যে কারণে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়নি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনের ভারত সফর শেষ করে গতরাতে দেশে ফিরেছেন। ভারত সফরে তিনি সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, একান্ত বৈঠক করেছেন। কিন্তু এসব বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। দেশের প্রধান বিরোধী দল বলছে, ‘তিস্তার সমস্যার সমাধান না করতে পারা সরকারের ব্যর্থতা। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির এক চিত্র। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তিস্তার পানিচুক্তি না করতে পারা সরকারের ব্যর্থতা।’ তবে বিরোধী দলের এসব অভিযোগকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে। দিনক্ষণ দিয়ে এসব চুক্তি হয় না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘অন্যান্য সমস্যা যেভাবে সমাধান হয়েছে, তিস্তা সমস্যাও তেমনি সমাধান হবে।’ তবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মূলত ৫টি কারণে এবার বাংলাদেশ ভারত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনাই করেনি। এই কারণগুলো হলো:

১. এবারের সফর ছিল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। এই সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেছেন। আসানসোলে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি দিয়েছে। এরকম একটি সাংস্কৃতিক মধুর পরিবেশে বাংলাদেশ তিস্তার ইস্যু আনতে চায়নি। শুক্রবার শান্তিনিকেতনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সমস্যার কথা বলে এই চমৎকার পরিবেশ নষ্ট করতে চাইনা।’ প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতা ভারত অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখছে।

২. ক’দিন আগেই লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়। ঐ বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তিস্তার চুক্তির জন্য তিনি কাজ করছেন। এজন্য তাঁর সময় প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দুইমাসের মধ্যে নতুন করে বিষয়টি আনতে চাননি।

৩. ভারতে এখন বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র মতবিরোধ। এই অবস্থায় তিস্তা চুক্তি উত্থাপনে বাংলাদেশের ক্ষতি ছাড়া লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

৪. তিস্তা পানি প্রবাহ নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের জরিপ কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী জুন নাগাদ এই কমিটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে রিপোর্ট দেবে। সে পর্যন্ত এ আলোচনা অর্থহীন।

৫. এখন বর্ষাকাল। তিস্তায় পানির স্রোত। মূলত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে তিস্তায় পানি সংকট সৃষ্টি হয়। আবার এখন চুক্তি হলে ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই চুক্তির আবেদন ফিঁকে হয়ে যাবে। অথচ অক্টোবর-নভেম্বরে যদি এই চুক্তি হয় তাহলে নির্বাচনে তা আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক ফল আনবে।

বাংলা ইনসাইডার/