সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ভয় না পাওয়ার’ আহ্বান কেন জানালেন প্রধানমন্ত্রী?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদের আন্দোলন দেখে তারা যেন ভয় না পান।

সোমবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক দেয়ার সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি বলেছেন, ‘’একটু আন্দোলন-সংগ্রাম দেখলে ভয় পাবেন না। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। জনগণ যতক্ষণ আমাদের সাথে আছে…যারা আন্দোলন করতে চায়, জ্বালাও-পোড়াও করতে চায়, জ্বালাও-পোড়াও করাটা আমরা সহ্য করব না। সেটা কখনোই মেনে নেয়া যাবে না, তবে আন্দোলন বা সংগ্রাম যাই করুক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে আমরা ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বক্তব্য দিলেন এমন সময়ে যখন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অনেক সময় বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা করার ঘোষণাও এসেছে।

একদিকে যেমন নির্বাচন কালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিরোধী দলগুলো একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছে, তেমনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে।

নির্বাচনে যাই ঘটুক না কেন, সরকারি কর্মকর্তাদের তাদের বিধি বা নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করার কথা। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ‘ভয় না পাওয়ার’ আহ্বানের কি অর্থ রয়েছে?

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি কেন এই আহ্বান?

বাংলাদেশের সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনরকম দলীয় আনুগত্য চাকরি বিধির বিরোধী। তা সত্ত্বেও অনেক সময় বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে অবসরের পর সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের টিকিটে নির্বাচন করা বা সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাহরণও রয়েছে।

রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এখানে যে রাজনৈতিক বার্তাটি আমাদের কাছে পৌঁছায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কাছে দলীয় প্রভাব, ক্ষমতাসীন দলের একটা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন, যাতে বিরোধী দলের আন্দোলন থেকে তারা কোনরকম প্রভাবিত না হন।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে কয়েকটি বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে, আমলাদের ওপর সরকারের একটা প্রভাব বিস্তার করা, আমলাদের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিজস্ব পকেটে রাখা। সেই সঙ্গে তাদের প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ হুঁশিয়ারি দেয়া, যাতে তারা বিরোধীদের আন্দোলনে কোনরকম সমর্থন না দেয় বা দুর্বল হয়ে না পড়ে।

অনেক সময় বিরোধী বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান আমলারাই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। তাই আমলাদের খুশি করতে বছর বছর বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে গত পনের বছরে সরকার তার মতো করে দলীয় সমর্থক কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রশাসন সাজিয়ে রেখেছে বলে বিরোধীরা বরাবরই অভিযোগ করে আসছে। এর আগে বিএনপি আমলেও তখনকার সরকারি দলের বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিযোগ ছিল সে সময়ের বিরোধী দলের।

অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, “দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের যে আমলা-নির্ভরতা রয়েছে, সেটা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলা যায়। এই মুহূর্তে যখন নির্বাচনের অল্প সময় বাকি, তখন আমলাদের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা, সেটাও একভাবে প্রধানমন্ত্রীর কথায় বেরিয়ে আসছে। কারণ আমলাদের নড়াচড়ার ওপর নির্ভর করছে জাতীয় নির্বাচনের গতিবিধি।”

“এই মেসেজকে আসলে নানাভাবে পাঠ করা যায়। সরকারের আমলা-নির্ভরতা, সরকারের এক ধরনের প্রভাব, বিরোধী দলের প্রতি সমর্থন না দেয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি এবং আমলাদের নিয়ে সরকার পরিচালনার যে প্রবণতা আমরা দেখছি, সেটাকে জোর দেয়া এবং গুরুত্বে আনা। কারণ সামনের নির্বাচনে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান সরকারের জন্য।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমলাতন্ত্রের বড় একটি ভূমিকা দেখা দিয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সেই সময় বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করছিল, তার অংশ হিসাবে ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে জনতার মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় সচিবালয় ভিত্তিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটা বড় অংশ জনতার মঞ্চে গিয়ে সমর্থন জানালে বিএনপির সরকারের অবস্থান টালমাটাল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, বর্তমানে আন্দোলনে আমলাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগও করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুম, খুন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট ওসি, এসপিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে সারা দেশে চিঠি পাঠিয়েছে দলটি। চিঠিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার সাথে জড়িত, বাদী, তদন্তকারী বা তদারককারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নাম ও পরিচয় জানাতে বলা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সেলে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

সেই সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ”বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে মিথ্যা এবং গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে গুম খুন করা হয়েছে। আমরা সেসব মামলা আর এর সাথে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করে রাখছি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে এসব তথ্য ব্যবহার করা হবে।”

একজন বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, সামনের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই কর্মকর্তাদের যাতে দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া যায়, সেজন্য এখন থেকেই তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রশাসনের একই ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি শুরু করছে বিএনপি। বিশেষ করে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ করেছেন তাদের ওই তালিকায় রাখা হচ্ছে।

