টিউশনি ছেড়েছি অনেকদিন, সেই ছাত্রীকে আজও ভয়!

ডা. এইচ আর হাবিব : টিউশনি ছেড়েছি অনেকদিন হল। কিন্তু মায়া ছাড়েনি কিছু জায়গা। দাওয়াত ছাড়া সাধারণত স্টুডেন্টের বাসায় যাই না। তবে আজকে ইফতারের পর যাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা। একটি লেউড়ি কুকুর আমার পিছু নিল। ইফতার শেষে হাঁটতে হাঁটতে স্টুডেন্টের বাসার গেটে পৌঁছলাম। কলিং বেল চাপতেই আমার স্টুডেন্ট বের হয়ে আসলো।

-আল্লাহ্! ভাইয়া আপনি! এতদিন পর কোথা থেকে। আম্মু আম্মু ভাইয়া আসছে, গেটের চাবি দাও তাড়াতাড়ি।

রুমে ঢুকতেই আন্টি বললেন- কি বাবা এতদিন পর আমাদের কথা মনে পড়লো, আসছো অনেক খুশি হয়েছি, খেয়ে যাবা রাতে।

মনে মনে ভাবছি, আহ্ এটা আবার বলতে হয় নাকি, আমিতো খাওয়ার জন্যই এসেছি।

পৃথিবীতে কিছু ভাল মানুষের খোঁজ করছি, এই মহিলাকে আমার লিস্টে রাখার চিন্তাভাবনা আছে।

-স্টুডেন্ট তার হাতদুটো সামনে নিয়ে ঢংগী হয়ে একেবেকে বললো -আমাকে কেমন লাগছে ভাইয়া।

-এই তুমি যাওতো (আমি)

আমার এই স্টুডেন্টকে দেখলে আমার প্রচণ্ড ভয় লাগে। অবাক হচ্ছেন! আমার এই স্টুডেন্ট প্রচণ্ড জেদি। ও যদি বলে হ্যাঁ তো হ্যাঁ, যদি বলে না তো না।

একদিন টিউশনিতে পড়া না পারায় ওকে বেশ কিছুক্ষণ পিটিয়েছিলাম। আমি অবাক হয়েছিলাম যে, আমি এতো মারছি তবুও এই মেয়েটি কিছু বলছে না কেন। অনেক্ষন চুপচাপ থাকার পর মেয়েটি চেয়ার থেকে দাঁড়ালো। আস্তে করে আমার হাতটি তার মুখে পুড়ে নিল। কি কামড় রে বাবা। আন্টি আমি কেউ তার মুখ থেকে আমার হাত ছাড়াতে পারছিলাম না। এই কামড়ের কথা আজও ভুলি নাই।

-আন্টি আমার জন্য খাবার নিয়ে এসেছে। আহ্ কি খাদ্যের ঘ্রাণ। দুই হাতের তালুতে খুশিতে ঘষা দিলাম।

-আমার ছাত্রী আবার ঢং করার জন্য আসছে। কি ভাইয়া আপুকে ডাকবো।

-এই তুমি যাওতো। কখন যে মেয়েটি কামড় দিয়ে মাংস তুলে নিয়ে বলবে, আম্মু আম্মু এইযে মাংস এনেছি, নাও নাও ফ্রিজে রেখে দাও।

-এই তুমিকি এখনো কামড়াকামড়ি করো?

-হুম করি, তবে অন্য কিছু কামড়াই

-ইংগিত খারাপ। এই তুমি যাওতো। হুহ্

খেতে খেতে নীলাকে একবার দেখলাম। মেয়েটি আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছে। আমাকে দেখেই ফ্লোরে এক পায়ে লাথি দিয়ে মুখ ভেংচি দিয়ে চলে গেল। মেয়েটির মধ্যে অনেক রহস্য রয়েছে। সময় পেলে সে রহস্য উদঘাটন করে ফেলবো।

এখন মাথায় অন্য ভাবনা ভাবতে হবে। আমার সাথে যে লেউড়ি কুকুরটা এসেছে সে কি এখনো বাইরে দাড়িয়ে আছে? যদি থাকে, যাওয়ার সময় তাকে একটি রুটি কিনে দেব।

খাওয়া শেষে সবার কাছে বিদায় নিয়ে বের হলাম। কেন জানি শেষবারে নীলাকে খুব দেখতে ইচ্ছো হল। এই মেয়েটি আমাকে একবার চিঠি লিখেছিল “আপনার সাথে আমি শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাত ধরে হাঁটতে চাই”

কুকরটা কুই কুই শব্দ করে আমার সামনে সামনে হাঁটছে। হয়তো সে গলির ভেতরের পথ দেখানোর চেষ্টা করছে। টংগের একটা দোকান থেকে তাকে রুটি কিনে দিলাম। এখন আর সে আসছে না।

জুতা নিয়ে খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার পাশের এক ঝুপড়ি ঘরের পাশে মহিলাকে দেখলাম শিষ শিষ শব্দ করতে। কাছে গিয়ে বললাম – আপনি ছাগল বাইরে বের করে শিষ শিষ শব্দ করছেন কেন। প্রস্রাব করাচ্ছি (মহিলা)

-বলেন কি! এভাবে সে করবে?

– হুম করবে, এভাবেই তো করাই রাইতের বেলা।

-আমার বিশ্বাস হয় না।

-আপনি বিশ্বাস করলে কি না করলে কি।

ও আচ্ছা, আপনি করানতো। বাজি ধরবেন? আচ্ছা কত? ৫০ টাকা দিয়েন। নাহ্ ২০ টাকা দেব। আচ্ছা

মহিলা শিষ শিষ শব্দ করা শুরু করলো। সাথে আমিও শিষ শিষ শব্দ করছি। এই আপনে কইরেন না, আপনে করলে হবে না। ছোটবেলায় আমার আম্মু আমাকে নাকি এই শব্দ করে মূত্র বিসর্জন করাতেন। আর এই মহিলা ছাগল মুতাবেন! কি আশ্চর্য!

মহিলা আরো ২-৩ বার শিষ শিষ বলার পর ছাগল প্রস্রাব করে দিল।

ঘটনা খারাপ। পকেটে মাত্র ২০ টাকাই আছে। হল পর্যন্ত আমাকে যেতে হবে। হাতের জুতা পায়ে পড়ে খিচ্চা একটা দৌড় দিলাম।

মহিলার চিল্লানি- এই শাকিবের আব্বা শাকিবের আব্বা আমার ২০ টেকা নিয়া গেল।
অটোতে উঠে ২০ টাকার নোটটাতে ফ্লাইং কিস করলাম। আহ্ কি বাঁচাটাই না বেঁচে গেলাম।

লেখক : ডা. এইচ আর হাবিব

ভেট ডক্টর

উৎসঃ ক্যাম্পাসলাইভ২৪