সালাহউদ্দিনের শুধুই অপেক্ষা >> ভারত থেকে বললেন, দেশে ফেরার প্রহর গুনছি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার ভারতে অবস্থানের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে ১০ মে। দীর্ঘ এই সময় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন শিলংয়ে নির্বাসিত এই বিএনপি নেতা। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা হয় সাবেক এই যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর। তিনি জানালেন, ‘প্রতি মুহূর্তে আমি দেশে ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনছি। এখানে কিছু আইনি জটিলতায় আটকে আছি। এগুলোর পাট চুকিয়ে দ্রুতই দেশে ফিরতে চাই। দেশে গিয়েও আমাকে আবার বেশকিছু মামলার মোকাবিলা করতে হবে।’ মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে ২০১৫ সালের ১১ মে সকালে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তার ঠিক দুই মাস আগে ১০ মার্চ ঢাকায় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন বিএনপির ওই সময়কার যুগ্মমহাসচিব।

শিলং থেকে ফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে শিলংয়ে ফরেনার্স অ্যাক্টে দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ পর্যায়ে। ছয় মাস ধরে এটি ঝুলে আছে। আশা করি, সামনের মাসেই যুক্তিতর্ক শেষ হবে। এর পরই রায় হবে। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব। কারণ, ভারতের আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে কোনো কারণে রায় নেতিবাচক হলে উচ্চ আদালদের দ্বারস্থ হব। এখানে মামলা জটিলতা শেষ করে যে কোনো মুহূর্তে আমি দেশে ফিরতে প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘জাজমেন্টটা হয়ে গেলে বুঝতে পারতাম কখন দেশে ফিরতে পারব। সাজা হবে, নাকি খালাস পেয়ে যাব। ছাড়া পেলেও তার পর তো সরকারি পর্যায়ে রিপোর্ট করার দায়িত্ব থাকে। এসব নিয়েও বেশ কিছুটা সময় যাবে। কিন্তু আমি চাইছি যত দ্রুত সম্ভব এখানকার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে আমি যেন বাংলাদেশে ফিরতে পারি।’ সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি যে স্বেচ্ছায় ভারতে আসিনি— এটা প্রমাণ করে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যেতে চাই।’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ লিঙ্ক এলাকায় খোঁজ মেলে সালাহউদ্দিনের। ভারতে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরার সময় সেখানকার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে।

মিমহ্যানস, সিভিল হাসপাতাল ও নেগ্রিমস হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। এর মধ্যে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’-এ দায়ের করা মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মেঘালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। চার্জশিটে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। শিলংয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। মামলার চার্জশিট হওয়ার আগে থেকেই মামলার কার্যক্রম চালানোর জন্য আইনজীবী এসপি মোহান্তকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আইনগত দিকগুলো দেখছেন।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন