সরকার দেশকে রাজনীতি শূন্য করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চায় : বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, সরকার দেশকে রাজনীতি শূন্য করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কদমতলী উত্তর থানার উদ্যোগে রাজধানীতে অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার প্রদানকালে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও কদমতলী উত্তর থানা আমির আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য ওমর ফারুক, দুলাল মিয়া, মিজানুর রহমান, আব্দুল হালিম, আবু বকর সিদ্দিক ও শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সারাদেশে তীব্র শীতে অসহায় মানুষ নিদারুণ কষ্টের মধ্যে রয়েছে অথচ সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার জণগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকল তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। একইসাথে প্রকৃত দেশপ্রেমিক, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে জনগণের সকল সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট রয়েছে। যা ইতোমধ্যেই দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে এবং তাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের সীমিত সামর্থ্য সত্বেও মানবতার কল্যাণেই আমাদের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মানবতার কল্যাণে কাজ করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে বিশ্বাস করি। কারণ এটা ইসলামের নির্দেশ। এ নির্দেশ থেকেই জামায়াতে ইসলামী তার চারদফা কর্মসুচির মধ্যে তৃতীয় দফা কর্মসুচিতে সমাজসেবা কর্মসুচি অন্তর্ভুক্ত রেখেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ এক মহাসঙ্কট অতিক্রম করেছে। রাজনৈতিক সঙ্কট, অর্থনৈতিক সঙ্কট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ভুলুণ্ঠিত। দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দেশে আজ ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। কথা বলার অধিকার নাই, মত প্রকাশের অধিকার নাই, রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করার অধিকার নাই। বিগত ১৫ বছরে জামায়াতে ইসলামীর ২৫১ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। এভাবে সরকার পরিকল্পিতভাবে এদেশকে রাজনীতি শুন্য করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে প্রহসন ও নাটক মঞ্চস্থ করেছে। জনগণ ভোটদান থেকে বিরত থেকে সরকার তাদের জবাব দিয়ে দিয়েছে। এই আওয়ামী অপশক্তির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা করতে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধ দুর্বার গণ-আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজপথে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি