সু’স্থ থাকতে চাইলে রাসূলের (সা.) এর ৭ টি নির্দেশনা মেনে চলুন

সুস্থ থাকতে মানুষ চি’কিৎসকের যেকোনো পরামর্শ বা চি’কিৎসা গ্রহণ করতে প্র’স্তুত। কিন্তু প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মানবজাতিকে সু’স্থ থাকতে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন তা পুরোপুরি মেনে চললে সু’স্থতা অবধারিত।
তাই রাসূলের (সা.) যেসব নির্দেশনা মেনে চললে সু’স্থ থাকা যায় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

(১) মানুষ সাধারণত রো’গাক্রা’ন্ত হয় খাদ্য ও পা’নীয়ের দ্বারা। সে হিসেবে সব রো’গের মূল কে’ন্দ্রস্থল মানুষের পেট। তাই খাদ্য গ্র’হণের ক্ষেত্রে পরিমিত মাত্রায় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ইসলাম এ বিষয়ে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং অতি ভোজন করতে নিরুৎসাহিত করেছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য দিয়ে, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বা’স-প্র’শ্বাসের জন্য খালি রাখবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

(২) খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা। রাসূলুল্লাহ (সা.) খাদ্য ও পানীয় সবসময় ঢেকে রাখার জোর তাকিদ দিয়েছেন। কেননা, তাতে অসুস্থতার পাশাপাশি মানুষের মৃ’ত্যুরও ঝুঁ’কি রয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হচ্ছে- ‘রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা খাদ্য ও পানীয় ঢেকে রাখো, মশকের মুখ বন্ধ করে দাও, প্রদীপ নিভিয়ে দাও এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে দাও। কারণ, শয়’তান ব’ন্ধ মশক খুলতে পারে না, ব’ন্ধ দরজাও খুলতে পারে না এবং ব’ন্ধ পাত্রও খুলতে পারে না। তোমাদের কোনো ব্যক্তি যদি পাত্র ঢাকার মতো কিছু না পায়, তবে সে যেন একটি কাঠ আড়াআড়িভাবে রেখে দেয় এবং আল্লাহর নাম স্ম’রণ করে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

(৩) খাদ্যে ফুঁ না দিয়ে খাবার শুরু করা। খাবার ও পানীয়ে ফুঁ দেয়ার কারণে অনেক ধরনের রো’গ হতে পারে। ‘হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) পানীয়ে ফুঁ দিতে নি’ষেধ করেছেন। একজন আরজ করল, পাত্রে কখনো কখনো ময়’লা আ’বর্জনা দেখা গেলে কি করা? তিনি (সা.) বললেন, তা ঢেলে ফেলে দেবে।’ (তিরমিজি, রিয়াদুস সালেহীন)।

আধুনিকবিজ্ঞান বিষয়টিকে জোর দিয়ে আমল করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ, পানীয়ে ফুঁ দিয়ে তা পান করলে তাতে কা’র্বনডাইঅ’ক্সাইড মিশে আমাদের শরীরে ক্ষ’তিকারক জটিলতা তৈরির আ’শঙ্কা রয়েছে।

(৪) হাত প’রিষ্কার রাখার অভ্যাস সবারই থাকা দরকার। যার মাধ্যমে সহজেই অ’সুস্থতা থেকে বাঁচা যায়। হাত নানা ধরনের জী’বাণু বহন করে বিভিন্ন স্বা’স্থ্যঝুঁ’কি বাড়ায়। তাই রো’গমু’ক্ত থাকতে নিয়মিত ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস একটি ভালো ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি কাজ করে। তাই দেড় হাজার বছর পূর্বে খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধৌত করার প্রতি ইসলামের নির্দেশ এসেছে।

রাসূল (সা.) খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার আদেশ দিয়েছেন। ‘আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

আবার পায়খানা থেকে পানি খরচ করার পর বাইরে এসে মাটিতে হাত মলার অ’ভ্যাস ছিল প্রিয় নবীজি (সা.) এর। ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবীজি (সা.) পায়খানায় যেতেন আমি তাঁর জন্য পিতল বা চামড়ার পাত্রে পানি নিয়ে যেতাম। অতঃপর তিনি (সা.) ই’স্তিঞ্জা করে মাটিতে হাত মলতেন। (সুনানে আবু দাউদ)।

(৫) দৈহিক সু’স্থতার পাশাপাশি মানসিক সু’স্থতাও জরুরি। বরং মানসিক সু’স্থতা দৈহিক সুস্থতার পূর্বশর্ত। কারণ মানসিক প্রশান্তি ও উ’ৎফুল্লতা দেহের রো’গ প্র’তিরোধ ক্ষ’মতা বাড়ায়। মা’নসিক উৎক’ণ্ঠা ও অ’স্থিরতা দেহের রো’গ প্র’তিরোধ কমিয়ে ফেলে। তাই ইসলাম মনো’দৈহিক স্বা’স্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে বৈবাহিক জীবন ব্য’বস্থার প্রতি খুব গুরুত্ব দিয়েছে। তা ছাড়া ইসলামের ইবাদত ব্যবস্থা ও জিকির-আজকারের দ্বারাও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জেনে রাখ! আল্লাহ তায়ালার জিকির দ্বারা অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সূরা: রাদ, আয়াত: ২৮)।

(৬) প’রিষ্কার-পরিচ্ছ’ন্নতা ইসলামের মৌলিক নির্দেশনা ও ঈমানের অঙ্গ। পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতিও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ, পরিবেশ দূষণের কারণে মানব সমাজে বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ায়। হাদিসে এসেছে, রাসূলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের বাড়ির আঙ্গিনার সব দিকে পরিষ্কার রাখবে। ইহুদিদের অনুকরণ করো না। তারা বাড়িতে আবর্জনা জমা করে রাখে।’ (সুনানে তিরমিজি)। তা ছাড়া কেউ যদি মিসওয়াক, ওজু, গোসল, পোশাক-আশাক প্রভৃতির ক্ষেত্রে ইসলামি নির্দেশনা মেনে চলে তাহলে সে অ’পরিচ্ছ’ন্নতাজনিত রো’গব্যা’ধি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে।

(৭) যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করা নি’ষেধ করা হয়েছে। কারণ তাতে রো’গব্যা’ধি ছড়ানোর আ’শঙ্কা রয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তিন অভিশপ্ত ব্যক্তি থেকে বেঁচে থাকো। তারা হলো- যে পানির ঘাটে, রাস্তার ওপর ও গাছের ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করে।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

এককথায়, আধুনিক বি’জ্ঞান মানবদেহ রো’গাক্রা’ন্ত হওয়ার যেসব দিক নির্ণয় করেছে এবং এর প্রতিষেধ আবিষ্কার করেছে, তা প্রায় দেড় হাজার পূর্বে মানবতার কল্যাণ ও মুক্তির দিশারী বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) পুরোপুরিভাবে বর্ণনা করে গিয়েছেন। তাই বলা যায়, ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থার নাম, যেখানে মানবতার কল্যাণ ও সফলতার জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার সেখানে তাই করা হয়েছে। কেউ যদি স্বা’স্থ্য ও চি’কিৎসা স’ম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলে তাহলে সে সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবে ইনশাআল্লাহ!

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের মহামারি করোনাসহ বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।। আমীন।’