেম্বর ইংল্যান্ডে।

অনেক দেরিতে হলেও দেশে টেস্টটিউব বেবি জ’ন্মদানের প্রযুক্তি আমাদের আয়ত্তে এসেছে। ক্র’মান্বয়ে এ প্র’যুক্তির পদ্ধতিগত উন্নয়নের সঙ্গেও আমরা স’ম্পৃক্ত হচ্ছি এবং হব।

এসব আশার কথা। বাংলাদেশে প্রথম টে’স্টটিউব বেবির জন্ম হয় ২০০১ সালের ২৯ মে ঢাকার একটি কিনিকে। দেশের প্রথম টেস্টটিউব বেবির মা ফিরোজা বেগম (৩৩) ও বাবা আবু হানিফ তাদের বিবাহিত জীবনের ১৬ বছর পর এ টে’স্টটিউব বেবি পদ্ধতিতে এক সঙ্গে তিন কন্যাস’ন্তান লাভ করেন।

টেস্টটিউব বেবি নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা। টেস্টটিউব বেবি স’ম্পর্কে ভু’ল ধারণা অনেক।টেস্টটিউব বেবি- এ শব্দগুলো থেকেই অনেকের মনে ভুল ধারণার জ’ন্ম হয়েছে। এ কারণে অনেকেই মনে করেন, টে’স্টটিউব বেবির জন্ম হয় টে’স্টটিউবের মধ্যে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, টেস্টটিউব বেবি কৃত্রিম উপায়ে জন্ম দেওয়া কোনো শিশু।

কাজেই কৃ’ত্রিম উপায়ে এভাবে স’ন্তান লাভে ধর্মীয় বাধা থাকতে পারে। কিন্তু টেস্টটিউব বেবির বিষয়টি মোটেও তা নয়। বিভিন্ন রো’গের যেমন বিভিন্ন চি’কিৎসা প’দ্ধতি রয়েছে, এটিও তেমনি একটি চি’কিৎসা পদ্ধতি।

টেস্ট’টিউব বেবি হচ্ছে ব’ন্ধ্যত্বের চি’কিৎসায় সর্বজন স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিরও বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। এ কৌ’শলের একটি হচ্ছে আইভিএফ। ইন ভিট্রো ফা’র্টিলাইজেশন প’দ্ধতি সংক্ষেপে বলা হয় আইভিএফ।

এ প’দ্ধতিতে দেশের প্রথম টে’স্টটিউব বেবির জন্ম হয়েছিল। এ পদ্ধতিতে স্ত্রীর পরিণত ডি’ম্বাণু ল্যা’পারেস্কো’পিক পদ্ধ’তিতে অত্য’ন্ত স’ন্তর্পণে বের করে আনা হয়। তারপর সেটি প্র’ক্রিয়াজাত’করণের পর ল্যাবে সং’রক্ষণ করা হয়।

একই সময়ে স্বামীর অ’সংখ্য শু’ক্রাণু সংগ্রহ করে তা থেকে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় সবচেয়ে ভালো জাতের এ’কঝাঁক শু’ক্রাণু। তার পর অসংখ্য সজীব ও অতি ক্রিয়াশীল শু’ক্রাণু ছেড়ে দেওয়া হয় নি’ষিক্তকরণের লক্ষ্যে রাখা ডি’ম্বাণুর পে’ট্রিডিশে। ডিম্বাণু ও শু’ক্রাণুর এ পে’ট্রিডিশটি তারপর সং’রক্ষণ করা হয় মা’তৃগর্ভের পরিবেশ অনুরূপ একটি ই’নকিউবিটরে।

ইন’কিউবিটরের মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা প’র্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় নি’ষিক্তকরণের পর ভ্রু’ণ সৃ’ষ্টির সফলতা সম্পর্কে। ভ্রুণ সৃ’ষ্টির পর সেটি একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জ’রায়ুতে সং’স্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। জ’রায়ুতে ভ্রু’ণ সং’স্থাপন স’ম্পন্ন হওয়ার পরই তা চূ’ড়ান্তভাবে বিকাশ লাভের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে এবং সেখান থেকেই জন্ম নেয়। কোনো টেস্টটিউবে এ শিশু বেড়ে ওঠে না।

স্বাভাবিক জ’ন্ম নেওয়া প্র’ক্রিয়ায় জ’ন্ম নেওয়া শিশুর পুরোটাই স’ম্পন্ন হয় মায়ের ডি’ম্বনালি ও জ’রায়ুতে। আর টে’স্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে স্ত্রী’র ডিম্বাণু ও স্বা’মীর শু’ক্রাণু সংগ্রহ করে সেটি একটি বিশেষ পাত্রে রেখে বিশেষ য’ন্ত্রের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয় নি’ষিক্তের জন্য।