এই একটি কারণেই জামিন হচ্ছে না খালেদা জিয়ার

নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ।হাইকোর্টে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।মুওদুদ আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই বেগম জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তাঁর জনপ্রিয়তার করণে মিথ্যা মামলায় আজ তিনি জেলে। আজকের মতো শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেছে আদালত। আজ রোববার এ মামলায় জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেন আদালত

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার সামাজিক অবস্থান এবং বয়সের কথা বিবেচনা করে মাননীয় আদালত তাঁকে জামিন দিবেন বলে আমরা আশাবাদী।
শুনানি চলাকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বুক পেপারের বিষয়ে যে কথা বলেছেন তা অপ্রাসঙ্গিক। এসময় বুক পেপারের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, হাইকোর্ট কম সাজার বিষয়টি উল্লেখ্য করে জামিন দিয়েছেন, কিন্তু দণ্ড দেয়ার পর জামিনের জন্য কম সাজার বিষয়টি বিবেচনায় আসবে না। তিনি মাত্র ৩ মাস হলো বন্দি রয়েছেন। বন্দির সময়টা যদি দুই বা আড়াই বছর হয় তবে জামিনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে।

বয়স ও অসুস্থতা নিয়ে খুরশিদ আলম বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত হলে জামিনের জন্য বয়সটা বিবেচনায় আসবে না। আর অসুস্থতার বিষয়টি জেলকোট অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে তিনি বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া। কিন্তু একই মামলায় তাঁকে কম সাজা আর বাকীদের বেশি সাজার বৈষম্য করা হয়েছে। হয় সবাইকে ৫ বছর অথবা সবাইকে ১০ বছর সাজা দেয়া উচিত।’

খালেদা জিয়া কি আজ জামিন পাবেন?

কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে করা দুইটি এবং নড়াইলে করা মানহানির মামলাসহ তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন হাইকোর্টের আজকের কার্যতালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের কার্যতালিকার ক্রমানুসারে মামলা তিনটি এক থেকে তিন নম্বরে রয়েছে।কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়।

আজ রোববার এ মামলায় জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেন আদালত। কুমিল্লায় নাশকতার অপর মামলা এবং নড়াইলে মানহানির মামলার শুনানি হবে আজ।কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগের মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর গত বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নড়াইলের মানহানির মামলায় করা জামিন আবেদনের শুনানির উদ্যোগ নেন বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ সময় আদালত বলেন, আমরা আগামী রোববার (আজ) তিনটি মামলাতেই একসাথে শুনানি শেষে আদেশ দেবো।

ওই দিন (বৃহস্পতিবার) আদালত থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদিনও বলেছেন, আদালত তিনটি জামিন আবেদনই রোববারের কার্যতালিকায় আদেশের জন্য রাখবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুনানি তো হবেই। অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানির প্রয়োজন না থাকলেও তো শুনানি করেন।অন্য দিকে একই দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বাসে অগ্নিসংযোগের মামলার শুনানি শেষ হয়েছে।

আরো দুইটি মামলায় করা জামিন আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। একটি নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং অপরটি মানহানির মামলা যে মামলায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তিনটি মামলা আগামী রোববার অর্থাৎ আজ কার্যতালিকায় থাকবে। অন্য মামলাগুলোর ব্যাপারে বক্তব্য শুনে আদালত আদেশ দেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সবগুলো মামলার আদেশ আদালত একসাথে দেবেন। দুইটি মামলার শুনানি তো হয়নি। সে কারণে শুনানি করে তারপর আদেশ দেবেন।

গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করেন। এখন কুমিল্লার নাশকতার মামলা ও নড়াইলে মানহানির মামলায় শুনানি শেষ হলে আদালত জামিন বিষয়ে আদেশ দেবেন। এ ছাড়া ২৮ মে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে মানহানি এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে করা দুইটি মামলায় খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর হাইকোর্টে অন্য একটি বেঞ্চে শুনানি হবে।

গত ২২ মে আদালতের অনুমতি নিয়ে জামিন আবেদন দায়ের করার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ দুই মামলার শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

কুমিল্লার মামলা : ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।

নড়াইলে মানহানি মামলা : ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২-এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি জামিনযোগ্য।