ক্যান্সারজনিত ব্যথার চিকিৎসা

আমাদের শরীর একটি মাত্র কোষ থেকে বিভাজনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। এই শরীরে রয়েছে অসংখ্য কোষের সমন্বয়। যদি কোনো কারণে শরীরের কোনো একটি কোষ অস্বাভাবিক বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন হয়, তখন এটাকে ক্যান্সার বলা হয়।

ব্যথার কারণ

শরীরে কোথাও যদি ক্যান্সার হয়, তাহলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে এর আকৃতি অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে।

এই বড় ক্যান্সার অংশটি তার আশপাশের বিভিন্ন অংশে চাপ প্রয়োগ করে ব্যথা তৈরি করে। ক্যান্সার থেকে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল পদার্থ নিঃসৃত হয়, যেগুলো ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে। ক্যান্সার অঙ্গটি যখন শরীরের কোনো স্নায়ুতে চাপ প্রয়োগ করে, তখন স্নায়ুজনিত ব্যথা হয়। আবার ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন অংশের রক্ত চলাচল কমে যায়।
বিভিন্ন জায়গার স্নায়ুতে চাপ তৈরি হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশের কোষ এলোমেলোভাবে লেগে যাওয়ার অবস্থা তৈরি হয়ে ব্যথা উৎপন্ন হয়। ক্যান্সার ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়।
ক্যান্সারজনিত ব্যথার চিকিৎসা

পৃথিবীতে সব ব্যথার চিকিৎসা থাকলেও ক্যান্সারজনিত ব্যথা একটি জটিল প্রক্রিয়া।

যে কারণে এই ব্যথার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও একটু জটিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সার যখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় একই সঙ্গে ব্যথা উৎপন্ন হয়। এ কারণে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে এর তীব্রতাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন।

তখন মানসিক কারণে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। এই পর্যায়ে ব্যথার চিকিৎসা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
১. যেহেতু ক্যান্সার অংশটাই ব্যথার মূল কারণ, তাই এটাকে অপারেশনের মাধ্যমে ফেলে দেওয়া ব্যথার প্রাথমিক চিকিৎসা।

২. অপারেশন-পরবর্তী কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মাধ্যমেও কিছুটা ব্যথা নিরাময় হয়।

৩. ওপরের দুটি চিকিৎসার পরেও ক্যান্সারের ব্যথা থেকে যেতে পারে অথবা ক্যান্সার শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে কিছু চিকিৎসা প্রয়োজন।

৪. মরফিন সালফেট (এমএসএল) দিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্যান্সারজনিত ব্যথা চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এটা অবশ্যই সুনির্দিষ্ট চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শেই সেবন করতে হবে।

৫. নার্ভ ব্লক বা নিউরোলিসিসের মাধ্যমে ক্যান্সারজনিত জটিল ব্যথার চিকিৎসা করা হয়।

* মুখমণ্ডল ও গণ্ডদেশের কোনো ক্যান্সারজনিত ব্যথায় স্টিলেট গ্যাংলিওন ব্লক।

* নাভির উপরিভাগে পেটের ভেতরের যেকোনো অঙ্গের ক্যান্সারজনিত ব্যথায় (প্যানক্রিয়াস, পাকস্থলী, খাদ্যনালি, যকৃৎ, ডিউডেনাম) সিলিয়াক প্লেক্সাস ব্লক ও নিউরোলিসিস।

* নাভির নিচের দিকে পেটের ভেতরের যেকোনো অঙ্গের ক্যান্সারজনিত ব্যথায় (প্রস্টেট ক্যান্সার) সুপিরিয়র হাইপো গ্যাস্ট্রিক প্লেক্সাস ব্লক ও নিউরোলিসিস।

পরামর্শ দিয়েছেন

ডা. মো. আহাদ হোসেন

চিফ কনসালট্যান্ট ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশ সেন্টার ফর রিহ্যাবিলিটেশন, কাঁটাবন, ঢাকা।