পাকিস্তান জুড়ে বিশৃংখল অবস্থা, সরকারের সঙ্গে চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না : ইমরান খান

পাকিস্তানজুড়ে বিশৃংখল অবস্থা। লাহোর রণক্ষেত্র। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা। পাকিস্তানে রাজনীতি সর্বকালের সবচেয়ে উত্তেজনাকর অবস্থা। সারাদিন উদ্বিগ্ন দেশবাসী। কৌতুহল নিয়ে বিশ্ববাসী তাকিয়ে। এমন অবস্থায় অনলাইন জিও নিউজ রিপোর্ট প্রকাশ করে যে, আজাদি মার্চ নামের লংমার্চের পরিবর্তে জলসা করতে রাজি হয়েছে ইমরান খানের পিটিআই দল। এ নিয়ে সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ইমরান খান বলেছেন, কোনো রকম চুক্তি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। ওদিকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারও এমন চুক্তি হওয়ার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে

বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো পক্ষ থেকেই কোনো নতুন তথ্য দেয়া হয়নি। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রী আওরঙ্গজেব। সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চুক্তির খবরকে তিনি ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। একই কথা বলেছেন সিনেটর ফয়সল জাভেদ।

এর আগে অনলাইন জিও নিউজের খবরে বলা হয়, সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আড়াই ঘন্টা বৈঠক হয়েছে। তাতে উভয় পক্ষ চুক্তি করেছে। প্রথম দিকে সরকার পিটিআইকে লংমার্চের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু আজ সারাদিন রাজনীতির নাটক চলতে থাকে। উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর উভয় পক্ষ সিদ্ধান্তে আসে। সুপ্রিম কোর্ট পিটিআইকে সমাবেশ করার জন্য বিকল্প স্থান দেয়ার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু উভয় পক্ষ আড়াই ঘন্টার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয় জলসা বা জনসভা করার অনুমতি মিলবে এবং পিটিআই সেই জনসভা করবে।

আজ দিনের শুরু থেকেই পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদমুখী যাত্রা শুরু করেন । পথে পথে তারা বাধার সম্মুখীন হন। এতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে। সরকার দৃশ্যত সর্বশক্তি ব্যবহার করে তাদেরকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। ফলে সবার চোখ ইসলামাবাদের দিকে। পুরো দিনই রাজনৈতিক নাটকীয়তায় ভরা। এর মধ্যে লাহোর পরিণত হয় পুলিশ ও পিটিআই কর্মীদের মধ্যে রণক্ষেত্র।

আইন প্রয়োগকারীরা আছে উচ্চ সতর্ক স্থানে। সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে পিটিআইয়ের আজাদি মার্চ বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু পিছপা হওয়ার বান্দা নন ইমরান খান। তিনি লংমার্চে নেতৃত্ব দেয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। বলেন, তার এই লং মার্চ হবে পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ।

উৎসঃ মানবজমিন