খালেদাকে আটক রাখা পাকিস্তানি মানসিকতার স্মরণ করায় : বি. চৌধুরী

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন অজুহাতে আটক রাখা পাকিস্তানী এবং ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতাকে স্মরণ করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর বিকল্পধারা আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।

বি. চৌধুরী বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সব বাধা দূর করার জন্য প্রথমে প্রয়োজন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল ক্ষেত্রভূমি। এই জায়গায় যদি বিভিন্ন ধরনের বাধা থাকে তা হলে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে না। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন নির্বাচনকালীন সময়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি সরকার এবং প্রমাণিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে যাতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা তাদের পদমর্যাদার সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে না পারেন।

বি. চৌধুরী আরও বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকার নিজেদের গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়বিশ্বাসী বলে বার বার ঘোষণা করছেন, সেহেতু প্রধান দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপরই বর্তায়। হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক রাখলে নির্বাচনে সমতল ক্ষেত্র ভূমি কখনো তৈরি হবে না।সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদক এবং অন্যান্য অজুহাতে কারা নিহত হচ্ছেন আমরা তা জানি না। তাদের নাম-পরিচয় জানি না। দাবি উঠেছে এরা রাজনৈতিক কর্মী। যদি বিভিন্ন অজুহাতে রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা ও জেলে আটক রাখা হয় এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর কর্মীদের হাতে ময়দান ছেড়ে দেওয়া হয়, তা হলে সেটা নির্বাচনের জন্য সমতল ক্ষেত্র ভূমি হলো না।

এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায়কে অমান্য ও উপেক্ষা করে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন অজুহাতে আটক রাখা পাকিস্তানী এবং ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতা অর্থ্যাৎ ‘বিরোধী দলনে’র স্মৃতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে সরকারকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতেই হবে, যদি তারা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন এবং সেটাই হবে অভিপ্রেত গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত।’

‘বিগত কয়েক বছরের শাসনের ফলে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলের ভিতরে দ্বন্দ্ব ও হিংসার জন্ম হওয়ায় একদিকে সরকার, রাজনৈতিক কর্মীবৃন্দ নির্বাচনউত্তর প্রতিহিংসার ভয়ে ভীত (যদি সরকারি দল পরাজিত হয়), অন্যদিকে বিএনপির কর্মীবৃন্দ যদি সরকারি দল বিজয়ী হয় তা হলে তাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে একইভাবে শঙ্কিত। উপরন্তু, সাধারণ ভোটাররা কোনদিকে ভোট দিয়ে নিরাপদ থাকবেন এ ব্যাপারে তারাও শঙ্কিত।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘যদি দেশের মানুষ সত্যিকারের বিপদের আশঙ্কাকে উপলব্ধি করতে পারেন এবং দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে পারেন শুধুমাত্র তাহলেই এই আশঙ্কাজনক ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিত্র বদলে যেতে পারে।’এ সময় বি. চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমি বিকল্পধারা, যুক্তফ্রন্ট এবং আমাদের বন্ধু জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের মূল বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলছি, আমরা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করবো এবং সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন সুনিশ্চিত করবো, ইনশাল্লাহ্। দেশের বুদ্ধীজীবীসহ সকল মানুষের প্রতি আমাদের আহ্বান তারা যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন।’

‘গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন আমাদের সাথে একসঙ্গে কাজ করার কথা ঘোষণা করেছেন, আমি তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরোধী কিন্তু বিনাবিচারে হত্যা সমর্থন করি না। খুলনার নিরবাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। কিন্তু গাজীপুরে এমন কিছু করার চেষ্টা করলে যুদ্ধ বেধে যাবে।’ঢাকা মহানগর উত্তর বিকল্পধারার সভাপতি মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতা, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, মাহফুজুর রহমান, শাহ আহম্মেদ বাদল, আসাদুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।

newsforbd