তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে বিএনপির আলোচনায় ৩ নাম

বিএনপি বলেছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না। বিএনপির পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠিত হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার, এই তত্ত্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে। অবশয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবকে হাস্যকর এবং অবাস্তব বলে বলা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবে তার নাম বলুন। বিএনপি’র পক্ষ থেকে যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বা জাতীয় সরকারের প্রধান কে হবেন, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বলা হয়নি।

তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে যে, তারা এটি নিয়ে কাজ করছেন এবং বিএনপি ঈদের পরপরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি নতুন রূপরেখা দিবে এবং জাতীয় সরকারেরও একটি নতুন রূপরেখা দিবে বলে জানা গেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিগত আমলে যে ব্যবস্থাটি ছিলো যে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন। তিনি যদি কোনো কারণে অপারগ হন, অক্ষম হন তাহলে তার পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হবেন।

সেই ব্যবস্থাটি এখন বিএনপি আর রাখতে চাইছে না। বরং সুনির্দিষ্টভাবে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে আলাপ-আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করার বিধান রাখতে চাইছে।

বিএনপি মনে করছে যে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করাটা তাদের জন্য সুবিধাজনক নাও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে বিএনপির আলোচনায় তিনটি নাম এসেছে।

তার মধ্যে আছেন সুপ্রিমকোর্টের বিতর্কিত সাবেক প্রধান বিচারপতি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দণ্ডিত সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি দেশত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলায় তিনি আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়েছেন।

দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি যিনি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। দণ্ড এড়াতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আছেন। তাকে বিএনপি কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দেখতে চায়, এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা বিস্ময়।

দ্বিতীয় যে নামটি বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা হচ্ছে তাহলো আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সুরেন্দ্র কুমার সিনহা চলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেন যখন প্রধান বিচারপতি হন তখন তিনি ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন। তিনি এখন নিভৃতে জীবনযাপন করছেন।

তার রাজনৈতিক দর্শন নিয়েও তেমন কোনো কথাবার্তা পাওয়া যায়নি। কেন বিএনপি তাকে পছন্দ করছে, সেটি সম্বন্ধে খবর নিতে গিয়ে দেখা গেছে যে তার রাজনৈতিক পরিচয় একটু জামায়াত-বিএনপি ঘরানার বলেই কেউ কেউ মনে করেন।

এ কারণেই তাকে আর পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি করা হয়নি বলেও জানা গেছে, যে অভিমানে তিনি বিচারপতির পদ থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে, তৃতীয় নাম মাহবুব তালুকদার। তাকে সকলেই চিনেন।

তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন। এই সমস্ত ব্যক্তিরা যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হন তাহলে তা জাতীয়ভাবে তো নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এ কারণেই বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে তত্ত্ব এবং ফর্মুলা তা শুরুতেই হোঁচট খেতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Source: Bangla Insider