এইবার মাশরাফির সমালোচনা করে যা বললেন আওয়ামী লীগ নেতা

আগামী সংসদ নির্বাচনে মাশরাফির প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর থানা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, মাশরাফির নির্বাচন করার বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়েছেতারা ধরেই নিয়েছেন মাশরাফিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। যদিও এনিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যেও এক ধরণের ভিন্নমত দেখা গেছে।

ওই নেতা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই চাচ্ছেন না মাশরাফিকে মনোনয়ন দেয়া হোক। তবে জেলা ছাত্রলীগের একটি বড় অংশ মাশরাফিকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়নড়াইল জেলাছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলাপরিষদের সদস্য রিয়াজ মাহমুদ মিশাম বলেন, ‌এটা তো এখনও গুঞ্জনের পর্যায়ে আছে কিছুই নিশ্চিত হয়নি। নেত্রী যদি মনে করেন, মাশরাফি প্রার্থী হলে দল এবং জেলার জন্য ভালো হবে তাহলে আমরা অবশ্যই সেটাই মানবো। তবে দলীয়ভাবে এনিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু নিজেই মনোনয়ন প্রত্যাশী (নড়াইল-১ আসনে) উল্লেখ করে সময় নিউজকে বলেন, ‘এখনও তো বিষয়টা চূড়ান্ত হয়নি। এমন গুঞ্জন অনেকের নামেই আছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আমি পাইনি।’মাশরাফি প্রতিষ্ঠিত নড়াইল ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তার ফাউন্ডেশন কি করেছে জেলার জন্য? আমি তো জানি না। পরিবারের চার পাঁচজন মিলে ফাউন্ডেশন করলেই কি হয়ে গেল? নড়াইলের মানুষের অনেক আবেগ। কিন্তু বেশি আবেগ ভালো না।’

এদিকে নড়াইল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস সময় নিউজকে বলেন, ‘মাশরাফি রাজনীতি করেছে, তা হলো খেলার রাজনীতি। সে নড়াইলের গর্ব।সে শুধু নড়াইল নয়, পুরো বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে বাংলাদেশকে সম্মান এনে দিয়েছে, তার মতো আর কেউ পারেনি। সে এলাকার জন্যও অনেক কিছু করছে।’তবে জাতীয় নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণই নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু মাশরাফিই নয়, নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন তার বিরোধিতা করার কোনো সুযোগ নেই।’

নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টা যেহেতু নিশ্চিত হয়নি, তাই এটি নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। মনোনয়নের বিষয়টি সম্পূর্ণ নেত্রীর বিষয়। তিনি নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ পরিবারের বাইরের কাউকে প্রার্থী করবেন না।’তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে গেলে দৃশ্যপট অনেকটাই আলাদা। সালমান শেখ নামে লোহাগড়া উপজেলার এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি চাই না, মাশরাফি নির্বাচন করুক, রাজনীতিতে আসুক। ওকে সবাই ভালোবাসে, সম্মান করে। রাজনীতি করলে সে সবাইকে খুশি রাখতে পারবে না। সে সম্মান হারাবে।’নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী নওরিন ইশরাত বলেন, ‘মাশরাফি আমাদের জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে খুব ভালো মনের মানুষ। জেলার উন্নয়নের জন্য সে একটা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে। তার মতো একজন মানুষ এমপি হলে ভালোই হবে।’

মাশরাফি অনেক আগে থেকে বিভিন্ন মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে মাশরাফির নেতৃত্বে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন নামে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যাত্রা শুরু করে।ইতোমধ্যে এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন সাধারণ ও দুস্থ মানুষকে আর্থিক সাহায্য, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, আইসিটি, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, পরিবেশ, পর্যটনসহ বিভিন্ন বিষয়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে

amardesh247.com