সমাজে বহু প্রচলিত কিছু মিথ্যা হাদিস ! যা এতদিন আমরা সত্য বলে জানতাম

মি’থ্যা বলা অ’শোভনীয় ও অ’ত্যন্ত ঘৃ’ণিত কাজ। চা’রিত্রিক স্খল’নের কারণে অনেকে মি’থ্যায় জড়িয়ে যায়। মনু’ষ্যত্ববোধ ও রু’চিশীলতা লোপ পেলেও অনেকে মি’থ্যার বেসাতি তৈরি করে। কিন্তু সুস্থ ও সঠিক মন-ম’স্তিষ্ক কোনোক্রমেই মি’থ্যা সমর্থন দিতে পারে না। আর সেই মিথ্যা যদি রাসূল সাঃ এর নামে হয় তাহলে তো আর কোন কথাই নাই। রাসূল সাঃ যা বলেননি এইরুপ কোন কথা যদি কেউ উনার নামে প্রচার করে দেয় এটার শা’স্তি আরো বেশী ভ’য়াবহ।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মি’থ্যা তো তারাই বানায়, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের ওপর ঈমান রাখে না। বস্তুত তারাই মি’থ্যুক।’ (সুরা নাহাল, আয়াত: ১০৫)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফেকদের নিদর্শন তিনটি : কথা বলার সময় মি’থ্যা বলা, প্র’তিশ্রুতি ভ’ঙ্গ করা এবং আমানতের খে’য়ানত করা।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৩৩, মুসলিম, হাদিস নং : ৫৯)

মুসলিম মনীষীরা বলেছেন, সবচেয়ে বড় মি’থ্যা হলো আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এর ওপর মি’থ্যারোপ করা। এর শা’স্তি অ’ত্যন্ত ভ’য়াবহ। কেউ কেউ এ জাতীয় মি’থ্যুককে কা’ফের পর্যন্ত বলেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর তোমাদের জি’হ্বা দ্বারা বানানো মি’থ্যার ওপর নি’র্ভর করে বলো না যে, এটা হা’লাল এবং এটা হা’রাম, আল্লাহর ওপর মি’থ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে মি’থ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।’ (সুরা নাহাল, আয়াত : ১১৬)

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা আমার ওপর মি’থ্যা বলবে না, যে আমার ওপর মি’থ্যা বলবে, সে যেন জা’হান্নামে প্রবেশ করে।’ (বুখারি, হাদিস নং : ১০৬)

ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে যে রাসূল সা. এর ওপর মি’থ্যা বলবে সে যেন নিজ স্থায়ী ঠিকানা জা’হান্নাম বানিয়ে নেয়।’ (তারিকুল হিজরাতাইন : ১৬৯)

আজ আমরা আপনাদের সামনে সমাজে বহু প্রচলিত কয়েকটা জাল হাদিসকে সত্য বলে চালিয়ে দেওয়া এমন কিছু হাদিস তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ…

জাল হাদিসঃ ০১ স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত “হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন স্ত্রী গণের বেহেশত স্বামীর পায়ের নিচে” এই হাদিসটি জাল এবং বানোয়াট হাদিস।

জাল হাদিসঃ ০২ “শহীদের র’ক্তের চেয়ে জ্ঞানীর কলমের কালি উত্তম ” এটি জাল এবং বানোয়াট হাদিস।

জাল হাদিসঃ ০৩ “খাদ্য গ্রহণের সময় কথা বলা নি’ষেধ ” এটি একটি জাল/বানোয়াট হাদিস৷ শুধু তাই নয় এটি সহীহ হাদিসের বিপরীত কেননা বিভিন্ন সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীগণ খাদ্য গ্রহণের সময় বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলতেন ও গল্প করতেন।

জাল হাদিসঃ ০৪ “তুমি যখন খাদ্য গ্রহণ করবে তখন লবণ দিয়ে শুরু করবে এবং লবণ দিয়ে শেষ করবে কারণ লবণ ৭০ প্রকারের রো’গের প্রতি’ষেধক। মুহাদ্দিসগণ একমত যে এই কথাটি মিথ্যা ও বানোয়াট।

জাল হাদিসঃ ০৫ আসরের পর/বিকালে পড়ালেখা না করা ” যে ব্যক্তি তার চ’ক্ষুদ্বয়কে ভালোবাসে সে যেন আসরের পর না লেখে” কথাটি হাদিস নয়৷ এর কোনো ভিত্তি নেই বরং মি’থ্যা বানোয়াট।

জাল হাদিসঃ ০৬ ইফতার,সাহরী ইত্যাদি খানার হিসাব না হওয়া বিষয়ক জাল হাদিস।
সমাজে প্রচলিত আছে ইফতার,সাহরী ইত্যাদি খাওয়ার হিসাব নেই, এই অর্থের জাল হাদিসের মধ্যে রয়েছে, ” তিন ব্যক্তির পানাহারের হিসাব গ্রহন করা হবেনা, ইফতার-কারী,সাহরির খাদ্যগ্রহণকারী ও মেহমানসহ খাদ্য গ্রহণকারী।” এটি মি’থ্যা এবং বা’নোয়াট হাদিস।

জাল হাদিসঃ ০৭ লা’শ বহনের সময় সশব্দে কালিমা, দোয়া বা কোরআন পাঠ!
এটি একটি বানোয়াট ভিত্তিহীন ও সুন্নাত বিরোধী ক’র্ম। লা’শ বহনের সময় পরিপূর্ণ নীরবতাই সুন্নাত।

প্রসিদ্ধ ফকীহ আল্লামা কাসানী বলেন,লা’শ বহনের সময় সশব্দে জিকর করা মাকরু।
কাইস ইবনু উবাইদা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ তিন সময়ে শব্দ করতে অপ’ছন্দ করতেনঃ যুদ্ধ, জানাযা এবং যিকর।

জাল হাদিসঃ ০৮ মহানবী(সাঃ) সম্পর্কে জাল হাদিসঃ আল্লাহ বলেন, “আপনি না হলে আমি আসমান যমিন বা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতাম না” এটিও একটি মি’থ্যা এবং বা’নোয়াট হাদিস।

আরো কিছু জাল কিংবা বানোয়াট কথাঃ১. শূকর বা শুয়র বললে ৪০ দিন মুখ নাপাক থাকে ২.পুরুষেরা জুমুআা/শুক্রবারের নামাজ পড়ে না এলে মহিলারা নামায পড়বে না

তথ্যসূত্রঃ হাদিসের নামে জালিয়াতি (গ্রন্থ) ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর পিএইচডি(রিয়াদ) এম.এ (রিয়াদ) অধ্যাপক, আল হাদিস বিভাগ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।
হাদিসের নামে জালিয়াতি বইটি ২৭৩ টি বই থেকে তথ্য নিয়ে রচিত।