ম্যাচ শেষে সাকিবের প্রশংসায় যা বললেন জহির খান

আইপিএলের ২য় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয় সাকিবের হায়দ্রাবাদ এবং কলকাতা। সেই ম্যাচে ব্যাট এবং বল হাতে বেশ উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে করেছিলেন ২৪ বলে ২৮ রান এবং বল হাতে নিয়েছিলেন ১টি উইকেট।সেই পুরশকার হিসেবে সাকিব জিতে নেনে স্টাইলিশ প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ। তৃতীয় উইকেটে ঋদ্ধিমান সাহাকে নিয়ে সাকিব আল হাসান যোগ করেন ২৪ রান। পিযূষ চাওলার বলে ঋদ্ধিমান সাহা স্টাম্পিং হলে এ জুটি ভাঙে। এরপর দীপক হুদাকে নিয়ে সাকিব আল হাসান গড়েন ২৯ রানের জুটি। ৪ চারে সাজানো ২৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে রান আউট হন সাকিব।

ম্যাচ শেষে তাই দারুণ প্রশংসিত সাকিব। সাবেক ভারতীয় পেসার জহির খান তার সম্পর্কে জানান, ‘হায়দ্রাবাদকে সেই স্পিনাররাই কিন্তু ম্যাচে ফিরিয়েছে। সাকিব ও রশিদ কলকাতাকে বিপদে ফেলেছে। সাকিবের নেয়া দিনেশ কার্তিকের উইকেটটি বড় আঘাত ছিল কলকাতার জন্য। এরপরেই দ্রুত তিন উইকেটের পতন ঘটে।’তবে তিনি মনে করেন সাকিবকে পাওয়ার প্লে তেও ব্যবহার করা যেতো। ‘এক পর্যায়ে মনে হয়েছে হায়দ্রাবাদ ট্যাকটিকালি ভুল করেছে।

কলকাতা যখন দ্রুত রান তুলছিল, তখন তাদের ম্যাচের গতি পরিবর্তন করা দরকার ছিল।‘একজন স্পিনারকে বল দেয়া দরকার ছিল। সাকিব পাওয়ারপ্লেতে বল করে অভ্যস্ত। দিন শেষে দেখা গেল সাকিব মাত্র তিন ওভার বল করেছে, বাকি এক ওভারে পাওয়ারপ্লেতে ব্যবহার করা যেত।’

দুর্দান্ত জয়ের পর যা বললেন সাকিব>শুরুতে নারিন-লিনের জুটিতে ছোট একটা ধাক্কা। তারপর মাঝখানে দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরা। শেষ পর্যন্ত ১৩ রানের জয়ে ফাইনাল। সাকিব বলছেন, ঠিকঠাকভাবে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারার কারণেই এই ম্যাচ জিততে পেরেছে তার দল।কলকাতা এদিন টস জিতে হায়দরাবাদকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। সাত উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে দলটি। জবাব দিতে নেমে শাহরুখ খানের দল ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রানে থেমে যায়। সাকিব আল হাসান ২৮ রান করার পাশাপাশি তিন ওভারে ১৬ রান দিয়ে এক উইকেট নেন।

মাঠ ছাড়ার সময় টিভি উপস্থাপককে সাকিব বলেন,‘আমরা জানতাম শেষ দুই-তিন ওভারে ম্যাচ হেরে যেতে পারি। সেটা হয়নি কারণ অন্যদিনের অভিজ্ঞতা আমরা এদিন কাজে লাগাতে পেরেছি।’শুধু দলীয় অভিজ্ঞতা নয়, সাকিব নিজেও আইপিএলে অন্যতম সেরা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেকেআর অধিনায়ক দিনেশ কার্তিককে যেভাবে আর্মবলে বোল্ড করেন, তা ছিল দেখার মতো। সাকিব এই নিয়ে তৃতীয়বার আইপিএলের ফাইনাল খেলবেন।

‘আমি তৃতীয়বার আইপিএলের ফাইনাল খেলতে যাচ্ছি। ফ্রাঞ্চাইজিকে ধন্যবাদ আমাকে প্রত্যেক ম্যাচে সুযোগ দেয়ার জন্য,’ বলছিলেন সাকিব।রান তাড়া করতে নেমে সুনিল নারিন আর ক্রিস লিন দারুণ শুরু করেন। ৮৭ রানে এক উইকেট থেকে ১১৮ রানে ছয় উইকেট হয়ে যায় তাদের! এই সময়টুকুকেই সাকিব ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলছেন, ‘মাঝের ওভারে আমি আর রশিদ যখন বল করছিলাম, তখনই ম্যাচ ধরে ফেলি। এটাই ছিল টার্নিং পয়েন্ট।’রশিদ এদিন শেষদিকে ব্যাট হাতে ১০ বলে ৩৪০ স্ট্রাইকরেটে ৩৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। বল হাতে ১৯ রান খরচায় নেন তিন উইকেট। এর মধ্যে দুই ওভারই ছিল ডট! ২৭ তারিখের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ধোনির চেন্নাই।