প্রবাসে আ. লীগ বিরোধী প্রচারণা চলছে

নির্বাচনের আগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রবাসে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এবং বিএনপি। সরকারের মন্ত্রী এমপি তাঁদের স্বজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মিথ্যাচার প্রচার করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যই মূলত: বিএনপি-জামাতের এই সব প্রচারণার ঘাঁটি। যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারণা চলছে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে। তাঁর সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের সন্তানরা। আর যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে বিএনপি-জামাতের যৌথ প্রযোজনায়।

লন্ডনে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে চ্যানেল ফোরকে। এই চ্যানেলের একজন সংবাদকর্মী সাংবাদিকতার রীতি-নীতি না মেনে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীকে আক্রমণাত্মক প্রশ্ন করে বিব্রত করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফরে এই চ্যানেলটি সাংবাদিকতার নীতি সীমা অতিক্রম করে। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন না করেই চ্যানেলটি ভুল সংবাদ পরিবেশন করে।

মূলধারায় গণমাধ্যম ছাড়াও যুক্তরাজ্যে তারেক এবং যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের অর্থায়নে প্রচুর অনলাইন চালু হয়েছে, সেসব নিয়মিতভাবে প্রতিদিন সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণায় লিপ্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মিথ্যাচার করা হয়েছে। এখনো সেখানে জামাত-বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

অতি সম্প্রতি জাতীয় চার নেতার সন্তান,আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাসিমের মেজ ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করা হচ্ছে নিউইয়র্কে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটা কোন ব্যক্তির দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিপোর্ট। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঐ রিপোর্টের মাধ্যমে সরকারের দুর্নীতির মাত্রা বোঝানোর চেষ্টা করেছে। রিপোর্টার একজন জামাত কর্মী।

রিপোর্টে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মেজ ছেলে নাকি বেশকিছু ফ্ল্যাটের মালিক। অথচ বাস্তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তমালের একটি ফ্ল্যাটও নেই। তিনি ২০০৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন। এখন ফিনান্সিয়াল এনালিস্ট হিসেবে চাকরি করছেন। যে এপার্টমেন্ট হাউজ নিয়ে বিতর্ক, সেটির মালিকানা একটি কোম্পানির, যে কোম্পানিতে তমাল চাকরি করেন। কোম্পানির চাকরিজীবী হিসেবেই তিনি কোম্পানির পক্ষ থেকে মামলা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন কানুন সম্পর্কে যাঁদের নূন্যতম জ্ঞান আছে, তারা জানে সেখানে এভাবে ফ্ল্যাট কেনা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী পাঁচ হাজারের ডলারের বেশি টাকা থাকলেই তাকে আয়ের উৎস সম্পর্কে লিখিতিভাবে জানাতে হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তমাল নাকি ৫০০ কোটিরও বেশি টাকার মালিক। যুক্তরাষ্ট্রে এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। আসলে টার্গেট তমাল মনসুর নন। টার্গেট হলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। কারণ তিনি ১৪ দলের সমন্বয়ক। জামাত বিরোধী তাঁর অবস্থান সর্বজনবিদিত। এভাবেই আওয়ামী লীগের দুর্নীতির সিল মেরে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বাংলা ইনসাইডার/