সেনা বাহিনী জোর করে ক্ষমতায় আসলে সেটা হয় সেনা স্বৈরাচার আর শেখ হাসিনা ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসে হয়েছেন মহিলা স্বৈরাচার: কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল সখিপুরে এক কর্মী সমাবেশে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার বক্তৃতায় বলেন, সেনা বাহেনী জোর করে ক্ষমতায় আসলে সেটা হয় সেনা স্বৈরাচার। আর শেখ হাসিনা ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসে হয়েছেন মহিলা স্বৈরাচার।কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে এ জাতির গর্ব করার কথা, সেখানে সেখ হাসিনা এখন জাতির জন্য লজ্জা। তিনি বলেন মানুষের মৃত্যুর পরে আল্লাহতালা যদি কারো জবান খুলে দিতেন,তাহলে শেখ হাসিনার মত কন্যা সন্তান জন্ম দেবার অপরাধে বঙ্গবন্ধু কে এ জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হতো।

শেখ হাসিনাকে উদ্যেশ্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন,শেখ হাসিনা করছে অন্যায়,প্রশাসন করছে অত্যাচার, আর হাসিনার গৃহপালিত আদালত প্রতিনিয়ত করে চলেছে অবিচার। তিনি আরো বলেন, এমন কিছু করবেন না যাতে করে বাংলাদেশে আরো একটি ১৫ই আগষ্ট এর জন্ম হয়। আমি চাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে আপনি আপনার এই সৈরাচারী মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অগ্রসর হবেন, এবং এতেই আপনার মঙ্গল।কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, হাবীবুর রহমান খোকা (বীর প্রতিক) হাসমত আলী চেয়ারম্যান, রফিকুল ইসলাম, এ,টি,এম সালেক হিটলু,ছাত্রনেতা সোহেল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কেয়ামত হবে: মঈন ইউ আহমেদ ,বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামীলীগের জন্য রোজ কেয়ামত হবে।যে পরিমান অন্যা অত্যাচার আওয়ামীলীগ করেছে তাতে করে একদিনেই অন্তত ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হবে।চাকরি হারাবে হাজার হাজার সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারি।’ এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ। বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।জেনারেল মঈন ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব। মূলত: তাঁর নেতৃত্বেই ২০০৭ সালে একটি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ২০০৮ এর নির্বাচনের পরও কিছুদিন তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সেনা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এখন সেখানেই নিভৃত জীবন যাপন করছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।

২০১০ সালে তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। অসুস্থ হবার পর তাঁর প্রকাশ্যে চলাফেলা অনেক কমে গেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর কয়েকজন বাঙালির আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। ঘরোয়া আলাপচারিতায় জেনারেল মঈন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন।জেনারেল মঈন মনে করেন, ‘উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং গণতন্ত্রের জন্য আওয়ামী লীগের আরেকবার ক্ষমতায় আসা উচিত।’ স্থানীয় বাঙালিদের তিনি বলেছেন,‘তাহলে দেশে একটি স্থিতি আসবে।

তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশ একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তাঁর বাস্তবায়নের জন্য ৫ বছর যথেষ্ট সময় নয়।’ বার বার ক্ষমতার পালাবদল উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে বলেও জেনারেল মঈন মনে করেন।তাঁর মতে, এই মুহূর্তে বিএনপি ক্ষমতায় যেয়ে কী করবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। বেগম জিয়া এবং তাঁর ছেলে এখন প্রচণ্ড প্রতিহিংসা ও আবেগ প্রবণ হয়ে আছেন।এই মুহূর্তে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ২০০৭ সাল থেকে নিয়ে বিএনপি যদি প্রতিশোধ গ্রহণ শুরু করে তাহলে দেশে অরাজকতা দেখা দেবে।

জেনারেল মঈন মনে করেন, একটা দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতিও কমে। কারণ তাদের পেট ভরে গেছে। আর বিএনপির এখন দশ বছরের ক্ষুধা। এখন ক্ষমতায় এলে বিএনপি ২০০১ এর চেয়ে ভয়ংকর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়বে।জেনারেল মঈন অবশ্য মনে করেন, আওয়ামী লীগ তাঁর জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। এর প্রধান কারণ তাঁর মতে জনগণের মানসিকতা। বাংলাদেশের জনগণ সবসময় ক্ষমতাসীনদের অপছন্দ করে। সবসময় পরিবর্তন চায়। ভালো-মন্দ বিবেচনার চেয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবেগ বেশি কাজ করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

sonarbangla24.net