ছাত্রলীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিল আরেক ছাত্রলীগ নেতা!

ছাত্রলীগ নেতার পায়ের রগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন অপর নেতা-বরিশালের গৌরনদীতে ছাত্রলীগের এক নেতার পায়ের রগ একই সংগঠনের অপর এক নেতা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার চাঁদশী কুমারভাঙ্গা সেতুর ওপর এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ছাত্রলীগের ওই নেতার রগ কর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ওই হামলার ঘটনায় হওয়া মামলার এক আসামির বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাঙচুর ও তিনজনকে আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম ফাহিম সরদার (২১)। তিনি চাঁদশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য ও মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ফাহিম শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতার বড় ভাই রাব্বি সরদার বাদী হয়ে ১২ জন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা–কর্মীকে আসামি

করে আজ রোববার গৌরনদী মডেল থানায় মামলা করেছেন। ওই দিনই পুলিশ মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফাহিম সরদার তাঁর সহযোগী জাহিদুল ইসলাম (২৪), মেহেদী হাসান (২০) ও মারুফ সরদারকে (২০)

নিয়ে টেক্সটাইল কলেজ এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। দক্ষিণ চাঁদশী কুমারভাঙ্গা সেতুর ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে নীল মনি মন্ডল, সজীব মন্ডলসহ সাত–আটজন সন্ত্রাসী রড, লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ফাহিমের শরীরের একাধিক স্থানে

কুপিয়ে জখম করে বাঁ পায়ের রগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ওই হামলায় ফাহিমের তিন সহযোগীও আহত হন। ফাহিম সরদার অভিযোগ করে বলেন, ‘হামলাকারীরা এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ নানা ধরনের অনৈতিক কাজ করে আসছিল। আমি এর প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর হামলা চালানো হয়।’

ফাহিম সরদার ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রোববার বেলা ১১টার দিকে থানাহাজতে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় আমি জড়িত নই।’ এ ঘটনায় অভিযুক্ত নীল মনি মন্ডলের কাছে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নীল মনি মন্ডলের বাবা বিনোদ মন্ডল ফাহিম ও তাঁর

সহযোগীদের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় তাঁর ছেলে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ফাহিমকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনার জের ধরে শনিবার রাতে সাবেক ইউপি সদস্য লিটন সরদারের নেতৃত্বে ১৫–২০ জন সন্ত্রাসী তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা তাঁর বসতঘর ভাঙচুর করে তাঁর স্ত্রী সু-প্রভা রানী মন্ডল (৩৮), কন্যা রাশ মনি মন্ডল (১৬) ও বড় ভাই শম্ভু মন্ডলকে (৬৫) পিটিয়ে আহত করেছে। তবে লিটন সরদার ওই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, ফাহিমের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মো. রাব্বি সরদার (২৭) বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আজ রোববার বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক দেওয়ান আবদুস সালাম বলেন, রোগীর বা পায়ের প্রধান রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিধায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে রাতেই ফাহিমকে বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শের–ই–বাংলা মেডিলে কলেজের চিকিৎসক নাজমুল হোসেন জানান, রোগীর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। রোগী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে ওরা (ফাহিম ও সাইফুল) ছাত্রলীগের কেউ নয় এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি তাদের চিনি না।’

তবে এ বিষয়ে তবে এ বিষয়ে চাঁদশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কাজী মেজবা উদ্দিন বলেন, আহত ফাহিম সরদার ও সাইফুল ইসলাম চাঁদশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য ফাহিম সরদারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সদস্য সাইফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তাঁদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।prothomalo