যদিও গত ২৫শে জুলাই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘’বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দলীয় বিবেচনায় কিংবা আক্রোশমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। বরং যেসব কর্মকর্তা গত ১৫ বছরে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর বা দীর্ঘদিন ওএসডি হয়ে আছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।‘’

এমন পটভূমিতে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রতি বিরোধীদের হুমকি বা আন্দোলনে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘’সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন। তারা যাতে যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন, সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।‘’

মি. হানিফ বলছেন, ‘’তার কারণ হচ্ছে, আপনারা লক্ষ্য করেছেন, গত বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানান ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। তারা দেখে নেবেন, অমুক করবেন, এ ধরনের কথা বলেছেন। স্বাভাবিকভাবে এই ধরনের হুমকি-ধামকিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভ্যস্ত নন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা হুমকি-পাল্টা হুমকি দিয়ে বা শুনে অভ্যস্ত, তারা এগুলো খুব একটা আমলে নেয় না। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও ভীতির সৃষ্টি হতে পারে বা তারা উদ্বিগ্ন হতে পারেন।

“তাদের মধ্যে যাতে কোন ভয় বা শঙ্কা কাজ না করে, সেই জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা আপনাদের দায়িত্ব যথাযথ নিয়ম মেনে পালন করে যাবেন। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটাই বিষয়,” বলছেন মাহবুব-উল আলম হানিফ।

তিনি বলছেন, গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের মন্ত্রী বা নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকেন, কিন্তু সেসব পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেটাই তাদের কাজ বা দায়িত্ব, সেটা পালন করার মানে তো সরকারি দলকে সমর্থন করা নয়।

আমলাদের সমর্থন চায় সব দল

সরকারি এবং বিরোধী দলের বিভিন্ন বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে, উভয় পক্ষই আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আমলাতন্ত্রকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। একদিকে যেমন আমলাদের নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা হচ্ছে, তেমনি বিপক্ষে গেলে পরিণতির বিষয়েও নানাভাবে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এখন সরকার যখন একটা ক্রাইসিসের মধ্যে আছে, ক্রাইসিসই আমি বলবো- দেশি বিদেশি চাপের মধ্যে আছে, তখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তাদের সমর্থক যারা, তাদের একটু আতকিংত হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেজন্যই তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এই কথা বলতে হচ্ছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি দলের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে, নানা রকম সুযোগসুবিধা নিয়েছে, সরকারে কোনরকম বদলের সম্ভাবনা তৈরি হলে তাদের মধ্যে চিন্তা বা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এইরকম ঘটনা এবারই প্রথম নয়। অতীতেও দেখা গেছে, সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারি সব বড় বড় পদে ব্যাপক রদবদল হয়েছে।

উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী সরকার যেমন রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় পরিবর্তন এনেছিল, আবার ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর বড় রদবদল করা হয়। আগের সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) বা কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঠানো হয়েছে। আবার তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বড় পদে আনা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক আনুগত্য বিবেচনায় এসব রদবদল বা পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

যদিও গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এরকম রদবদল খুব একটা হয়নি, বরং অনেক কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা এমনকি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতেও দেখা গেছে। ২০২১ সালে শরিয়তপুরে একজন ওসি রাজনৈতিক শ্লোগান দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন। সম্প্রতি নিজ এলাকায় রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে পরে ওএসডি হয়েছেন সরকারের একজন সিনিয়র সচিব। পুলিশের কিছু কর্মকর্তার নাম ধরেই সমালোচনা হয় বিরোধী দলগুলোর সভা সমাবেশ থেকে।

সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলছেন, “আমাদের দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই সংস্কৃতি আসলে রাজনৈতিক দলগুলোই তৈরি করেছে। শুধু বর্তমান সরকার না, অতীতে যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা সবসময়েই সরকারি কর্মীদের মধ্যে একটা অনুরাগী একটা গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে। আমাদের লোক-ওদের লোক, এই বলে বলে প্রমোশন, পোস্টিং- সব কিছু করা হয়েছে।”

“কিন্তু নির্বাচনকে যদি আমরা অন্যসব দেশের মতো একটা স্বাভাবিক গেমের মতো রাখা হতো, সেখানে আমি হারলাম-জিতলাম, সেটা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি আমাদের দেশে এই জিনিসটা করতো, সরকারি কর্মকর্তাদের যদি প্রফেশনালি চলতে দিতো যে, সরকারে যেই আসুক, তাদের নির্দেশ মান্য করা তাদের কাজ, তাহলে আজকে এই অবস্থা তৈরি হতো না। প্রধানমন্ত্রীকেও এই আহ্বান জানাতে হতো না।”

উৎসঃ বিবিসি বাংলা