গাজীপুরের এসপির বিষয়ে সিইসির ‘আশ্বাস’ পেল বিএনপি

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ করতে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদকে আবারও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও এবার ‘আশ্বাস’ পেয়েছে তারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি কে এম নুরুল হুদা বিএনপিকে জানিয়েছেন, গাজীপুরের এসপির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তারা।বৃহস্পতিবার বিকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে এই দাবি নিয়ে আবারও সিইসির কাছে যায় বিএনপির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। আর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদেরকে হারুনের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন সিইসি।বিএনপি অবশ্য কেবল গাজীপুরের পুলিশ সুপারের বিষয়ে দাবি জানাতে যায়নি। খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরকেও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এসেছে।

গত ১৭ এপ্রিলও বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল গাজীপুরের পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এসেছে।গাজীপুরের এসপির বিষয়ে বিএনপির আপত্তি পুরনো। ২০১১ সালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সে সময়ের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুককে পিটুনির ঘটনায় হারুন সেখানে ছিলেন। সে সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী উপকমিশনার ছিলেন।

ওই ঘটনার কিছুদিন পর হারুনের পদোন্নতি হয় এবং পরে তিনি গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পান।দুই বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা অভিযোগের পর হারুনকে ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল প্রত্যাহার করে নির্বাচন কমিশন। পরে তাকে পুনর্বহাল করা হয়।

বিএনপির ধারণা, এসপি হারুন দায়িত্বে থাকলে ভোটের আগে তাদের নেতা-কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করবেন।তবে গত ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে এক বৈঠক শেষে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন গাজীপুরের এসপিকে প্রত্যাহারের দাবি নাকচ করেন। সেদিন তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে হবে। সেখানে তিনি (এসপি) অসহযোগিতা করছে কি না দেখতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা বা কেউ কোনো অসহযোগিতা করার রিপোর্ট আসেনি।’

এরপরই বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সরে যাওয়া জামায়াত নেতা এস এম সানাউল্লাহ তার ৪৪ সহযোগীসহ আটক হন। পুলিশ সুপার হারুন জানান, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন এবং তাদের কাছে পেট্রল বোমা পাওয়া গেছে।

তবে বিএনপি এই গ্রেপ্তারকে পক্ষপাতদুষ্ট মনে করে। আর আজও হারুনের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যায় বিএনপি।দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সিইসি সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘বিএনপির আভিযোগ আমরা শুনেছি। আমরা এটা নিয়ে বসব, সকলের মত নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধেও আপত্তিগত রাতে খুলনায় মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে দাবি করেছেন দলের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এই অভিযোগে সকাল সাড়ে নয়টায় নির্বাচনী প্রচার স্থগিত করেন তিনি। যদিও দুপুরে তিনি আবার প্রচারে ফেরেন।

সিইসি বলেন, ‘আজকে বিএনপির এক প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। আমাদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তাদের দুটি ইস্যু প্রধান। একটা ইস্যু হলো গতকালকে খুলনায় পুলিশের অভিযানে তাদের ভাষায় তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়ে। সেটা ওনারা পছন্দ করেননি।’

কী সিদ্ধান্ত নিলেন-এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘এটা নিয়ে কমিশনারদের সঙ্গে আমাদের আলাদাভাবে বসতে হবে। তাদের মতামত নিতে হবে। কমিশনের সঙ্গে বসতে হবে। এটা যুক্তিসঙ্গত হলে করব।’

‘পর্যবেক্ষণ করে দেখি’

এসপি হারুণ এবং খুলনার পুলিশ কমিশনারের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিলেন- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করি দেখি। সেটা যদি এই অল্প সময়ের ব্যবধানে করা যুক্তিসঙ্গত হয় তাহলে আমরা করব। আর কমিশনে যদি সকলে সম্মত হয় এখন করার দরকার নেই, তাহলে নাও পারতে পারি।’

ইসির মাঠে কর্মকর্তারা এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দিয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘তাদের (বিএনপির) নির্বাচন কাজে বাধা দিচ্ছে বা দিয়েছে এমনকোন নির্ভরযোগ্য তথ্য আমরা পাইনি।’

বিএনপি তাহলে কিসের ভিত্তিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে- এমন প্রশ্নে নুরুল হুদা বলেন, ‘সেটা তো আমরা বলতে পারি না। সেটা তারা (বিএনপি) বলতে পারবে। তবে আমরা খোঁজনিয়ে দেখি তাদের অভিযোগ সত্য কি না।’

বিএনপির প্রতিনিধি দল যা বলল

এর আগে বিকেল সোয়া তিনটায় বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় তিন ঘন্টার মত এ বৈঠক চলে।বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। সঙ্গে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকতুল্লাহ বুলু ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন।

মঈন খান বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর সমস্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকে। তাহলে কীভাবে পুলিশ সেখানে এ অযাচিত হস্থক্ষেপ করছে? এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? তাই আমরা খুলনা মেট্রোপলিটন সিটির পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহারে দাবি জানিয়েছি।’

‘আমরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছি গণতন্ত্রের জন্য। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে খুলনায় আমাদের ১৯ জন নেতা কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন ভাবে নেতাদের হয়রানি ভয়ভীতি দেখাচ্ছে পুলিশ।’

‘আমরা গাজীপুর পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ জানিয়েছি। আজও জানালাম। গাজীপুরে আমাদের নেতাকর্মীরা ভোট চাইতে গিয়েছে। কিন্তু গাজীপুর গাজীপুর পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে তাদের বহিরাগত আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’

‘খুলনায় আমাদের দুই জন স্থায়ী কমিটির অবস্থান করছে। তারা যে হোটেলে থাকছে সেটা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।’

এ বিষয়ে পরে সিইসি বলেন, ‘যে হোটেলের কথা বলা হয়েছে যেখানে বিদেশি কিছু লোক আছে। নির্বাচনের সময় তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সেখানে ছিল। এবং ঘটনাচক্রে রাতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ সেখানে ছিলেন। তখন পুলিশ ছিল। পুলিশ সেখানে ছিল মুলত বিদেশি লোকদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য।’

(ঢাকাটাইমস

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে onebd.news er ফেসবুক পেজে লাইক দিন