লাইন লাইন খেলা, চোখের পলকেই ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। যেনো সুনসান নীরবতা। একটি কেন্দ্রে এক ঘণ্টা সময়ে পাঁচটি বুথে মাত্র ৫০টি ভোট পড়েছে। মাঠেও নেই ভোটার। নেই ভোটারের দীর্ঘ লাইন।

এর মাঝে একজনের উক্তি। সাংবাদিক আসছে। অমনি হুড়োহুড়ি করে লাইনে দাঁড়ানোর তাড়া। মুহূর্তেই দীর্ঘ লাইন। যাদের কেউই ভোটার না। এভাবেই লাইন লাইন খেলা হচ্ছে মগবাজারের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর কেন্দ্রের সামনে।

এদিন সকাল ৮টার আগ থেকেই কেন্দ্রর সামনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। যে যার মতো কেন্দ্রে অবাধে চলাচল করছে। সেলফি তোলার লাইনও চোখে পড়ে। যাদের অধিকাংশই ভোটার না।

এর মাঝে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আগমন। মুহূর্তেই দৌড়াদৌড়ি করে কেন্দ্র থেকে চলে যায় কর্মী ও নেতারা। অবস্থান নেয় মূল সড়কে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা থেকে দৌড়ে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ গেট বরাবর দীর্ঘ লাইন তৈরি করা হয়।

দেখে মনে হচ্ছে এদের সবাই ভোটার। তবে বাস্তবে অধিকাংশই ভোটার না। তাদের অনেকেই আবার স্কুলের শিক্ষার্থী। অনেকেই আবার ভোট দেওয়ার পরও লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

এসময় আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা রাজনীতি বুঝো না। দ্রুত লাইনে দাঁড়াতে হবে। কী বলা হয়েছিল তোমাদের?

তবে গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

আওয়াম লীগ নেতা রহমতুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, কামাল ভাই চেয়েছেন সুষ্ঠু ভোট। এখানে বিশৃঙ্খলা করছে না কেউ। ওরাতো ভোটারদের সহযোগিতা করেছ। আমরা ভােটারের নিরাপত্তার কথা ভেবেই আছি। তবে ম্যাজিস্ট্রেট এলে কেনো চলে যাচ্ছন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ও ম্যাজিস্ট্রেট খুব কড়া, তাই চলে যেতে হচ্ছে সবাইকে।’

এদিকে ভোট শুরু হলেও কেন্দ্রের ভেতরে স্থানীয়দের উপস্থিতি অস্বস্তিতে ফেলেছে ভোটারদের। তাদের অভিযোগ এভাবে কেন্দ্রের মধ্যে আসা বা আনা-গোনা ঠিক হচ্ছে না। এতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হয়। ভোট কেন্দ্রের বাইরে নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো থাকলেও ভোটার ছাড়া কাউকে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়নি।

তবে ভোটকেন্দ্রে প্রায় সব প্রার্থীর এজেন্ট চোখে পড়েছে। বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪টি কেন্দ্র ঘুরে এ চিত্র উঠে এসেছে।

চারটি কেন্দ্রের মধ্যে ভোটার না হয়েও মহড়ার বিষয়ে কথা হলে প্রিসাইডিং অফিসার জানান, আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। ভোট সুষ্ঠু করতে সব প্রস্তুতি আছে আমাদের।

যদিও কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই জানান, কেন্দ্রের ভেতরে যেন বহিরাগত না আসতে পারে সে বিষয়ে আমরা তৎপর আছি।

এদিকে কেন্দ্রের মধ্যে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটদান শেষে এক ভোটার জাগো নিউজকে বলেন, আমি ভোট দেব, কাকে দেব এটাতো পরিষ্কার। তবুও কেন্দ্রে কেন তাদের যেতে হবে। আমাকে ভোটার নম্বরটি দিলেই আমি ভোট দিতে পারবো, কেন্দ্রে যেয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মানে কী! এতে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়।

এই চার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে দায়িত্ব পালন করা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ জানান, আমাদের কর্মীরা কেন্দ্রে থাকলেও গোপন কক্ষে কেউ যাচ্ছে না।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৯৭০ জন প্রার্থী। ২৮টি রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই করছেন ১৫৩৪ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন ৪৩৬ জন। এছাড়া নওগাঁ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলামের মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে এবার ২৯৯ আসনে হচ্ছে নির্বাচন।