যে ৫ কারণে একটুও বিচলিত নয় আওয়ামী লীগ!

যেসব কারণে বিচলিত নয় আওয়ামী লীগ-আস্তে আস্তে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা শোনা যাচ্ছে। বিএনপি এখন প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করছে এবং সরকার পতনের ডাকও দিয়েছে। অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নানা রকম সমালোচনায় এখন

মুখর রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে দৃশ্যমান রাজনৈতিক আন্দোলন লক্ষ্য করা যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর পাশাপাশি সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক নানারকম চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে মেরুকরণ চলছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার

ছাড়া তারা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আস্তে আস্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও তুলছে। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতির অঙ্গনে। কিন্তু এসব নানারকম চাপের পরও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনরকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ্য

করা যাচ্ছে না। বরং আওয়ামী লীগ আশাবাদী যে, আগামী নির্বাচনেও সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে এবং এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। এমনটি মনে করছেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। এরকম ভাবনার পিছনে রয়েছে পাঁচটি কারণ।

১. শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগ মনে করে যে, বাংলাদেশে এখন শেখ হাসিনাই একমাত্র নেতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি এবং দৃঢ়তার কারণে তিনি এই সমস্ত চাপগুলোকে সহজে মোকাবেলা করবেন এবং চাপ উত্তরণ করে কাঙ্ক্ষিত বন্দরে নোঙ্গর করবেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই এবং এককভাবে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। এটি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আশাবাদের বিষয়।

২. শক্তিশালী সংগঠন এবং কর্মী: আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা মনে করেন যে, অন্যান্য যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী এবং সংগঠিত। অভ্যন্তরীণ বিরোধ যাই থাকুক না কেন সংকটে তৃণমূলের আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়, অতীতে তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলের ভেতর যে কোন্দল আছে সে কোন্দলগুলো কেটে যাবে এবং এই শক্তিশালী সংগঠন যেকোনো বিরোধী আন্দোলনকে মোকাবেলা করতে পারবে।

৩.প্রশাসন: আওয়ামী লীগের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো প্রশাসন। আওয়ামী লীগ মনে করে যে, প্রশাসন সবসময় আওয়ামী লীগের পক্ষেই থাকবে। কারণ, আওয়ামী লীগ প্রশাসনে পদোন্নতি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা গুলো দিয়েছে তাতে তারা অন্য বিকল্প চিন্তা করবে না। এ কারণেই প্রশাসনের সমর্থন আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক।

৪. জঙ্গিবাদ ইস্যু: আওয়ামী লীগ গত ১৩ বছরে সফলভাবে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করেছে। আন্তর্জাতিক মহল আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনা করলেও তারা জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন যে, বাংলাদেশ কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যেকোনো সময় এখানে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে। এরকম একটি আতংক এবং উদ্বেগ পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে আছে। আর এ কারণেই পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে যে, জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মার্কিন পরাজয়ের পর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনের জন্য আওয়ামী লীগকে বেছে নিবে পশ্চিমা দেশগুলো।

৫. ভারত: এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষে এবং সরকারের ব্যাপারে ইতিবাচক বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত একটি বড় ফ্যাক্টর এবং এখন পর্যন্ত ভারত আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প ভাবছে না। এটি আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক বলেই অনেকে মনে করেন।banglainsider