‘সরকারের দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ ঋণের ফাঁদে’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সবাই দুর্নীতিবাজ। যারা প্ল্যানিং করছে, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করছে, বাজেট তৈরি করছে, সবক্ষেত্রে দুর্নীতির ব্যাপারটা প্রধান। এত বেশি দুর্নীতি করেছে যে এখন ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই ফাঁদে পড়ে যাওয়ার কারণে এখন তারা চতুর্দিক থেকে একটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা, আরেকটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা এভাবে চলছে। একটা ঋণ নিয়ে আরেক ঋণ শোধ করে এটা কারা করে? যারা সব জায়গাতে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে, ঠিকমতো চালাতে পারছে না তাদের এই কাজটা করতে হয়।’

সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও দেশটির কাছ থেকে ঋণ আনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার মারাÍক ভুল তথ্য দিচ্ছে। আজকের পত্রিকায় দেখলাম, রপ্তানি আয় ৬৪ বিলিয়ন বেশি দেখিয়েছে। এটি সত্য নয়। ওদের হিসাবেই এসব ভুল বেরুচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে বলে ক্ষমতাসীনদের দেওয়া অভিযোগ নাকচ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কখনোই এ ধরনের আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এসব আন্দোলন তাদের নিজস্ব, তাদের প্রফেশনাল জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা করছেন, ছাত্ররা করছেন, ছাত্রীরা করছেন। আমরা এখানে ইন্ধন দিতে যাব কেন? প্রশ্নই উঠে না।’

এসব আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তবে যেটা সত্যি সেটা সত্যি বলব, যেটা যৌক্তিক সেটা যৌক্তিক বলব। এটা আমরা সব সময় বলছি। দেশের মানুষ যে তাদের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়, সেটা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আন্দোলনকে আমরা দুভাবে দেখি। একটা হচ্ছে, দেশে বিপুল সমস্যা আছে সেটাকে ডাইভার্ট (ভিন্ন দিকে নেওয়া) করার জন্য আন্দোলন তৈরি করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, কোটাবিরোধী ছাত্রদের এই দাবিকে আমরা সমর্থন করি কারণ এটা যৌক্তিক দাবি। এটাকে আমরা অযৌক্তিক বলার কোনো কারণ দেখি না। ৫০ বছর পরেও ৫৬ শতাংশ কোটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এখানে যেটা হচ্ছে মেধার বিকাশ হচ্ছে না, মেধাবীদের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন জায়গাগুলোতে নিতে পারছেন না। একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।’

শিক্ষকদের আন্দোলন যুক্তিসঙ্গত দাবি করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। আপনি এর আগে একরকম কথা বলেছেন, এখন করছেন আরেক রকম।