নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে বিএনপির তৃণমূল

নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে বিএনপির তৃণমূল-আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় এই নির্বাচন। সে হিসেবে দুই বছরেরও কম সময় আছে নির্বাচনের। করোনা মহামারির দীর্ঘ ধকল কাটিয়ে এখন

দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শক্তি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ঘর গোছানোর কাজ শুরু করেছে। দেশের ছোট বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নিজেদের মতো করে। বিশেষ করে তৃণমূলে সম্মেলন করে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে বিভিন্ন দলগুলোর কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে দ্বিধান্বিত বিএনপি।

কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না দলটি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি তুলছে দলটি। একবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তো অন্যবার জাতীয় সরকার। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ক্ষমতাসীন দলের অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার কথাও জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব।

তবে বিএনপির তৃণমূল বলছে ভিন্ন কথা। তারা সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। যা আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দেখেছি। আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন সিটি নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। একই সঙ্গে পদত্যাগ

করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছেন নারায়ণগঞ্জের মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও এর স্বপক্ষে যে বিএনপির তৃণমূল নয় সেটা পরিষ্কার। বিএনপির তৃণমূল কেন্দ্রের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছে বলেই তারা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আন্দোলন সংগ্রামের কথা বললেও গত এক

যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনো আন্দোলনই সফল করতে পারেন নি বলে তৃণমূলের অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতে বেশ কিছু নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা বলছেন, অতীতের মতো আগামী নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ না করলে রাজনীতিতে বিএনপির কোনো প্রভাব থাকবে না এবং সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। কারণ রাজনীতিতে নির্বাচনই হলো প্রধান আর্কষণ।

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এই যুক্তির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নির্বাচন থেকে নিজেদের দূরে রেখে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তো পারেই নি বরং তাদের পরিণতি আরও খারাপের দিকেই গেছে। দলটি এখন বিপর্যস্ত প্রায়। বিএনপি তৃণমূলের

অধিকাংশ নেতাকর্মীর দাবি বিএনপির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে দলকে জনগণের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে চায় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এর মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেমন চাঙ্গা হবে তেমনি তৃণমূলে বিএনপির জনসমর্থন বাড়বে বলে মনে করেন করছেন বিশ্লেষকরা।banglainsider