সাকিব-মোস্তাফিজের আইপিএল যেমন কাটল

দল বদল হয়েছিল দুজনেরই। কেকেআর ছেড়ে দেয়ার পর সাকিবকে টেনে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর হায়দরাবাদ ছেড়ে দেয়ায় মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। দল বদলালেও অবশ্য গুরুত্ব বদলায়নি দুই টাইগার তারকার। যদিও সাকিব সেটা ধরে রাখতে পারলেও ফিজ পারেননি। টুর্নামেন্টের শেষ অবধি তাই আইপিএলের ১১তম আসরে দুজনের অভিজ্ঞতা দুরকম।

সাকিব আস্থার প্রতিদান দিয়ে খেলে ফেলেন হায়দরাবাদের সবকটি ম্যাচই। ব্যাটে আক্ষেপ থাকলেও বলে সেটি পুষিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন। দল চ্যাম্পিয়ন না হলেও তার অবদান ছিল পারফরম্যান্সে।

অন্যদিকে শুরুতে টানা ছয় ম্যাচ খেলার পর মুম্বাইয়ের একাদশ থেকে ছিটকে যান মোস্তাফিজ। প্রত্যাশা মেটাতে না পারার জেরে দীর্ঘ বিরতি। টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচে ডাক পেলেন যদিও, থাকলেন নিজের ছায়া হয়েই। তারকা ঠাসা ইন্ডিয়ান্সরাও প্লে-অফে আসতে পারেনি এবার।

মুম্বাইয়ের ১৪ ম্যাচে ঠিক অর্ধেক খেলার সুযোগ পেয়েছেন মোস্তাফিজ। ৭ ম্যাচে এই বাঁহাতি পেসারের সংগ্রহ ৭ উইকেট। করেছেন মোট ২৭.৩ ওভার। ৩২.৮৫ গড়ে সেরা ২৪ রানে ৩ উইকেট। ইকোনমি আটের উপর, ৮.৩৬!

শুরুটা আস্থা নিয়েই হয়েছিল মোস্তাফিজের। প্রথম কয়েক ম্যাচে স্পেলের শুরুর ওভারগুলো দুর্দান্ত করেছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচগুলোতেই আবার শেষের দিকে ডাক পেয়ে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। রান ডিফেন্ডের সময় ১৯তম বা ২০তম ওভার করতে এসে দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। তাতে অবশ্য প্রতিপক্ষের কৃতিত্বের সঙ্গে ছিল মোস্তাফিজের সতীর্থ বোলারদের ব্যর্থতাও। বুমরাহ-পান্ডিয়ারা মোস্তফিজের আগের ওভারগুলোতে বেশি রান দিয়ে চাপ বাড়িয়ে গেছেন, পরে ফিজের ওপর চড়াও চয়ে ম্যাচ হাত করে নিয়েছে প্রতিপক্ষ।

সাকিবের ব্যাপারটি সেখানে পুরো উল্টো। দলের ১৭ ম্যাচের সবকটিই খেলেছেন। উইকেট ১৪টি। করেছেন ৫৭ ওভার। সেরা ১৮ রানে ২ উইকেট। ইকোনোমি ৭.৮৭! বলে প্রয়োজনের মুহূর্তে উইকেট তুলে নিয়েছেন প্রায় ম্যাচেই। ব্রেক-থ্রু আনার সময়গুলো ছিল পাওয়ার প্লের ওভারগুলোতেই। দরকার হলেই অধিনায়ক উইলিয়ামসন বল তুলে দিয়েছেন সাকিবের হাতে। ফাইনালের মঞ্চে যদিও জ্বলে উঠতে পারেননি।

ব্যাটে সময়টা ভালো কাটেনি সাকিবের। ত্রিশের আশেপাশে কিছু ইনিংস খেলেছেন। দলের জয়েও ভূমিকা ছিল সেগুলোর। কিন্তু আগের দল কেকেআরে ব্যাটিংয়ে যে গুরুত্বটা পাননি সাকিব, হায়দরাবাদে সেটাই পেয়েছেন। টপ-মিডলঅর্ডারে নিয়মিত নামার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু দলের চাওয়ার বড় ইনিংস আনতে পারেননি। টুর্নামেন্ট শেষ করলেন ২৩৯ রানে। ২১.৭২ গড়ে সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৫; স্ট্রাইকরেট ১২১.৩১ টি-টুয়েন্টির সঙ্গে কমই চলনসই! সেখানে ২৬ চারের সঙ্গে ছক্কার হাঁকিয়েছেন কেবল মাত্র ৫টি।

এবারের আইপিএলে সর্বোচ্চ রান আবার সাকিবের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের, ১৭ ম্যাচে ৫২.৫০ গড়ে ৭৩৫। দিল্লির রিশভ পান্ট ১৪ ম্যাচে ৬৮৪ নিয়ে দুইয়ে, তিনে পাঞ্জাবের লোকেশ রাহুল ৬৫৯ রান নিয়ে, খেলেছেন ১৪ ম্যাচ।

পাঞ্জাবের অ্যান্ড্রু টাই ১৪ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ শিকারি। ১৭ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে সাকিবের সতীর্থ লেগস্পিনার রশিদ খান দুইয়ে। তার আরের সতীর্থ সিদ্ধার্থ কাউল সমান ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়েছেন।চ্যানেল আই