সদ্য প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতকে নিয়ে যে স্ট্যাটাস দিয়ে তোপের মুখে বিএনপির মুক্তাদির

মুহিতকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে তোপের মুখে বিএনপির মুক্তাদির-বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সদ্য প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘সমালোচনা করে’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাকে সিলেটে

অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। শুক্রবার রাত ১টার দিকে মারা যান সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে সিলেটজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। দলমত নির্বিশেষে সবাই শোক জানাচ্ছেন।

এরইমধ্যে শনিবার ভোরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সিলেট-১ আসনে মুহিতের এক সময়কার প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। স্ট্যাটাসে তিনি মুহিতের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তার অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের হয়ে মন্ত্রিত্ব করায় তার কড়া সমালোচনা করেন।

মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে সমালোচনা করায় বিপাকে পড়েছেন মুক্তাদির। পরে সমালোচনার মুখে পড়ে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। গত নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন মুক্তাদির। ওই নির্বাচনে মুক্তাদিরকে পরাজিত করে জয়ী হন মুহিতের অনুজ বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ফেসবুকে শনিবার ভোরে দেওয়া স্ট্যাটাসে লেখেন (বানান ও বাক্য অপরিবর্তিত)- ‘জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই

গভীর সমবেদনা। জনাব মুহিত ছিলেন কলেজজীবনে আমার চাচার সহপাঠী। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছিলেন ভোটারবিহীন জবর-দখলকারী একটি সরকারের অংশ। যে সরকার ইলিয়াস আলীসহ সিলেটের কমপক্ষে চারজন এবং সারা দেশের কয়েকশ’ গুমের জন্য অভিযুক্ত। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকাকালে

তার অনুসৃত ভুল অর্থনৈতিক নীতি এবং একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প ও ক্রয় প্রস্তাব পাশের দায় এই জাতিকে পরিশোধ করতে হবে বহু বছর ধরে। তার স্মৃতির সঙ্গে এই পীড়াদায়ক বাস্তবতা জড়িয়ে থাকবে বহুদিন। তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করি।’ মুক্তাদিরের এই স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার

সম্পাদক আবদুর রহমান জামিল ফেসবুকে লিখেছেন ‘মুক্তাদির সাহেব! ভালো পরিবারে জন্ম আপনার। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে, ক্ষমতার লোভ এতটাই যে, একজন মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির ব্যাপারে এমন মন্তব্য! সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে, কতটা নিচু মনের মানুষ হলে এমনটা বলা যায়?’

মুক্তাদিরের স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দিয়ে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী ফেসবুকে লেখেন ‘আদর্শিক বৈপরীত্য থাকলেও আপনাকে একজন জ্ঞানী, সজ্জন, ভদ্র ও ডায়নামিক মানুষ হিসেবে জানতাম। আপনার কাছ থেকে এমনটা আশা করিনি। শুধু আমি নয়, সিলেটের কেউই এটা আশা করেনি।’

মুক্তাদিরকে সিলেটে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এইচ ইলিয়াস দিনার লিখেছেন, ‘মুক্তাদির সাহেব আপনি একজন নিচু ও হিংসা মনোভাবের মানুষ এটা আগে জানা যায়নি…সিলেটের মানুষ খুব আন্তরিক মনের আর যাই হোক আপনার

ঠাঁই এই সিলেটে আর কোনো দিন হবে না। আপনাকে বয়কট ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো…’ এদিকে এমন স্ট্যাটাসের জন্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে ‘গণধোলাই দিয়ে সিলেট থেকে বিতাড়িত করার’ ঘোষণা দিয়েছে সিলেট মহানগর যুবলীগ। সিলেট মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ও সাধারণ

সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনও তা করতে পারে না। বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে খন্দকার মুক্তাদিরকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে সিলেটবাসী ও দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘অন্যথায় খন্দকার মুক্তাদিরকে সিলেট থেকে বিতাড়িত ও প্রকাশ্যে গণধোলাই দেয়া হবে।’

এদিকে সমালোচনার মুখে শনিবার বিকালে ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন মুক্তাদির। এতে তিনি লেখেন, ‘সদ্য প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সম্পর্কে আমার শোকবানীটি হয়ত কারও কারও মনঃপুত হয়নি। একটু মনযোগ দিয়ে পড়লেই দেখবেন শোকবানীটির মধ্যে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান হয়েছে, তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিক, ব্যাক্তিগত নয়।

জনাব মুহিত আমার চাচার সহপাঠী ছিলেন, আমরা পারিবারিক পর্যায়ে যখন তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করি বা করতাম তখন মুহিত চাচাই সম্বোধন করি, তার সঙ্গে আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সে কারণে তার কাছে প্রত্যাশাও ছিল বেশি। ‘এটিতো কোন অমূলক কথা নয়, যে সরকারের তিনি অংশ ছিলেন সেই সরকারের সম্পর্কে আমার উল্লেখিত কথাগুলি দেশে এবং বিদেশে ব্যাক্তি পর্যায়ে -রাস্ট্রীয় পর্যায়ে বহুবার উচ্চারিত হয়েছে, এমনকি সাম্প্রতিক কালেও উচ্চারিত হয়েছে। আর তার

অর্থনৈতিক নীতি আমার শুধু না অনেক দেশ বরেণ্য অর্থনীতিবিদের মনপুত হয়নি, আর যে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে সেগুলি কোনো ব্যাক্তির দুর্নীতি না, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। পারমাণবিক বিদুৎ প্রকল্প সহ অনেকগুলি প্রকল্প সেই সময়ে গৃহীত হয়েছে যেগুলির উপযোগিতা এবং প্রকল্পের মূল্যমান নিয়ে গভীর প্রশ্ন রয়েছে৷ কিন্ত কেউই জনাব মুহিতের ব্যাক্তিগত সততা নিয়ে প্রশ্ন নিয়ে তুলেনি এবং সেটি তোলার অবকাশ আছে বলেও আমার মনে হয় না। তিনি একজন দার্শনিক স্বভাবের হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। এটিও সত্য তার অনুসৃত অর্থনৈতিক নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও এত বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী একজন মুহিত সাহেব খুঁজে পাওয়া যাবে না। আল্লাহ তাকে মাগফেরাত দান করুন।’jugantor