অবশেষে চূড়ান্ত, ফের অধিনায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন সাকিব আল হাসান

অধিনায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন সাকিব আল হাসান-শ্রীলঙ্কার এ দলটা অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল, তেমন বলার সুযোগ নেই। সিরিজটা জিততে না পারলেও অন্তত খুব সম্মানের সঙ্গে ড্র করতে পারা উচিত ছিল বাংলাদেশের।আমাদের টেস্ট দলের ওই সামর্থ্য আছে। চট্টগ্রামে একইরকম পরিস্থিতি থেকেই চাপের মুখে দারুণ ব্যাটিং করে ড্র করেছিল শ্রীলঙ্কা। আমরা সেটি পারিনি।

দল নির্বাচনে যে কথাটা আগেও বলেছিলাম—একজন স্পিনার কম থাকা, সঙ্গে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় টেস্ট এবং সিরিজটি হারতে হলো। পাশাপাশি দল যখন জয়-পরাজয়ের সামনে, এমন চাপের মুখে আমাদের ব্যাটিংটা যে কখনোই ভালো হয় না, সেটিও আরেকবার প্রমাণিত হলো।

এমন ব্যাটিং বিপর্যয় দু-একবার হলে সেটিকে অঘটন হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, কিন্তু বারবার হলে সেটি খুবই আশঙ্কাজনক ব্যাপার। দলে ব্যাটিং কোচ, বিশেষজ্ঞ কোচ আছেন। তাঁরা এর দায়টা এড়াতে পারেন না। নতুন ব্যাটসম্যানদের কথা বাদই দিলাম, অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদেরও কেন রানে ফেরানো যাচ্ছে না, এটি মেনে নেওয়া কঠিন। আর এমন কন্ডিশনে শ্রীলঙ্কান পেসারদের বোলিং দেখে আমাদের উপলব্ধি হওয়া উচিত—এ বিভাগে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি।

আমার মনে হয় দলের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। একটা দল হিসেবে খেললে চাপের মুহূর্তে সেটি অনেক বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। সেটি কতটুকু করতে পারছি, ভাবতে হবে।

এখন বোধ হয় সময় এসেছে অধিনায়কত্ব থেকে আমাদের একসময়ের সেরা ব্যাটসম্যানকে মুক্তি দেব কি না—এটা ভাবার। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, অধিনায়কত্ব মুমিনুলের ওপর চাপ ফেলছে। এবং ওর ব্যাটিংয়ে সেটি স্পষ্ট। আমার মনে হয়, ওকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে সেটি ভালো একটি সিদ্ধান্ত হবে।

সাকিবের মতো একজন খেলোয়াড় থাকার পরও তাকে অধিনায়ক হিসেবে ব্যবহার না করার মতো বোকামো আর কিছু হতে পারে না, অন্তত আমার তাই মনে হয়। ওর যে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, দলে অবস্থান, পারফরম্যান্স—সবকিছু মিলিয়ে দলটা ওর হাতে দিলে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে এটি।

সাকিবের উচিত হবে দলের দায়িত্ব নেওয়া। আশা করি, ও আরও দুই-তিন বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলবে। সে সামর্থ্য ওর আছে। খুব করে আশা করব, সাকিব যাতে দলের দায়িত্বটা নিয়ে পুনর্বিন্যাস করে।

ও যখনই অধিনায়ক হবে, দলের সংস্কৃতিতে, দৃষ্টিভঙ্গিতে, লক্ষ্য নির্ধারণে পরিবর্তন আসবে। ব্যক্তিগত ও সামগ্রিকভাবে দলটি আরেকটা পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। একটা সময় শুনেছি, কেউ অধিনায়ক হতে চায় না, আবার বোর্ড কাউকে দিতে চায় না। তবে দলের স্বার্থে এসবের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের প্রথমেই এ কাজটা করা উচিত।

খেলোয়াড়দের সাইকোলজিটা টিম ম্যানেজমেন্টের বোঝা খুব দরকার। কোন পরিস্থিতিতে কে সাড়া দেয়, দল কখন মানসিকভাবে ভালো থাকে, কখন থাকে না—এসব বের করে কাজ করা দরকার।

ধারণাবশত অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টিম ম্যানেজমেন্টে এ কারণেই দেশীয় লোক দরকার। আমাদের ছেলেরা পরিবেশগত কারণেও নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত না, বা নেতৃত্বগুণের যথেষ্ট অভাব আছে অন্যান্য দেশের তুলনায়। আমাদের খেলোয়াড়দের সামলাতে তাই অনেক সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

অনুমাননির্ভর কাজ করলে হবে না। দেশীয় কোচ মানে শুধু অনুবাদ করতে পারে, এমন না। আরও অনেক বেশি কাজ করতে পারে, এমন কাউকে দরকার।

ম্যানেজমেন্ট অনেক সময় নামীদামি কোচ আনার চেষ্টা করে, যাঁরা সব সময় কার্যকর হয় না। ফলে এমন কোচ আনা উচিত, যাঁরা আমাদের সমস্যাটা বুঝবেন। যাঁদের প্যাশন আছে, সত্যিকার অর্থে কোচ। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আর আমাদের খেলোয়াড়, সংবাদমাধ্যম, বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট—সবার মধ্যে একটা দূরত্ব আছে। এবং এর চাপটা গিয়ে পড়ে খেলোয়াড়দের ওপর। সবার মধ্যেই পেশাদার সম্পর্ক থাকা উচিত। খেলোয়াড়দের একটা দায়িত্বের মধ্যে থাকতে হবে সংবাদমাধ্যম সামলানো।

আবার সংবাদমাধ্যম খেলোয়াড়দের কীভাবে তুলে ধরবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বোর্ডের সঙ্গে একটা টানহেঁচড়ার সম্পর্ক দেখি খেলোয়াড়দের। তাদের উচিৎ হবে খেলোয়াড়দের ওই আত্মবিশ্বাস জোগানো—তোমাদের পাশে আছি আমরা। খেলোয়াড়দেরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। সবার মধ্যেই দায়িত্বের এই উপলব্ধি আসা উচিত।