আমাদের অনেকের রিকশায় চড়ার পয়সা থাকতো না, খালেদা জিয়ার কল্যাণে মন্ত্রী হইছি, বাড়ি হইছে, গাড়ি হইছে। আপনাদের একটু লাগে না যে ওনারে জেলে রাইখা আমরা আরাম-আয়েশ করি?

আমাদের অনেকের রিকশায় চড়ার পয়সা থাকতো না, খালেদা জিয়ার কল্যাণে মন্ত্রী হইছি, বাড়ি হইছে, গাড়ি হইছে। আপনাদের একটু লাগে না যে ওনারে জেলে রাইখা আমরা আরাম-আয়েশ করি?

আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেন, ‘২০০১ সালে ভারতের কাছে মুচলেকা দিয়েই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।’ তিনি অনেক বক্তৃতায় এটাও বলেন, ‘গ্যাস বিক্রি করতে রাজি না হওয়াতেই ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারে নি।’ প্রধানমন্ত্রী যখন বার বার একই কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে যে, যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে বলেই তিনি এই রকম স্পষ্ট মন্তব্য করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয় যে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বাংলাদেশ ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে।

এর সঙ্গে এখন যদি আমরা বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মেলাই তাহলে, এই ধারণা আরও দৃঢ় হয়। আজই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, ‘সরকার ভারত তোষণ নীতি নিয়ে ক্ষমতায় আছে।’ রিজভী ছাড়াও বিএনপির দায়িত্বশীল অনেক নেতার অভিযোগ হলো, আওয়ামী লীগ ভারতের মদদে এবং সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে আছে। বিশেষ করে, ৫ জানুয়ারি ২০১৪’র নির্বাচনের পর এ ব্যাপারে কোনো রাখঢাক নেই যে, ভারত চায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক।

অথচ ১৯৭৫ এর পর থেকেই ভারতের নীতি ছিল, ‘সব ডিম এক পাত্রে না রাখা।’ ভারত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুটি দলের সঙ্গেই সুসম্পর্কের ধারা বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশে যেন ভারত বিদ্বেষ এবং ভারত বিরোধী মনোভাব তীব্র না হয় সেজন্য ‘সাউথ ব্লক’ বিএনপি এবং দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বেশি মাখামাখির নীতি গ্রহণ করে।

এ কারণেই ৯১ এ বিএনপি ক্ষমতায় আসে। বেগম জিয়া ভারত সফরে যান। এ সময় বিএনপি এবং দক্ষিণপন্থী দলগুলো ভারত তোষণ নীতি গ্রহণ করে। কুলদীপ নায়ার পর্যন্ত বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপিকে হ্যান্ডেল করা ভারতের জন্য সহজ। কারণ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে বেশি চাপ দেয়।

বিএনপি, জাতীয় পার্টি বরং ক্ষমতায় থাকার জন্য ভারতকে খুশি রাখতেই ব্যস্ত থাকে। তাই সকল দলের সঙ্গে সুসম্পর্কের নীতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনীতি চালু হয় ‘ ২০০১ এর নির্বাচনের আগে তারেক জিয়া ভারতে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেন। সে সব বৈঠকে ভারত সন্তুষ্ট হয়। কিন্তু ২০০১ সালের পর থেকে ভারতের ডিপ্লোম্যাসি পাল্টাতে থাকে।

একসময় ভারতই ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা সমর্থন করে। সেনা সমর্থিত ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকারকে আনতে যে সব দেশ সহযোগিতা করেছিল, তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম। এসময় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলের উপরই অনাস্থা ছিল ভারতের। এরপর ২০০৮ সালে ভারত পায় এক নতুন আওয়ামী লীগ এবং নতুন শেখ হাসিনাকে। এখন ভারতের কূটনীতি একমুখী, আওয়ামী লীগ মুখী। কিন্তু কেন? কেন ভারত বিএনপিকে ক্ষমতায় চায় না? ভারতের কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট জনের সঙ্গে কথা বলে এর পাঁচটি প্রধান কারণ পাওয়া গেছে। এগুলো হলো:

১. ভারত মনে করে, বিএনপির ভাবী নেতা তারেক জিয়া, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দ্বারা পরিচালিত। তার সঙ্গে জঙ্গি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে। তারেক কথা দিয়ে কথা রাখে না। তাই তারেক যতক্ষণ বিএনপির নেতৃত্ব থাকবে ততক্ষণ ভারত বিএনপির প্রতি নূন্যতম অনুকম্পা দেখাবে না।

২. ৭৫ এর পর থেকে সব সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ছিল ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি। এমনকি ৯৬- ২০০১ এও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাংলাদেশ থেকে তৎপরতা চালিয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে, এটা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায়। রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশ্রয় দেয়। ভারত মনে করে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে একই কাজ করবে। বিশেষ করে উলফাদের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্রের মতো বহু অস্ত্র ঢুকবে বাংলাদেশে। এই আশঙ্কা ভারতের সব মহলে।

৩) বিএনপির চীন নীতি। ভারত মনে করে, এই উপমহাদেশে চীন তাদের জন্য এক মাথাব্যথা। আর বিএনপি ভারতের চেয়ে চীনের প্রতিই বেশি আগ্রহী। এই কারণে চীনের আগ্রাসী যুগে ভারত নতুন বিপদ আনতে চায় না।

৪) বিএনপির সঙ্গে জামাত এবং দক্ষিণপন্থীদের মাখামাখি, জোট বিএনপি ভারত দূরত্বের একটি বড় কারণ।

৫) বিএনপির পাকিস্তান তোষণ নীতি। ভারত মনে করে, বিএনপি পাকিস্তানপন্থী একটি দল যে কারণে ভারতে অপছন্দের তারা।

এই পাঁচ কারণে, ভারত বাংলাদেশে বিএনপিকে ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখতে চায়। তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও ভারত খুব আপত্তি করবে না বলেই কূটনীতিক মহলের ধারণা।

kontho