কুসিকে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ইকরাম

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে নির্বাচন পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু, নিরপক্ষ ও অভাধ নির্বাচন করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের প্রস্ততিও সম্পন্ন করেছে ইসি।

তবে এই নির্বাচনে একাধিক হত্যা মামলা ও মাদক বিক্রেতাসহ বহু অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিরাই কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। এতে ২০১৮ সালে ‍প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৩(২) স্মারকে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী

ও চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক/আশ্রয় প্রদানকারী তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৬নং তালিকাভুক্ত কুমিল্লা নগরীর শুভপুর এলাকার রমজান মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম ওরফে ইকরাম।

বর্তমানে তিনি কুসিকের ৬নং ওয়ার্ডে রেডিও মার্কায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। এছাড়াও কুমিল্লায় ১০২ মাদক ব্যবসায়ীর নামের তালিকায় কোতোয়ালি থানায় অন্যতম একজন আমিনুল ইসলাম ওরফে ইকরাম।

মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান বর্তমান সরকারের। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে। তার নির্দেশেই সারাদেশে তালিকা করা হয় শীর্ষ মাদক কারবারি ও এর পৃষ্ঠপোষকদের।

সরকারপ্রধানের নির্দেশেই ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে দেশে শুরু হয় মাদকবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। গ্রেপ্তার শুরু করে মাদক কারবারি এবং এর পৃষ্ঠপোষকদের।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহতও হন অনেক মাদক কারবারি, যা সর্বমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিল সে সময়। অবশ্য এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাদক কারবারি ও এর পৃষ্ঠপোষকদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

ওই তালিকায় নাম ছিল অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি ও এর পৃষ্ঠপোষকদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহাম্মদ স্বাক্ষরিত ওই তালিকায় ৬ নাম্বারেই নাম আমিনুল ইসলাম ওরফে ইকরামের।

কুমিল্লা জেলার আরো কিছু চিত্রঃ প্রাপ্ত তথ্যমতে, কুমিল্লা জেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে রয়েছে ৮৯ জনের নাম। মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদার হিসেবে রয়েছে ১৬ জনের নাম।

তালিকায় মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী হিসেবে কুমিল্লায় কর্মরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের ১১ সদস্যের নামও রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় দুজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে শীর্ষে।

এদের মধ্যে চৌদ্দগ্রামের কনতাপৈতা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল বাহার, সদর দক্ষিণের জয়মঙ্গলপুরের লাদেন জাকির, কোতোয়ালির শুভপুর সর্দারবাড়ির শাহজাদা, শুভপুরের আমিনুল ইসলাম একরাম, বজ্রপুরের রাকিব, চানপুরের রানা, মুন্সেফ কোয়াটারের আলমগীর,

ঝাউতলার অশোক কুমার, বুড়িচংয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাত হোসেন, ব্রাহ্মণপাড়ার উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খাঁন চৌধুরী, দরিবট গ্রামের আবুল বাশার মেম্বর, সুয়াগাজীর জাকির মেম্বর, রাজাপুরের মান্নান মেম্বর, কাশিয়াপট্টির সেলিম মিয়া ওরফে কসাই সেলিম।

খবরটির তথ্য সূত্রঃ dailysokalersomoy.com এবং dailycomillanews.com থেকে হুবহু কপি করে নেওয়া হয়েছে।