বৃদ্ধাশ্রমেই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মৃত্যু, দেখতে আসেনি কোনো সন্তানও

বৃদ্ধাশ্রমেই মৃত্যু হয়েছে জনপ্রিয় বলিউড ছবি ‘পাকিজা’ খ্যাত অভিনেত্রী গীতা কাপুরের। তবে দুঃখজনক হচ্ছে, তার মৃত্যুর খবর পেয়েও শেষ দেখা দেখতে আসেনি তার কোনো সন্তান।

প্রযোজক অশোক পন্ডিতের জবানিতে গীতা কাপুরের মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ভাষ্য: ২৬ মে সকাল নয়টার দিকে মুম্বাইয়ের এসআরভি বৃদ্ধাশ্রমের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দাপুটে অভিনেত্রী গীতা কাপুর।

প্রযোজক অশোক পন্ডিতের ভাষ্যমতে, গীতাজি শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারিনি। গেল বছর পুরোটাই তিনি তার সন্তানদের মুখ দেখতে অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু গীতাজির সাথে সাক্ষাৎ করতে কেউ আসেনি। গেল শনিবারেও তিনি সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। তাকে ঘিরে আমরা গ্র‌্যান্ড ব্র‌্যাক ফাস্টেরও আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি ছিলেন অসুখী একজন মানুষ। মৃত্যুর আগেও তিনি তার সন্তানদের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে তার। শনিবার সকাল ৯টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন তিনি।

শতাধিক বলিউডের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন গীতা কাপুর। তবে কমল আম্রোহির ‘পাকিজা’ ছবিতে রাজকুমারের দ্বিতীয় স্ত্রীর চরিত্রের জন্য তিনি বেশি প্রশংসিত।

জানা যায়, গীতা কাপুরের ছেলের নাম রাজা। যিনি কোরিওগ্রাফার হিসেবে বেশ পরিচিতি। আর মেয়ে পূজা এয়ার হোস্টেস। গেল বছরে মাকে মুম্বাইয়ের রাস্তায় রেখে পালিয়ে যান রাজা। এরপর থেকেই সিবিএফসি-এর সদস্য অশোক পন্ডিত এবং নির্মাতা রমেশ তুরানি এই অভিনেত্রীকে উদ্ধার করে বৃদ্ধাশ্রমে ভর্তি করান। সেখানের নিয়মিত সব মূল্যও পরিশোধ করতেন তারা। নিয়মিত এই অভিনেত্রীকে দেখা শোনা করতেন। কিন্তু মাকে রেখে পালিয়ে যাওয়ার পর আর কখনোই দেখতে আসেননি রাজা।

মৃত্যুর আগে গীতা কাপুর জানিয়েছিলেন, ছেলে রাজা প্রায় তাকে মারতেন। দিনের পর দিন তাকে অনাহারে রাখতেন।

এখন পর্যন্ত মায়ের মৃতদেহ দেখতে আসেননি কোনো সন্তান। তবে তাদের জন্য আরো দুইদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অশোক পন্ডিত ও রমেশ তুরানি। এই দুইদিন মৃতদেহ রাখা হবে কোপার হসপিটালে। এরপর আগামি সোমবার গীতা কাপুরের শেষ কৃত্যানুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছেন তারা।