আওয়ামী লীগের আতঙ্কের নাম তারেক রহমান: বুলু 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, আজকে আওয়ামী লীগের আতঙ্কের নাম তারেক রহমান। কারণ হলো- যে কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, খালেদা জিয়ার পর বিএনপির নেতা কে হবেন, সবাই বলবেন তারেক রহমান; কিন্তু শেখ হাসিনা বলতে পারবেন না, তার পরে কে নেতা হবেন। তাদের নেতা হওয়ার কেউ নেই।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে এ অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বুলু বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল; কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে আজীবনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন। আজকে স্বাধীনতার ৫১ বছর পরে গণতন্ত্রের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা বলে থাকেন জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারই জিয়াকে বীরউত্তম খেতাব দিয়েছিল, তাহলে এর জন্য আপনাদের বিচার হওয়া উচিত।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এ অপরাধে তার শাস্তি হয়েছিল এবং তাকে জেলে যেতে হয়েছিল।

‘আজকে সব ব্যাংক ও মিলের মালিক হলো আওয়ামী লীগের লোকেরা, তাই তারা বিদেশ থেকে চাল আমদানির নামে লুট করছে। ব্যাংক থেকে চার লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশে কোটি মানুষের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে- আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার আর অধিকার নেই। 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন- ক্ষমতা থেকে নামানো সহজ নয়। আমরাও জানি সহজ নয়, এজন্য আমরা মার খাচ্ছি এবং মার খেয়ে শক্ত হচ্ছি। আমরা সামনে কঠিন পথে যাচ্ছি, এটি হবে গঠনমূলক কঠিন পথ।

তিনি আরও বলেন, কথায় কথায় সরকারের অপদার্থ-অযোগ্য মন্ত্রীরা বলে থাকেন- সব কিছুর দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এভাবে মানুষের সঙ্গে পরিহাস করা হয়। এ পরিহাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হলেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এখন বিএনপি হলো আওয়ামী লীগের আতঙ্কের নাম। কারণ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনের সবটিতে জয়ী হয়েছিলেন, শেখ হাসিনা তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটিতে জয়ী হয়েছেন মাত্র। তখন থেকে তার বিএনপিবিদ্বেষ শুরু।

কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- এনডিপির চেয়ারম্যান কেএম আবু তাহের, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাছের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহবায়ক আনিছুর রহমান প্রমুখ।