কারো ছাড় নয়> শীর্ষ দুই পদ পেতে অনড় ৩১ জন, যে সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র

কারো ছাড় নয় শীর্ষ দুই পদ পেতে অনড় ৩১ জন-চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সম্মেলন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩১ জন পদপ্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা নিয়ে অনেকটা অনড় ছিলেন। তারা সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচনে একমত হতে না পারায় কেন্দ্র থেকে কমিটি

ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এর আগে বিকাল ৫টায় হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটির জন্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়। এতে সভাপতি পদের জন্য ৯ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ২২ জনের আবেদন জমা পড়ে।

এসব আবেদন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এছাড়াও গত ১০ মে আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল এবং শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। ১৪ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত জীবনবৃত্তান্ত জমা নেওয়া হয়।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে যুুবলীগ চেয়ারম্যান ফজলে শামস পরশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেন। তারপর একে একে দুই শীর্ষ পদপ্রার্থীদের নাম তাদের নিজেদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রস্তাব ও সমর্থন করেন। এরমধ্যে সভাপতি পদে ৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২৪ জনের নাম ওঠে আসে। এ সময় উত্তর জেলার সাতটি উপজেলার ১৭৫ জন (প্রতি থানায় থেকে ২৫ জন করে) এবং উত্তর জেলা যুবলীগের বিলুপ্ত কমিটির ৭১ জনসহ মোট ২৪৬ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

এরপর একে একে দুই শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সব প্রার্থীকে নাম ধরে ডাকলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং তাদের নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশাসহ নানা প্রশ্নের সম্মুখিন করা হয় প্রার্থীদের।যেন ছোটখাটো একটা সাক্ষাৎকার। নাম-পরিচয় সবই তিনি টুকে নেন। এসবের পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার মাধ্যমে নাম প্রত্যাহারের জন্য প্রার্থীদের নির্দিষ্ট করে সময় দেন পরশ।তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা অনড় থাকেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্বিতীয় অধিবেশনে উপস্থিত থাকা কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী জানান, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনড় থাকায় যুবলীগ চেয়ারম্যান তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা একমত হতে পারলেন না কে হবেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক। আমার ওপর আপনাদের আস্থা আছে? এ সময় হলভর্তি কাউন্সিলর ও প্রার্থীরা চিৎকার করে সমর্থন দেন।’

পরে ফিরতি কথায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘তাহলে শিগগিরই আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব, কে সভাপতি, কে সাধারণ সম্পাদক।’

সূত্র জানায়, উত্তর জেলা কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা তিন ডজনের মতো নেতাকর্মী। সভাপতি পদে আছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদুল আলম, বর্তমান সহসভাপতি নুরুল মোস্তফা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিবুল আহসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার করিম, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বশরসহ ৯ জন।

এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুর আলম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তৈয়ব, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সামশুদোহা সিকদার, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি এসএম আল নোমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য রাশেদ খান মেননসহ ২২ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।jugantor