’তুই কত বড় সাংবাদিক হয়েছিস, আয় তোকে দেখে নেব‘

জনপ্রতিনিধি হয়েও কথায় কথায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাটোর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য আলী আকবরের বিরুদ্ধে। শুধু হুমকি নয় দোকান দখল ও বাড়ি নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেন তিনি। ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অডিও রেকর্ড চলে আসে গণমাধ্যমের কাছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদকর্মীকেও হুমকি দেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বড়হরিশপুর এলাকার ব্যবসায়ী জুমন আহমেদের জড়িনা এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিতে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকি দেন জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য আলী আকবর। শুধু হুমকি দিয়ে বসে থাকেননি তিনি। দলবল নিয়ে দোকানটি দখলে নিয়ে পূর্বের নাম পাল্টিয়ে জুঁই এন্টারপ্রাইজ নাম দেন।

ব্যবসায়ী জুমন আহমেদ জানান, এখনো আলী আকবর তার দোকানটি দখলে রেখেছেন। এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়না না নেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছেন

এছাড়া শহরের পিটিআই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফ খোকন বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেন এই জনপ্রতিনিধি। চাঁদা হিসাবে দাবি করেন দেড় লাখ টাকা। আলী আকবরের কথামতো ৪৮ হাজার টাকা প্রদানের পরও বাকি চাঁদার টাকা না দেওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুর রউফ খোকন জানান, আলী আকবরের ভয়ে তিনি বাড়ি নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন। আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন না কেন, এমন প্রশ্নে রউফ জানান, নদীতে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা যায় না।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান আলী আকবর মোবাইলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদকর্মীকে হুমকি দেন। আলী আকবরের হুমকির অডিও রেকর্ডে সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, তুই কত বড় সাংবাদিক হয়েছিস, কানাইখালি আয়, তোকে দেখে নেবো।

নাটোর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘দোকান দখল, বাড়ি নির্মাণে বাধা প্রদানসহ চাঁদাবাজি, কথায় কথায় হুমকি একজন জনপ্রতিনিধির এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি। জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তির এমন আচরণ কাম্য নয় কখনোই। দ্রুত এমন কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

নাটোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান বলেন, ‘কেউ-ই আইনের উর্দ্ধে নয়। পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

desh24