যে কারণে ২৯ আগস্টের আগেই ভাঙবে বিএনপি!

২৯ আগস্টের আগেই ভাঙবে বিএনপি?-গতকাল নির্বাচন কমিশন নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আহ্বান করেছে। নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। বিএনপি সহ কিছু কিছু রাজনৈতিক দল এটিকে বিএনপি ভাঙার একটি নতুন ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করছেন। কিছুদিন ধরেই বিএনপি

নেতারা বলছেন যে, সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে। আর এ কারণে তারা দলের কিছু কিছু নেতাকে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে। তবে এখন নির্বাচন কমিশন যখন নতুন এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো, তখন বিএনপি নেতারা মনে করছে যে, ২৯ আগস্টের মধ্যেই হয়তো এমন নতুন একটি বিএনপি তৈরি করা হবে, যে নতুন বিএনপি সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ

করবে। তবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপি ভাঙা বা রাখা সঙ্গে গণবিজ্ঞপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই। এই গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৯(ক) এর অধীনে। এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যদি বিগত নির্বাচন থেকে এই সময়ের মধ্যে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল আবির্ভূত হয়, তারা নিবন্ধন করতে পারে।

বাংলাদেশে এখন ৩৯টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। এখন এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো হয়েছে সেগুলো নিবন্ধিত করার সুযোগ তৈরি করা হবে। এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন করা নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এ সময় ৭৬টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। তবে কোনো দলকে ইসি নিবন্ধন

দেননি। পরে আদালতের আদেশে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ববি হাজ্জাজের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এবং একই বছরের ৯ মে বাংলাদেশ কংগ্রেসকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। এবারের নিবন্ধন নিয়ে অন্যরকম কথাবার্তা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি এবার শুরু থেকেই ভিন্ন রকম অবস্থান নিয়েছে। তারা বলেছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা

যাবে না। শুধু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়, বিএনপি এখন যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে সেই নির্বাচনগুলোতেও অংশগ্রহণ করছে না। এমনকি বিএনপির যারা অংশগ্রহণ করছে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ছাড়া আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে রাজনীতিতে একটি মহামূল্যবান প্রশ্ন।

বিএনপি মনে করছে যে, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে যেখানে সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে বা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে বাধ্য হবে। এ লক্ষ্যে তারা কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপেরও আয়োজন করেছে। যদিও এই সমস্ত সংলাপকে অনেকেই অর্থহীন মনে করছেন। কিন্তু সরকারের মধ্যে থেকে একটা বড় ধরনের আশাবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সরকারের বেশ কয়েকজন নেতা

খুব দৃঢ়তার সাথেই বলছেন যে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন যে, বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখী। তারা নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। বিএনপি’র অনেকেই মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগের নেতাদের এ ধরনের বক্তব্য পিছনের রহস্য আছে। তারা আগামী নির্বাচনে আগে একটি নতুন বিএনপি বানাতে চায় এবং এই বিএনপিকে দিয়েই নির্বাচনের মাঠে নামাতে চায়।

ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো আগামী নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয় সেজন্য তাগিদ দিচ্ছে। এরকম বাস্তবতায় বিএনপি’র একটি বড় অংশকে ভাগ করে আলাদা করে সরকার নির্বাচনী কৌশল নিচ্ছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। তবে সরকারের একাধিক নেতা বলছেন,

রাজনৈতিক দল ভাঙ্গা গড়ার খেলা বিএনপি করেছে। আওয়ামী লীগ কখনো এ ধরনের নোংরা রাজনীতির সঙ্গে নিজেদেরকে জড়ায়নি। আর বিএনপি যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তার পরিণতি বিএনপিই ভোগ করবে। তাহলে ২৯ আগস্টের মধ্যেই কি বিএনপি ভাঙছে? এটি এখন রাজনীতিতে ক্রমশ বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে আসছে।banglainsider