সোনার নামে বিক্রি হচ্ছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান !

রংপুর সদরের মুন্সিপাড়ায় বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ কম্পানির অফিস। প্রতিষ্ঠানটির সামনে বিশাল সাইনবোর্ডে রয়েছে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের ছবিসহ বিজ্ঞাপন।

ভেতর থেকে ভেসে আসছে সোঁদা গন্ধ। ছাদে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের ছবিসহ একটি বড় সাইনবোর্ড। বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ কম্পানির ওই সাইনবোর্ডে সাকিবের জবানিতে সোনায় বিনিয়োগের আহ্বান।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মিঠাপুকুর উপজেলার রাশেক রহমানের লোকজন এই সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। তবে এখানে কেউ অফিস করেন না। কাউকে আসতেও দেখা যায়নি কখনো।

রাশেক রহমান রিলায়েবল কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ ও বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ নামের কম্পানি দুটির ম্যানেজিং পার্টনার। সাকিব আল হাসানকে কম্পানির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কিন্তু কমোডিটি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করার জন্য যথাযথ অনুমতি না নেওয়ায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি রাশেক রহমানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তারা জবাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিলায়েবল কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ ও বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ আমাদের চিঠির জবাব দিয়েছে। আজ (গতকাল মঙ্গলবার) তাদের জবাব আমাদের হাতে এসেছে। তারা জানিয়েছে, তারা কমোডিটিজ বিজনেস করছে না। অর্থাৎ তারা ফিউচার কন্ট্রাক্ট বিজনেস করছে না। তারা স্পট বিজনেস করছে। মানে দাম নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পণ্য দিচ্ছে। ’ তিনি বলেন, কমোডিটি বিজনেস করলে অবশ্যই বিএসইসি দেখবে। কারণ এ বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে অনলাইন মার্কেটের মতো গ্রাহকের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকে।

তবে বিএসইসির ব্যাখ্যা তলবের পর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের খবর হন সাকিব। পড়েন সমালোচনার মুখে। কারণ অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির উদ্যোক্তা মালিক সাকিব বলেই জানত অনেকে। এখন বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ব্যবসার মূল উদ্যোক্তা রাশেক রহমান। সাকিবকে সামনে রেখে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি।

গত ২২ এপ্রিল ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবসা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে গোল্ড বার বিক্রির এই ব্যবসার খুঁটিনাটি তুলে ধরেন রাশেক রহমান। পাশে ছিলেন সাকিব।

রংপুরে অফিস হিসেবে নেওয়া রাশেকের চাচার ওই বাড়িতে সাকিবের ছবি ও বক্তব্য ব্যবহার করে দেওয়া সাইনবোর্ডে লেখা আছে, ‘স্বর্ণ আমদানি হালাল, স্বর্ণে বিনিয়োগ হালাল। দেশে ব্যাংকে সুদের হার ক্রমশ নিম্নগামী। তাই হালাল ও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ করে নিশ্চিন্তে থাকুন। ’

ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আফসার আলী জানান, তিনি পাঁচ বছর ধরে এই বাড়িতে আছেন। বাড়ির মালিক রাশেক রহমানের চাচা লুলু মিয়া। রাশেক রহমান এটি ভাড়া নিয়েছেন। তিন মাস আগে রাশেক রহমান একবার এসেছিলেন। এখানে কেউ অফিস করেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না। ’

বাড়ির সামনে লাগানো সাইনবোর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে আফসার আলী বলেন, এখানে দুটি সাইনবোর্ড আছে। সাকিবের ছবিসহ সাইনবোর্ডটি ছয় মাস আগে লাগানো হয়েছে। আর নিচের ছোট সাইনবোর্ডটি (কম্পানির নাম) দেড় বছর আগে লাগানো হয়।

মুন্সিপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা জেনেছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু বাড়িটির যে দশা, তা দেখলে যে কারো মনে প্রশ্ন জাগবে। আর বাড়িটি রাশেক রহমানদের পরিবারের বলেই স্থানীয় লোকজন জানে।

যদি কোনো পণ্য বর্তমান বাজারদরের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের কোনো দামে ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি করা হয়, সেটা যে আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, তাকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বলা হয়। কৃষিপণ্য, খনিজ দ্রব্য, বন্ড বা সিকিউরিটিজ এভাবে লেনদেন করা যায়। kalerkontho