পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাইট ক্লাবে তারেক

মা জেলে, বাবার মৃত্যুবার্ষিকী, আর ঐ রাত নাইট ক্লাবে কাটালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন করলেন রঙিন পানীয় আর উদ্দাম নাচ দিয়ে। ২৯ মার্চ রাতে তারেক তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে যান লন্ডন লাক্সারি ক্লাবে। লেচেস্টার স্কয়ারে অবস্থিত এই নাইট ক্লাবটি লন্ডনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্লাবের একটি। ক্লাবটি শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কের জন্য। তারেক মাঝে মধ্যেই এই ক্লাবে রাত কাটান। এই ক্লাব খোলা থাকে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর তিনটা পর্যন্ত।

২৯ মে যুক্তরাজ্য সময় রাত ১২টার দিকে তারেক এবং তাঁর দুই বন্ধু এই ক্লাবে প্রবেশ করেন। ৩০ মে ভোর ৩ টায় তারেক সেখান থেকে বের হন। ৩০ মে তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। নাইটক্লাব থেকে ফিরে সারাদিনই বাসা থেকে বেরুননি তারেক। পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তারেক তাঁর বাসাতেও কোনো কর্মসূচি রাখেননি। যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপি প্রতি বছরই জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে। মূল কর্মসূচি থাকে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান।

কিন্তু এবার যুক্তরাজ্য বিএনপি থেকে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উল্লেখ করার মতো কোনো কর্মসূচি নেই। যদিও স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোজার জন্য এবার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি বড় আকারে করা হয়নি। রোজার পর বড় কর্মসূচি করা হবে। কিন্তু লন্ডনে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারেক জিয়ার অনাগ্রহেই কর্মসূচি করা যায়নি। কয়েকজন নেতা, তারেক জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কর্মসূচি করার প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু তারেক তাদের বলেন যে, তাঁর ইমিগ্রেশন নিয়ে ঝামেলা চলছে, হোম ডিপার্টমেন্ট তাঁকে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে আপাতত দূরে থাকতে বলেছে। তারেক তাঁকে বাদ দিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের বিএনপি এমনিতেই দুই ভাগে বিভক্ত। সেখানে তারেক বা খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই মারামারির ঘটনা ঘটে। আর তাঁরা না থাকলে কি হবে!বিএনপির একজন স্থানীয় নেতা, যিনি তারেকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন, তিনি জানালেন যে তারেক তাঁদের বলেছেন, ২৯ এবং ৩০ তারিখে তিনি খুব ব্যস্ত থাকবেন।

কিন্তু তাঁর ব্যস্ততা যে নাইট ক্লাবে যাওয়া এটা তাঁরা ভাবতেও পারেননি।বেগম খালেদা জিয়া গত ৮ মার্চ থেকে জেলে। বেগম জিয়া জেলে যাবার পরও তারেক জিয়ার মধ্যে কোনো শোক বা বেদনা কেউ দেখেননি। বিএনপির যুক্তরাজ্যের কয়েকজন নেতা বলছেন, ‘ম্যাডাম জেলে, তারেক সাহেব সব কিছু তুচ্ছ জ্ঞান করে মায়ের জন্য দেশে ছুটে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টা। ম্যাডাম জেলে যাবার পর তারেক সাহেবের বিলাসিতা আরও বেড়েছে।’

ঐ নেতা বলেন, তিনি না যান তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দার বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা নেই, তাছাড়া জাইমা তো এখন প্রাপ্ত বয়স্ক। তারেক সাহেবতো তাঁদের অন্তত পাঠাতে পারতেন।’ সর্বশেষ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন তারেকের রাতভর মদ্যপান এবং নাইট ক্লাবে অভিসার যুক্তরাজ্য বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিএনপির নেতারাই বলছেন, ‘এরকম সন্তান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।`Read in English- https://bit.ly/2kErb41..বাংলা ইনসাইডার