১০ জ’টিল রো’গের ম’হৌষধ তেলাকুচা!

তেলাকুচা অনেকের কাছেই পরিচিত একটি গাছ। এটি একটি লতানো উ’দ্ভিদ। যার পাতা ও কাণ্ড গাঢ় সবুজ রঙের, ফুল সাদা ও ফল পেকে গেলে টকটকে লাল হয়ে যায়। তেলাকুচা বহু’বর্ষজীবী উ’দ্ভিদ। প’ঞ্চভূজ আকারের পাতা গজানো এই গাছটি অন্য গাছকে জড়িয়ে বেড়ে ওঠে।

তেলাকুচা সাধারণত বন-জঙ্গলে, রা’স্তার পাশে কিংবা বাড়ির আশেপাশে জন্মায়। এর টকটকে লাল ফল দেখতে খুবই আক’র্ষণীয়। তবে এই গাছটি বেশ অবহেলিত। য’ত্ন করে এই গাছ খুব কম সংখ্যক মানুষই লাগিয়ে থাকে। তবে জানলে অবাক হবেন, অবহেলিত এ লতা জাতীয় গাছটি স্বা’স্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তেলাকুচায় প্রচুর বিটা-ক্যা’রোটিন আছে। যা আমাদের মা’রাত্মক অনেক রো’গ থেকে মু’ক্তি দিয়ে থাকে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক তেলাকুচা গাছের ওষুধি গুণাগুণ সম্পর্কে-

জ’ন্ডিসঃ জ’ন্ডিস হলে অনেকেই ভ’য় পেয়ে যান। তবে ভয় না পেয়ে ভরসা রাখুন এই তেলাকুচা গাছের উপর। যা খুব উপকারী। জ’ন্ডিস সারাতে তেলাকুচার মূল ছেঁচে রস তৈরি করে নিন। এবার প্রতিদিন সকালে আধাকাপ পরিমাণ এই রস পান করুন। এতে উপকার পাবেন।

শ্বা’সক’ষ্ট ( হাঁ’পানি নয়: অনেকেই শ্বা’সক’ষ্টের স সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে বুকে স’র্দি বা কাশি বসে যাওয়ার কারণে শ্বা’সক’ষ্ট হয়ে থাকে। এর থেকে রক্ষা পেতে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে নিন। এবার ৩ থেকে ৪ চা চামচ পরিমাণ তিন থেকে সাত দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খান। শ্বাস’ক’ষ্টে’র সমস্যা মিটে যাবে।

ডা’য়াবেটিস: নানা কারণে আমাদের দেহে ডা’য়াবেটিস বাসা বাঁধে। যা ধীরে ধীরে আমাদের শরীরকে অ’কেজ করে দিতে থাকে। তাই যাদের ডা’য়াবেটিস রয়েছে, তাদের অবশ্যই এই রোগ নি’য়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। এক্ষেত্রে তেলাকুচা গাছা খুবই কার্যকরী। তেলাকুচার কা’ন্ডসহ পাতা ছেঁচে রস তৈরি করে নিন। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে এই রস আধাকাপ পরিমাণ পান করুন। এছাড়াও তেলাকুচার পাতা রান্না করে খেলে ডা’য়াবেটিস রোগে উপকার হয়।

কা’শি:কা’শির উ’পশমেও তেলাকুচা খুব উপকারী। যদি শ্লে’স্মাকাশি হয় তবে শ্লে’স্মা তরল করতে এটি বেশ কাজ করে। কাশির উপশমে ৩ থেকে ৪ চা চামচ তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হা’লকা গরম করে নিন। এবার এর স’ঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খান। এতেই উপকার মিলবে।

শ্লে’ম্মাজ্ব’র: শ্লে’ষ্মাজ্ব’র থেকে রক্ষা পেতে ৩ থেকে ৪ চা চামচ তেলাকুচার মূলও পাতার রস হালকা গরম করে নিন। এবার এটি ২ থেকে ৩ দিন সকাল ও বিকেলে খান। এক্ষেত্রে তেলাকচুর পাতা পাটায় বেটে রস করে নিতে হবে।

পা ফোলা রো’গে: পা ফুলে যাওয়া কিংবা শোথ রোগ অনেকেরই হয়ে থাকে। ‘দীর্ঘ সময় গাড়িতে ভ্র’মণ করা বা অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে এই স’মস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে তেলাকুচার মূল ও পাতা ছেঁচে এর রস ৩ থেকে ৪ চা চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে পান করুন। এতেই স’মস্যার সমাধান মিলবে।

স্ত’নে দুধ স্ব’ল্পতা: স’ন্তান প্রসবের পর অনেকের স্ত’নে দুধ আসে না। আবার শরীর ফ্যা’কাশেও হয়ে যায়। এ অবস্থা দেখা দিলে ১টি তেলাকুচা ফলের রস হালকা গরম করে মধু মিশিয়ে নিন। এবার এই রস পরিমাণ মতো সকাল ও বিকেল ১ সপ্তাহ খান। এতে স্ত’নে দুধের স্বল্পতা দূর হয়ে যাবে।

ফোঁ’ড়া ও ব্র’ণ: ফোঁ’ড়া ও ব্র’ণ সারাতে তেলাকুচা পাতা জাদুর মতো কাজ করে। তেলাকুচা পাতার রস বা পাতা ছেঁচে ফোঁড়া ও ব্রণে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে ব্যবহার করুন। এতে দ্রুত মুক্তি মিলবে।

আমাশয়: প্রায়ই আমাশয় হতে থাকলে তে’লাকুচার মূল ও পাতার রস ৩ থেকে ৪ চা চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খান। ৩ থেকে ৭ দিন নিয়ম করে এই রস পানেই উপসম মিলবে।

অরুচিতে: অনেকেরই স’র্দিতে মুখে অ’রুচি হয়। এই অবস্থায় তেলাকুচার পাতা একটু সি’দ্ধ করে পানিটা ফেলে দিন। এবার এটি ঘি দিয়ে শাকের মত রান্না করে নিন। খেতে বসে প্রথমেই এই শাক খেলে খাওয়াতে রুচি আসবে।