মেহমানদারির উত্তম আদব

ইসলাম সামাজিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতির ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসের অনেক তাগিদ দেয়া হয়েছে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা না করার ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। ইসলাম সব কিছুর আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে। দিয়েছে মেহমানদারির উত্তম আদব শিক্ষা। জাগো নিউজে তা তুলে ধরা হলো-

মেহমানদারিতে রয়েছে দুটি বিষয়- একটি হচ্ছে- দাওয়াতকারী তথা মেজবান, অপরটি হচ্ছে দাওয়াত গ্রহণকারী বা মেহমান। উভয়ের রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয়-

দাওয়াতগ্রহণকারীর করণীয়ঃ ক. সমস্যা না থাকলে দাওয়াত কবুল করা । খ. ধনী-গরিব সবার দাওয়াতকেই সম্মান করা । গ. খাবারের কোনো মেনু ঠিক না করা। তবে নির্দেশনা থাকলে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজসাধ্য মেনু নির্বাচন করা উত্তম। ঘ. দাওয়াতী ব্যক্তি অতিরিক্ত কাউকে সঙ্গে না নেয়া ।

ঙ.সন্তুষ্টচিত্তে খাবার গ্রহণ করা । চ. খাবারের স্বাদ ও আয়োজনের প্রশংসা করা। ছ. খাবার শেষে দাওয়াতদানকারীর জন্য দোয়া করা। জ. যথা সময়ে দাওয়াতে উপস্থিত হওয়া। ঝ. সামর্থ্য থাকলে হাদিয়া নেয়া। ঞ. উপঢৌকন দেয়ার ভয়ে বা লজ্জায় দাওয়াত বর্জন না করা । ঞ. ফিতনার আশংকা থাকলে পুরুষশূন্য বাড়িতে একা না যাওয়া । ত. দাওয়াতে গিয়ে একাধারে তিন দিনের বেশি না থাকা

দাওয়াতকারীর করণীয়ঃ ক. লোক দেখানোর জন্য নয়, সুন্নাতের নিয়্যাতে দাওয়াত দেয়া এবং দাওয়াতে আন্তরিকতা থাকা । খ. মেহমানকে খাবার দিতে দেরি না করে আসার সঙ্গে সঙ্গে কম-বেশি আপ্যায়ন করা। গ. খাবার ব্যাপারে প্রশ্ন না করে খাবার পরিবেশন করা। ঘ. প্রথমে হালকা খাবার ও পরে ভারি খাবার পরিবেশ করা। কারণ জান্নাতে প্রথমে মুমিন বান্দাকে ফল ও পরে ভারী খাবার পরিবেশনের দিক-নির্দেশনা রয়েছে।

ঙ. হকদার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশি হলে তাদের যথাযথ আপ্যায়ন, খেদমত করা । চ. আপ্যায়ন শেষে বিদায়কালীন সময়ে মেহমানকে সামনে এগিয়ে দিয়ে আসা সুন্নাত। । ছ. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে সে যেন মেহমানকে সম্মান করে, তাকে ‘জাইযা’ দেয়। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘জাইযা’ কী? তিনি বললেন, এক দিন ও এক রাতের সম্বল সাথে দিয়ে দেয়া।

পরিশেষেঃ মেহনমানদারি মানবীয় গুণাবলির মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে সুন্নাতের ওপর আমল করে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে নিই। আল্লাহ নৈকট্য অর্জনে এগিয়ে যাই। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদিকে সমাজে দাওয়াতের উত্তম পন্থা চালু করার তাওফিক দান করুন। আমিন।