সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন মির্জা ফখরুল সহ বিএনপির শীর্ষ ৫ নেতা

বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা বলছে, ঈদের পর চূড়ান্ত আন্দোলন করা হবে বলেও ঘোষণা দেয়া হচ্ছে দলটির পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া দলে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন।

প্রতিদিনই দলের কাউকে না কাউকে বহিষ্কার করা হচ্ছে অথবা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে, সিনিয়র নেতারাও বাদ পড়ছেন না। বিএনপিতে এখন চলছে শুদ্ধি অভিযান।

এই শুদ্ধি অভিযানে সরকারের সঙ্গে বিএনপির কোন কোন নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে, সে ব্যাপারেও তথ্য অনুসন্ধানের কাজ করা হচ্ছে। তারেক জিয়ার একটি নিজস্ব টিম এই তথ্য অনুসন্ধানের কাজ করছে এবং এই অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির অন্তত পাঁচজন সদস্য রয়েছেন যারা সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। এরা হলেন-

১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং দেশে বিএনপির মূল নেতা। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিন দফা তার চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছ থেকে ২ কোটিরও বেশি টাকা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দুইবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানো হয় এবং সেখানে তার চিকিৎসার সমুদয় বিল পরিশোধ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। আবার তিনি ব্যাংককেও চিকিৎসা করেন একবার, সেই ব্যাংককে চিকিৎসারও সমুদয় বিল শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিশোধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিন দফায় তার হার্ট এবং অন্যান্য চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা।

২. নজরুল ইসলাম খান: নজরুল ইসলাম খান বিএনপির আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনিও চিকিৎসা বাবদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন। তারও হৃদরোগের চিকিৎসা করা হয়েছে এবং সেই খরচ শেখ হাসিনা সরাসরি বহন করেছেন। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত স্টাফরা তার চিকিৎসার টাকা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

৩. মির্জা আব্বাস: মির্জা আব্বাস তাঁর পরিবহন খাত এবং ব্যাংকিং খাতের জন্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। প্রতিবার হরতাল বা অন্যকোন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে বেসরকারি বাসগুলো যেন ঢাকা শহরে নামে, এজন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

মির্জা আব্বাসের পরিবহন প্রতিষ্ঠানও সরকারের কাছ থেকে এসেই আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছে। এছাড়া মির্জা আব্বাস নিয়ন্ত্রিত ঢাকা ব্যাংক সরকারের বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা এবং সুবিধা গ্রহণ করেছে। মির্জা আব্বাস ব্যক্তিগতভাবেও সরকারের কাছ থেকে এককালীন অনুদান গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

৪. ইকবাল মাহমুদ টুকু: ইকবাল মাহমুদ টুকু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং আনুকূল্যে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন এবং এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে জানা গেছে। টুকুর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন টেন্ডার এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন বলেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।

৫. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও সরকারের ব্যবসায়ীক পার্টনার এবং সরকারের সঙ্গে তার একাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা রয়েছে। তাছাড়া হোটেল ব্যবসাতেও সরকারের আনুকূল্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া এই সমস্ত নেতারা কিভাবে সরকার পতনের আন্দোলন করবে, সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে বিএনপির মধ্যে দেখা দিয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যই বিএনপি এখন ব্যস্ত। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করে, যারা সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন আর্থিক এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নেন তারা কিভাবে সরকারের বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলন করবেন।

সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার