সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন ফারুকী

সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন ফারুকী ১৯৪৬ সালে শুরু হওয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবের এবার ৭৫তম আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাদের মেলা বসছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশ থেকে হাজির হয়েছেন নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, সাংবাদিক, প্রযোজক, তারকা এবং চলচ্চিত্র ভক্তরা।এ কথা সবারই জানা, বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ১৭ মে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে পর্দা ওঠে এবারের আসরের। প্রতিবারের মতো এবারও ফ্রান্সের কান শহরে বসেছে এই জমকালো আয়োজন। ৭৫তম এই আসরেও বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিক, লেখক, অভিনয়শিল্পীরা ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের কানে অবস্থান করছেন।এবারের উৎসবের আমেজ ছুঁয়েছে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে। কারণ এই আয়োজনে তার অভিনীত ‘মুজিব-দ্য মেকিং অব এ নেশন’ সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশিত হবে।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের মার্শে দ্যু ফিল্ম বাণিজ্যিক শাখায় প্রকাশিত হবে মুজিব-এর প্রথম ঝলক। জানা যায়, সেখানে ১৯ মে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে এই প্রকাশনার আয়োজন করা হয়েছে।এ জন্য মঙ্গলবার ১৭ মে রাতে ফ্রান্সের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিশা। তার সঙ্গে রয়েছেন মেয়ে ইলহাম ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আর এ বিষয়টি নিয়ে রাতে কানের উদ্দেশে বিমানে চড়ে উঠে তিশার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন ফারুকী।

সেই স্ট্যাটাসের ক্যাপশনে ফারুকী লেখেন, ‘বেবিসিটার হিসাবে কান ভ্রমণ! মুজিব সিনেমার ট্রেলার লঞ্চ করতে যাচ্ছেন তিশা এবং আমি বেবিসিটার! আমার জন্য খুব নতুন এবং সুন্দর ভূমিকা! আর ওহ এটা ইলহামের প্রথম সফর।’এর পরপরই পোস্টটি নিয়ে শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা। নিজের সন্তানকে দেখভাল করাকে ফারুকী কেন বেবিসিটারের সঙ্গে তুলনা করছেন, তা নিয়েই মূলত সবার মন্তব্য।

এদিকে নির্মাতা ফারুকী খুব বেশি একটা কথা না বললেও এবার এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনা-সমালোচনায় বেশ বিরক্তি প্রকাশ করে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। পাঠকের জন্য তা হুবহু প্রকাশ করা হলো- ‘আমি অনলাইনে ছড়ানো কথাবার্তার উত্তর দেওয়া বন্ধ করছিলাম অনেক আগে, কারণ এইটা হইলো সময় এবং এনার্জি নষ্টের মোস্ট প্যাথেটিক ওয়ে।এর ভালো দিক হচ্ছে জীবন শান্ত সুন্দর হয়। আর একটা খারাপ দিক হচ্ছে, অনেক আজাইরা কথা বারবার উচ্চারিত হইতে হইতে সত্যের মতো রূপ ধারণ করে।আজকে এই বিষয়টা নিয়া বলতেছি কারণ এখানে আমার মেয়ে জড়িত। যখন আপনাকে কেউ বুঝিয়ে দিবে আপনি আপনার মেয়ের জন্য যথেষ্ট করছেন না, তখন কেমন রাগ লাগতে পারে বলেন?

“বেবিসিটিং” কথাটার জোক নিয়া ব্যাপারটা এতোদুর গড়াইছে যে কেউ কেউ আগ বাড়াইয়া শিক্ষাও দিচ্ছে যে বাচ্চা বড় করা মায়ের একা দায়িত্ব না। আপনি পিতৃতান্ত্রিকতা থেকে বের হয়ে আসেন। আই মিন সিরিয়াসলি পিপল!!! দুনিয়াটা এক আজব জায়গা হয়ে গেছে। এখানে যে কেউ যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান দিতে পারে। আমার ইনবক্স প্রিন্ট করলে এটা মোটামুটি একটা টেক্সটবুক হয়ে যাবে। আমাদের ঘরের ভিতর কি হয়, বাচ্চা বড় করার ক্ষেত্রে কার কি রোল- এইসব না জেনেই আমরা শিক্ষকের ভুমিকায় বসে যাই।

গাইজ, আমাদের দেশের অভিনেতা অভিনেত্রীরা হলিউড বা এমন কি বলিউডের মতোও অর্থ বা সাপোর্ট সিস্টেম পায় না। ফলে একজন অভিনেত্রী যদি সদ্য মা হয় তার জন্য কাজে ফিরতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু তিশা চায় না, সে তার কাজ কর্ম থেকে অনেক দিন দুরে থাকুক। আমিও চাই না। ফলে ওর কোনো কাজ আসলে আমি আমার কাজ বন্ধ করে ইলহামকে অ্যাটেন্ড করতে চাই। কিন্তু মুশকিল হলো প্রোডাকশনগুলো এই বাড়তি হ্যাপা নেয়ার জন্য খুব যে তৈরি তা বলা যাবে না। তারপরও কাজের বা ট্যুরের কথা আসলে, তিশা বলে, আমাদের বেবিসিটার নিতে দিতে হবে। বেবিসিটারের জন্য ভ্যান বা টিকিট বা হোটেলের ব্যবস্থা করতে হবে যতোদিন না ইলহাম কিছুটা শক্ত সামর্থ্য হচ্ছে। এবং আমি সব সময় হাসিমুখে বলি “বেবিসিটার কোটায় আমাকে ইনক্লুড করো, করে বলো আমি যাচ্ছি।”

আর বাচ্চা বড় করার দায়িত্ব মায়ের একা এটা কোথায় পাইছেন? আমার আগের লেখাটা ধরে কেউ কেউ বলছে, কেনো আপনি নিজেকে হেল্পিং হ্যান্ড বলছেন?ভাইরে ভাই, জীবনে কিছুটা বিনয় ভালো। আমি চব্বিশ ঘন্টা বাচ্চাকে অ্যাটেন্ড করলেও সেটা বড় করতে রাজী না। আর চব্বিশ ঘণ্টা অ্যাটেন্ড করলেও আমার কাছে এই মুভির স্টারিং রোল অলওয়েজ মা। বাবা কেবল সাপোর্টিং রোলের ক্রেডিটই পাইতে পারে। ঈশ্বর আমাদের ধৈর্য দিন, আমিন।rtvonline