ফখরুলের ক্ষমতা খর্ব

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। লন্ডন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বেগম জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চলবে যৌথ নেতৃত্বে। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঐ সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কি বলবেন তার পয়েন্ট আগে থেকে লন্ডনে জানাতে হবে অথবা স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে চূড়ান্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া ছাড়া নির্বাচন নয়- এটাই হবে বিএনপির একমাত্র অবস্থান। এর বাইরে কেউ নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবে না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন বেগম জিয়া। বেগম জিয়া জেলে যাবার আগেই লন্ডনে পলাতক তাঁর ছেলে তারেক জিয়াকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেন। কিন্তু লন্ডনে থাকায় তাঁর অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব এসে বর্তায় মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উপর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুলের একক সিদ্ধান্তেই দল চলতে থাকে। কারণ, তারেক জিয়াকে টেলিফোনে সবসময় পাওয়া যায় না। তাছাড়া বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার এক মাসের মধ্যেই সিনিয়র নেতারা দলের কাজকর্মে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি মহাসচিবের একাধিক কার্যক্রমে তাঁকে নিয়ে দলের মধ্যে সন্দেহ বেড়েছে। আর এই সন্দেহের খবর পৌঁছে গেছে লন্ডনে।

আজ দুপুরে তারেক জিয়া দলের মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সব সদস্যের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলেছেন। মহাসচিব ছাড়া তারেক যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা হলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেকের নির্দেশ অনুযায়ী এখন থেকে এই পাঁচ নেতা যেকোনো ব্যাপারে যৌথ ভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনের কর্মসূচি থেকে বক্তৃতা, বিবৃতি ইত্যাদি কোন কিছুই এখন মহাসচিব একা করতে পারবেন না। অন্য দলের সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রেও একই রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মহাসচিব একা ২০ দলের বাইরে কারও সঙ্গে বৈঠক করতে পারবেন না। এরকম বৈঠকের আগে স্থায়ী কমিটি না হলেও অন্তত এই পাঁচজনকে বসতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেক অবিলম্বে ২০ দলীয় জোটকে কার্যকর ও চাঙ্গা করার উদ্যোগে নিতে বলেছেন।

বিএনপিতে কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে যে, মহাসচিব ২০ দলকে অকার্যকর করতে চান। বিএনপিকে নিয়ে তিনি যুক্তফ্রন্টসহ মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে জোট করতে চান। জামাত আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ করেছে যে, বিএনপি মহাসচিব জামাত বিদ্বেষী মির্জা ফখরুলের সঙ্গে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেনের সম্পর্ক নিয়েও বিএনপিতে নানা কানাঘুষা। যেকোনো সময় দল ভাঙ্গতে পারে বলেও অনেকের আশঙ্কা। এরকম পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষমতা খর্ব করা হলো।

শুধু খর্বই নয়, তারেকের নিজস্ব ক্যাডাররা এখন থেকে ফখরুলকে ছায়ার মত আগলে রাখবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, এটা একধরনের নজরবন্দি। কিন্তু মির্জা ফখরুলের উপর এই বিধি-নিষেধ বিএনপির ভাঙনকে ত্বরান্বিত করবে কি না সে প্রশ্ন অনেকের।

বাংলা ইনসাইডার