সরকারের পদত্যাগে একদফা :পূর্ণশক্তি নিয়েই এবার রাজপথে বিএনপি

সরকার পতন আন্দোলনে রাজপথে ভিন্ন রূপে দেখা যাচ্ছে বিএনপিকে। প্রায় এক যুগের বেশি ক্ষমতায় বাইরে থাকা দলটি মামলা, হামলা, নির্যাতন, গ্রেফতার, অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা কারণে ছিল বিপর্যস্ত। সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি।
কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা নবজাগরণ তৈরি হয়েছে। রাজপথে সিনিয়র নেতাসহ বিশাল উপস্থিতি সবার নজর কাড়ছে। যে কোনা বাধা, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আন্দোলন সফলে তাদের মধ্যে দৃঢ় মনোবল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পূর্ণশক্তি নিয়েই এবার রাজপথে নামছে দলটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর মতে, বিএনপির এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে-সাংগঠনিকভাবে দলকে ঢেলে সাজানো। ত্যাগী ও তরুণদের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বে আনা, সিন্ডিকেট ভেঙে দলে ঐক্য ফিরিয়ে সব স্তরে সমন্বয়, নেতাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে তাদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং।

এছাড়া রাজপথের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় হাইকমান্ডের প্রতি আস্থা তৈরি হওয়া, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে সাহস ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া। পাশাপাশি সিনিয়র থেকে জুনিয়র প্রত্যেক নেতার রাজপথে থাকার অঙ্গীকার এবং সর্বোপরি সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হঠকারিতা বাদ দিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে দলটির এমন প্রত্যাবর্তন। এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সমর্থনের পাশাপাশি দলটির প্রতি তাদের আস্থা বাড়বে বলেই মনে করছেন তারা।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রাজপথে তাদের উপস্থিতি সরকারও সমীহ করছে। বিগত সময়ে বিএনপির আন্দোলন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের নানা টিটকারী ও ব্যঙ্গ করতে দেখা গেছে। তাদের আন্দোলনের মুরোদ নেই বলেও কেউ কেউ বলেছেন। বিভিন্ন আলোচনা এমনকি টেলিভিশনের টকশোতেও বিএনপিকে নিয়ে অনেককে রসিকতা করতে দেখা যায়। কিন্তু এবার রাজপথে দলটির উপস্থিতিতে সমলোচকদের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপি করবে আন্দোলন-ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এখন আর এমন কথা বলেন না। উলটো বিএনপিকে মোকাবিলায় তারা পালটা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছে।

তিনি আরও বলেন-মামলা, হামলা, নির্যাতনসহ নানা কারণে দলটি সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। এজন্য তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ড অনেকটা দায়ী। সবমিলে দলটির দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং বর্তমানে দলটি বেশ ভালোভাবেই ফিরে এসেছে। তাদের এমন উত্থানে রাজনীতিতে ভারসাম্য তৈরি হবে।