গণকমিশনের ভুল তথ্য> ১১৬ জনের তালিকায় একজন মৃত, আরেকজন ভারতীয়!

গণকমিশনের ১১৬ জনের তালিকায় একজন মৃত-একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’ ১১৬ জন আলেমের তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা দিয়েছে।

এ তালিকা প্রকাশের পর আলেমদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে এর নিন্দা জানানো হয়েছে। ১১৬ জনের তালিকায় আছেন এমন একজন হচ্ছেন চট্টগ্রাম ওমরগণি এমইএস কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জামিয়া আরবিয়া ইসলামিয়া জিরির মুহাদ্দিস।

গণকমিশনের এ তালিকা নিয়ে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমরা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত নয়। জঙ্গি অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে এটাও সত্য নয়। আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে। আমরা যা বক্তব্য দেয় সব অনলাইনেই আছে। আমরা সব সময় এদেশের জাতি গোষ্টি সাম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মানুষকে আহ্বান করে থাকি। কেনো আমাদের নামগুলো সংযোজন করেছেন বুঝে আসে না। ৩০ নম্বরে যার

নাম দিয়েছে মাওলানা মতিউর রহমান মাদানি ওনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদার বাসিন্দা। ওনি এখন থাকেন সৌদিআরবে। ওনার নামও এখানে যুক্ত হলো। তাহলে তো যথাযথ তদন্ত হয়নি। আরেকজন অন্ধ হুজুরের নাম আছে ওনি তো মারা গেছেন। তাহলে এটা কোন ধরনের তদন্ত। একজন নাগরিক আরেকজন নাগরিকের বিরুদ্ধে এভাবে তদন্ত করে জমা দেয়ার ক্ষমতা তাদের কে দিয়েছে? এভাবে তদন্ত করার কি আইনগত কোনো বৈধতা আছে?

ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, এটা করতে পারে রাষ্ট্র। তদন্ত কমিশন রাষ্ট্র গঠন করতে পারে। তারা নয় মাস ধরে এক হাজার মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ১১৬ জন বিভিন্ন ঘরনার আলেমের বিরুদ্ধে একটা রিপোর্ট জমা দেয়ার অর্থ হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার পায়তারা বলে আমাদের মনে হচ্ছে। যাদের নাম দেয়া হয়েছে তাদের অনেকেই আছেন অনেক শ্রদ্ধাভাজন। তারা রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। তারা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। দুদক তদন্ত করে দেখুক। নির্বাচনের আগে তারা এগুলো কেনো করলো?

গণকমিশনের অনেকেই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ছিলেন জানিয়ে ওমরগণি এমইএস কলেজের সাবেক অধ্যাপক বলেন, ওনার (তুরিন আফরোজ) বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর ওনাকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। ১১৬ জন আলেমের মধ্যে একজন ভারতীয় আরেকজন মৃত। আর থাকলো ১১৪ জন। এদের বিদেশে কোনো বাড়ি আছে আমার মনে হয় না। আমি তাদের অধিকাংশকেই চিনি।

তিনি বলেন, এ তালিকা দেখলে দেখবেন এদেশের সব ঘরণার উলামায়ে কেরামকে এতে যুক্ত করা হয়েছে। মোটকথা এদেশে যারা ইসলামকে ফোকাস করে তাদের সবাইকেই টার্গেট করা হয়েছে। দেওবন্দী, আলিয়া, বেরলবী, আহলে হাদিস কাউকেই বাদ দেয়া হয়নি। গণকমিশনের এই পদক্ষেপকে ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি আমি মনে করি সব মাসলাকের আলেমদের একসঙ্গে হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে হবে। প্রেস কনফারেন্স করতে হবে। দুদকে স্মারকলিপি দিতে হবে। তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। শ্বেতপত্র প্রকাশ সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা এর নিন্দা ও তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি তালিকায় নাম আছে এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিবো। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আমরা আইনিভাবে এর মোকাবেলা করবো।

গণকমিশনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইন চ্যানেল 24 অনলাইনকে বলেন, ইতোমধ্যে আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছি। আসলে এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ওনি বাহিরের কোনো ইন্ধনে ভিনদেশিদের হীনস্বার্থ রক্ষায় এটি করেছেন। এটার মধ্যে ওনার কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। মানি লন্ডারিং মামলায় কোনো আলেম জড়িত আজ পর্যন্ত আমরা দেখি নাই। ওনি যে মুক্তিযোদ্ধা (শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক)

সেটা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ওনি তো লন্ডনের নাগরিক। আর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ওনার মা, ওনার ভাই সংবাদ সম্মেলন করে ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ওনারা নীতির কথা বলে নীতিহীন কাজ করছেন। ১১৬ জন আলেমের নাম অসৎ উদ্দেশ্যে দুদকে দিয়েছেন। দেশ স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। দেশে অশান্ত পরিবেশ তৈরি করার জন্য এ তালিকা করা হয়েছে। এ মুহুর্তে এই তালিকা কেন? তারা তো এই তালিকা করতে পারে না। তাদের তো সেই অধিকার নেই।

মাওলানা আলতাফ হোসাইন বলেন, শ্বেপত্রে বলা হয়েছে আলেমরা ধর্ম ব্যবসা করেন। এখানে ৯০ শতাশং আলেম আছেন যারা মানুষকে কোরআনের কথা বলছেন, হাদিসের কথা বলছেন। মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন। বাবা মায়ের হক নিয়ে কথা বলছেন। প্রতিবেশির হক নিয়ে কথা বলছেন। আজকে কেনো তাদেরকে মানি লন্ডারিংয়ে জড়িত বলা হচ্ছে। ধর্ম ব্যবসায়ীর তালিকায় আলেমদের নাম দেয়ার মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।channel24bd