টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সফল অধিনায়ক কে? দেখেনিন সকল অধিনায়কের পরিসংখ্যান

দেখে নিন বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সকল অধিনায়কের পরিসংখ্যা-শেষ হলো মমিনুল অধ্যায়। বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মমিনুল হক। ২০১৯ সালে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার কারণে

বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান মমিনুল হক। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাটিং পারফরমেন্সের কারণে টেস্ট অধিনায়ক থেকে নিজেই নাম সরিয়ে নিয়েছেন মমিনুল। তাই তৃতীয় মেয়াদে আবারো বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। ২০০৯ সালে মাশরাফি বিন

মুর্তজার ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক হন সাকিব আল হাসান। কিন্তু এরপর সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান মুশফিকুর রহিম। এরপর আবারো সাকিব আল হাসানের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয় বিসিবি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে

টেস্ট দলে সর্ব মোট ১০ জন অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ টেস্ট দলের সর্বপ্রথম অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। ২০০০-২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে জাতীয় দলে ৭ টেস্ট ম্যাচের অধিনায়ক দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একটি ম্যাচে ড্র ছাড়া বাকি ছয়টি ম্যাচেই তার অধীনে

হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০১-২০০৪ বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদ মাসুদ পাইলট। তার অধীনে ১২ টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে বারোটি হেরেছে বাংলাদেশ। যদিও ২০০৩ সালে নয়টি টেস্ট ম্যাচের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

তবে বাংলাদেশকে একটি ম্যাচও সাফল্য এনে দিতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম টেস্ট ম্যাচে জয়লাভ করে হাবিবুল বাশার সুমনের অধীনে। তার অধীনে ২৮ টেস্ট ম্যাচের মধ্যে একটি জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের হার তেরোটি ম্যাচে। এছাড়াও ড্র হয়েছে চারটি ম্যাচে।

ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিলেও টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তিনি সফল ছিলেন না। তার অধীনে ১৩ টেস্টের ১২টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। একটি টেস্ট ড্র হয়েছিল। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার টেস্ট অধিনায়কত্বের

ভাগ্য ভালো না। দলনেতা হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে চোট পান। এটি তাকে ৬ মাসের জন্য মাঠের বাইরে ঠেলে দেয়। তার ডেপুটি সাকিব আল হাসানের অধীনে ম্যাচটি জেতে বাংলাদেশ। এরপরের টেস্ট থেকেই পূর্ণাঙ্গ অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় সাকিবের।

অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টই জেতেন বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি। তার অধীনে ১৪ ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচে জয়লাভ করে টাইগাররা।

তবে বাংলাদেশ টেস্ট দলের সবচেয়ে বেশি ম্যাচের অধিনায়ক দায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিকুর রহিম। সর্বোচ্চ ৩৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে দেশের সেরা অধিনায়ক তিনিই। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মত বড় দলকে তার অধীনেই প্রথমবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৭ জয়ের পাশাপাশি ড্র ৯টি। বাকি ১৮টি ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ।

মুশফিকের ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছিলেন ডেপুটি তামিম ইকবাল। ম্যাচটি হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৮-২০১৯ সালের মধ্যে ছয় ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার অধীনে একটি ম্যাচে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ। ড্র হয়েছে একটি এবং হেরেছে ৪টি।

সর্বশেষে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মমিনুল হক। মোট ১৭ ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়লাভ সহ তার অধীনে মোট তিনটি টেস্ট ম্যাচ জয় লাভ করেছে বাংলাদেশ। ড্র হয়েছে দুইটি এবং হেরেছে ১৩টি ম্যাচে।