আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্স, ১২ দেশে শনাক্ত : দেশের সব বন্দরে সতর্কতা

নতুন ভাইরাস নিয়ে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সংস্থা বৈঠকে বসেছে যেসব দেশে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তার মধ্যে ইউরোপের নয়টি দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া রয়েছে।ইউরোপের জনস্বাস্থ্য বিভাগগুলো এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও সুইডেনে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মাঙ্কিপক্সের এবারের প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিক, কারণ যে এলাকায় সাধারণত এ রোগ হয়, তার বাইরে এবার সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

প্রায় ২০ বছর পর ফের একবার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্স। মার্কিন এক নাগরিকের শরীরে ধরা পড়েছে সেই ভাইরাস। যা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মার্কিন-মুলুকে। ওই ব্যক্তির ট্র্যাভেল হিসস্ট্রি বলছে, সম্প্রতি নাইজেরিয়া থেকে ফিরেছেন। আর এরপরেই শরীরে বেশ কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। আর পরীক্ষা করতেই জানা যায়, ওই ব্যক্তি মাঙ্কিপক্সএ আক্রান্ত।

এই মুহূর্তে স্থিতিশীল হলেও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে তাকে। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই কার্যত একটা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নাইজেরিয়া থেকে ফেরার সময় ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের খোঁজ চলছে। সে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাসপাতালগুলোকে এই বিষয়ে অ্যালার্ট করা হয়েছে।

এটি একটি বিরল অসুখ। এমনটাই বলছে ডাক্তাররা। পস্ক জাতীয় এক ধরনের ভাইরাল। খুব দ্রুত এই রোগ একজনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মূলত ড্রপলেট, আক্রান্ত কোনো পশু কিংবা অ্যানিম্যাল প্রোডাক্ট থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

শুধু তাই নয়, কাশি, কফ, রক্তের মাধ্যমেও মানব শরীরের একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু কেন এই ভাইরাসকে মাঙ্কিপক্স বলা হচ্ছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাদরের মধ্যে প্রথম এই ভাইরাস পাওয়া যায়। আর এরপর থেকেই এই ভাইরাসকে মাঙ্কি ভাইরাস বলা হচ্ছে।

মূলত আফ্রিকাতে এই ভাইরাসের সূত্রপাত। ১৯৭০ সালে কঙ্গোতে এই ব্যক্তির শরীরে প্রথম এই ভাইরাসের নমুনা পাওয়া যায়। এরপর মার্কিন-মুলুকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে ২০০৩ সালে। কুকুরের মাধ্যমে এই রোগ সে দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। যদিও এরপর থেকে আর সে দেশে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসেনি। নতুন করে টেক্সাসে ফের সন্ধান মিলেছে।

দেশের সবগুলো বিমানবন্দরে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর জানিয়েছেন।

রোববার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নতুন কোনো রোগের তথ্য পাওয়া গেলে আমাদের বন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করা একটা রুটিন ওয়ার্ক। সে হিসেবে আমরা সবগুলো বন্দরকে সতর্কতা নেওয়ার জন্য বলেছি। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিলেটের সিভিল সার্জন এবং আন্তর্জাতিক বন্দর রয়েছে এমন জেলার সিভিল সার্জনদের শনিবার ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসমূহে আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীদের উপর সজাগ দৃষ্টি ও হেলথ স্ক্রিনিং জোরদার করতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি মাঙ্কিপক্সের রোগী পাওয়া গেছে এমন দেশে ভ্রমণ করে আসা ব্যক্তিদের সন্দেহজনক রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

“কারও মধ্যে কোনো লক্ষণ পাওয়া গেলে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।”