নতুন ভাবে চাপ বাড়ছে আওয়ামী লীগে

কোন্দল মিটিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই করাই দলটির মূল চ্যালেঞ্জ দেশের যেসব এলাকায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও কোন্দলে জর্জরিত এবং সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের জনসমর্থনে ঘাটতি রয়েছে সেখানে কোন্দল মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রের চাপ বাড়ছে। কেননা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে এসব আসনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের শঙ্কা রয়েছে। তাই কোন্দল মিটিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবার বিষয়টি গুরম্নত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিগত নির্বাচন ও বর্তমান মাঠ পর্যালোচনা করে ক্ষমতাসীনদের হিসেবে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে প্রায় ৮০টিতে। উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০টি আসনে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী। আওয়ামী লীগের চাইতে বিএনপি সামান্য এগিয়ে আছে এ রকম আসন রয়েছে প্রায় ৩০টি। এছাড়া অভ্যন্ত্মরীণ দলীয় কোন্দলের কারণে প্রায় পঞ্চাশটি আসনে আওয়ামী লীগের এমপিদের অবস্থা নাজুক। তাই প্রায় দেড়শ আসনে কোন্দল নিরসন করে সংগঠন ও দলীয় প্রার্থীদের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করছে আওয়ামী লীগ।

শাসক দলের ভাবনা, দলের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য। অনেক কেন্দ্রীয় নেতা এবার নতুন করে মনোনয়ন পাবেন। জাতীয় নির্বাচনের সময় তারা নিজ এলাকাতে বেশি সময় দেবেন। এছাড়া বর্তমান কমিটির যেসব নেতা এমপি নন, জাতীয় রাজনীতি ও তৃণমূল পর্যায়ে তাদের প্রভাব কম। তাই দুর্বল ও কোন্দলপূর্ণ আসনগুলোতে কেন্দ্রের তদারকির অভাবে নির্বাচনে বিপর্যয় হতে পারে। সেজন্য আগেভাগেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে দলকে। অনেক আসনের এমপি সংগঠন ও এলাকার মানুষের কাছে বিতর্কিত। কিছু এমপি বিতর্কিত হিসেবে জাতীয়ভাবে আলোচিত-সমালোচিত। কিন্তু দলের জন্য সমস্যা হলো অনেক আসনেই এদের বিকল্প শক্ত প্রার্থী নেই। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে দলীয় কোন্দল ও জনপ্রিয়হীনতার কারণে বিরোধীরা সহজে জয় পেতে পারে বলে বিশেস্নষণ আওয়ামী লীগের।

এছাড়া যেসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা রয়েছে সেসব আসনে চার থেকে আট জন শক্তিশালী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে সেসব আসনে কোন্দল-বিভক্তি আরও বাড়ছে। কেউ দলের মনোনয়ন পেলে অন্য প্রার্থীরা তার বিপক্ষে অবস্থান নেবে এবং অনেক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিভক্তির কারণে বিএনপি অথবা বিরোধী প্রার্থীর সঙ্গে লড়াইয়ে জয়লাভ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সূত্র জানায়, বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ছিল মোট ১০৪ জন। যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের। এর মধ্যে এমপি হয়েছেন ১৬ জন। যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয় তাহলে এবার দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় দুইশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একই আসনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ঠিক না রাখতে পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও শঙ্কা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

এদিকে সারাদেশের কোন্দল নিরসনের জন্য যে ১৫টি টিম গঠন করা হয়েছিল, তারা বিভিন্ন জেলা সফর করে অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দলসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে জেলার প্রভাবশালী নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তাই যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা সফর করেছেন তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। এছাড়া ওপরে ওপরে কোন্দল মিটমাটের চেষ্টা করা হলেও নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব দূর হয়নি। তাই ঈদের পর জেলাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর আরও বাড়বে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী সদ্য মেয়র আব্দুল খালেকের নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন। বিগত কুমিলস্না, রংপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, দলের ঐক্য, উন্নয়ন প্রচার ও যোগ্য প্রার্থী না হলে নির্বাচনে জয়লাভ সম্ভব নয়। যে প্রার্থী নিজ গুণে দলের বাইরে দশ শতাংশ ভোট টানতে ব্যর্থ সে প্রার্থী কখনো নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন না। তাই তার ধারণা, আগামী নির্বাচনে দল এমন প্রার্থী বাছাই করবে যাতে দলের ঐক্য ঠিক থাকে, প্রার্থী নিজেও গ্রহণযোগ্য হয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন এবং ভোট টানার যোগ্যতা রয়েছে।

দুর্বল আসনে জয়লাভে আওয়ামী লীগের প্রচেষ্টার বিষয়ে সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান যায়যায়দিনকে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট আসনে খুব বেশি শক্তিশালী বা তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে এ রকম এখন আর নেই। তবে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। আগামীতে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করতে পারবেন এমন প্রার্থী বাছাই করা হবে। এছাড়া যেসব আসনে সংগঠন দুর্বল তা বাছাই করে তারা কাজ করেছেন।

তবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার সমন্বয় করা দলের জন্য চ্যালেঞ্জ মন্ত্মব্য করে এই নেতা বলেন, তাদের প্রচুর সংখ্যক নেতা তৈরি হয়েছে। একেকটি আসনে চার থেকে আটজন শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। যাদের মধ্য থেকে একজন বাছাই করা খুবই কঠিন। তবে একজনকে মনোনয়ন দিলে বাকি সবাই দলের পক্ষ হয়েই কাজ করবেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের এই নীতিনির্ধারক।শাসকদলের হিসেবে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে প্রায় ৮০টিতে। উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০টি আসনে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী। আওয়ামী লীগের চাইতে বিএনপি সামান্য এগিয়ে আছে ।-amardesh247.com