জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন সাক্কু?

জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন-দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় মনিরুল হক সাক্কুকে বিএনপির সব ধরনের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। আবার কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো হেরেছেনও তিনি। এরপর থেকে

নীরব ছিলেন বিএনপির সাবেক এই নেতা। চাউর হয়, তাহলে কি সব হারিয়ে একাকিত্ব হয়ে গেলেন সাক্কু! কিন্তু না, আবার আলোচনা এসেছেন সাক্কু। বুধবার তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বনানীর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের এই আলোচনায় ছিলেন মজিবুল হক চুন্নু। গুঞ্জন উঠেছে তাহলে কি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন সাক্কু?

তবে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত এই নেতা দাবি করেন, ‘তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের আমন্ত্রণে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। দলটিতে যোগ দিবেন, এমন কোনো পরিকল্পনা এখনো তিনি করেননি।’ আর জাতীয় পার্টি বলছে, সাক্কুকে তাদের দলে ভেড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি (সাক্কু) জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

২০০৫ সাল থেকে কুমিল্লার মসনদে আসীন ছিলেন মনিরুল হক সাক্কু। ২০০৫ সালে ছিলেন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান, ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছিলেন পৌর মেয়র। ২০১২ এবং ২০১৭ দুই দফায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র হন। চলতি বছরের ১৬ মে পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

এবার কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো হারলেন সাক্কু। দলীয় পদ গেল। বিএনপি থেকে আজীবন বহিষ্কার হলেন। যুবদল সভাপতি থেকে ধাপে ধাপে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় সম্পাদক হয়েছিলেন এই নেতা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাক্কু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘একজনের সঙ্গে দেখা করলেই যদি দলটিতে যোগ দেওয়া হয়, তাহলে আর কারো সঙ্গে দেখা করব না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সম্মানিত ব্যাক্তি। তিনি আমাকে কয়েকদিন ধরে তার অফিসে যাবার জন্য দাওয়াত দিচ্ছিলেন। এজন্য আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে বিভিন্ন বিষয় জানিয়েছেন জি এম কাদের। বলেছেন- আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দিতা করবে। কারো সঙ্গে জোট করবে না। মরহুম এরশাদ সাহেব চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মামলা টামলা দিয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করতে দেওয়া হয়নি।’

সাক্কু বলেন, ‘জাতীয় পার্টির নেতারা ইভিএমে হওয়া কুমিল্লার নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চান। তারা বলেন- বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইভিএম সম্পর্কে অনেকে তথ্য জানতে চান। কিন্তু আমরা সঠিক তথ্য দিতে পারি না। আমি ইভিএম বিষয়ে তাদেরকে তথ্য দিয়েছি। বলেছি- কেউ ইচ্ছা করলেই ইভিএমে ভোট চুরি করতে পারে; আবার ইচ্ছা না করলে চুরি করতে পারবে না।’

সাক্কুর সঙ্গে আলাপকালে তাকে জাতীয় পার্টিতে যোগদানের কথা বলা জানিয়ে কুমিল্লার সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘আমি তো জাতীয় পার্টিতে যোগ দিইনি। তারা দাওয়াত দিয়েছে, গেছি। যারা বলছে আমি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছি, তারা বলুক।’

সাক্কুর জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ভবিষ্যতে আরও হবে জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য তাকে প্রস্তাব দিয়েছি। এখন উনার (সাক্কু) ইচ্ছা।’

কুমিল্লা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াশিম বলেন, ‘সাক্কু দলীয় আদর্শ ও নীতির বাইরে কর্মকাণ্ড করার কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে বহিস্কার করেছে। তিনি অন্য দলে গেলে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না।’

সাক্কু জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলে কুমিল্লায় বিএনপির অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে, এমন প্রশ্নে আশিকুর রহমান বলেন, ‘উনি যদি নতুন দলে যান কোনো নেতাকর্মী তার সঙ্গে নতুন দলে যাবেন না। আর উনার (সাক্কু) কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কোনো ক্ষতিতে পড়বে না।’

ঢাকাটাইমস