চীনের নুতন ভা’ইরাসটিও লক্ষণে ভ’য়ঙ্কর, জেনে নিন উপসর্গগুলো

ক’রোনাভা’ইরাস ম’হামারির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব৷ এরই মধ্যে আ’ক্রান্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। মৃ’ত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের। এরই মধ্যে বি’জ্ঞানীরা নতুন এক ফ্লু’ ভাই’রাস চি’হ্নিত করেছেন। সেই চীনেই মিলেছে নতুন এই ভা’ইরাস। ক’রোনার মতো এটিও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আ’শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেছেন বি’জ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি চিহ্নিত হওয়া নতুন এই ভা’ইরাসটি শূ’কর বহন করে। মানুষের আ’ক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই ফ্লু ভা’ইরাসের না’মকরণ হয়েছে জি৪ইএএইচ১এন১। এটি মানুষের শ্বা’সযন্ত্রের মধ্যে বেড়ে উঠতে এবং বি’স্তার ঘটাতে পারে। যারা চীনে শূ’কর এবং কসাইখানায় কাজ করছেন তাদের এই ভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।। বর্তমানে যেসব টিকা বাজারে রয়েছে সেগুলো প্রয়োগ করে এই ভা’ইরাস থেকে সু’রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

ভাই’রাসটির উ’পসর্গ কী? গবেষকরা বলছেন, এই ভা’ইরাসটি ই’নফ্লুয়ে’ঞ্জা গোত্রেরই৷ জি৪ জেনোটাইপ নামে জে’নেটিক মে’টেরিয়াল রয়েছে৷ ২০১৬ সাল থেকে শুয়োরের মধ্যে ছড়িয়েছে এই ভা’ইরাস৷ করোনার মতোই জি৪ ভাইরাসও শ্বা’সনালিতে সং’ক্রমণ ঘটায়৷ দ্রুত সং’ক্রমণ ছড়াতে শুরু করে৷ এই ভা’ইরাস আ’ক্রান্তের উ’পসর্গ হল, হাঁচি, শ্বা’সকষ্ট, হাঁ’পানি, কা’শি এবং শ’রীরের ওজন হঠাত্‍ অ’নেকটা কমে যাওয়া৷

বি’জ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দুঃ’খের বিষয় জি৪ ভা’ইরাসের কোনো প্র’তিরোধ ‘ক্ষমতা মানুষের দেহে নেই৷ তাই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখার প’রামর্শ দিচ্ছে৷ এর বি’রুদ্ধে কোনো হার্ড ইমিউনিটিও নেই এখনো পর্যন্ত৷

সোয়া’ইন ইন্ডাস্ট্রিতে (শু’য়োরের ব্যবসা) কাজ করা মানুষের মাঝে ১০.৪ শতাংশের র’ক্তে জি৪ পজিটিভ পাওয়া গেছে৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের বয়সের অংশগ্রহনকারীদের র’ক্তে ভা’ইরাসের প’জিটিভ হার প্রায় ২০ শতাংশ। এটা ইঙ্গিত দেয় যে জি৪ স্ট্রে’ইন মানুষের সং’ক্রামকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণা বলছে, এই ভা’ইরাসটি মা’রাত্মক৷ ভ’বিষ্যতে ম’হামারির সৃ’ষ্টি করতে পারে এই ভা’ইরাস৷ বিশেষ করে যারা পর্ক বা শু’য়োরের মাংস খান, তাদের থেকেই ছড়াতে পারে সং’ক্রমণ৷ এই ভা’ইরাস শু’য়োর থেকে মানুষের শরীরে সং’ক্রমণ ঘটিয়ে মৃ’ত্যু পর্যন্ত হতে পারে৷

চীনে নতুন যে ফ্লু ভা’ইরাস পাওয়া গেছে তার সঙ্গে ২০০৯ সালে মেক্সিকো থেকে ছড়িয়ে পড়া সো’য়াইন ফ্লু’র মিল রয়েছে। এখন পর্যন্ত এটা বড় কোনো হু’মকি তৈরি করেনি। কিন্তু ভা’ইরাসটি নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত প্রফেসর কিন-চো চ্যাং এবং তার সহকর্মীরা বলছেন, এর ওপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রফেসর কিন-চো চ্যাং বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা ক’রোনাভা’ইরাস নিয়ে বি’ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছি এবং সেটাই সঠিক। কিন্তু আমাদের অবশ্যই নতুন ভা’ইরাসের স’ম্ভাব্য বি’পদের ওপর থেকে চোখ সরানো চলবে না।’ নতুন এই ভা’ইরাসটি এখনই স’মস্যা তৈরি করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এটি কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত হবে না।’

২০২০ সালটিকে অনেকেই বলছেন, ভা’ইরাস ও ম’হামারির বছর৷ তাই ক’ভিড-১৯ থেকে শিক্ষা নিয়ে জি৪ ভা’ইরাস সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা৷

সূত্র- নিউজ ১৮।