বেগম জিয়াকে নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি? এরশাদের পথেই কি হাটছে !

টানা পঞ্চমবারের মতো বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে এ ব্যাপারে আজকালের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে। চতুর্থ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ২৫ মার্চ শেষ হওয়ার কথা। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার একটি আবেদন করেছিলেন।

যেই আবেদনে তিনি জামিনের শর্ত শিথিল করা এবং তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথাও বলেছেন। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ে শামীম ইস্কান্দারের আবেদনের সেই অংশটুকু প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা পূর্বে শর্তে অর্থাৎ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেবেন এই শর্তে তাকে আবার ছয় মাসের জন্য নির্বাহী আদেশে জামিন দিয়েছেন।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত রয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সরকার যেকোনো দন্ডিত ব্যক্তিকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তার দন্ড স্থগিত করতে পারে। সেই ধারা প্রয়োগ করেই বেগম খালেদা জিয়াকে প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলের বাইরে রাখা হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আবার সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও তাকে জেলে নেয়া হচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের রাজনৈতিক পরিকল্পনা কি?

এটি নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে ততই বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বিএনপিও বেগম খালেদা জিয়ার কারণে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। তারা যে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন করবে, সেই আন্দোলন করতেও ভয় পাচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের কৌশলটা মোটামুটি ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আগামী নির্বাচনের আগে এবং এটিই ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া যদি কারাগারে রাখা হতো তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের একটি সহানুভূতি তৈরি হতো। বিশেষ করে বয়স্ক হওয়ার কারণে বার্ধক্যজনিত নানা রোগ-শোকে আক্রান্ত বেগম জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আবেগ তৈরি করতো।

সরকার সেই সুযোগটি দিতে চায়নি। আর এরকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা করতো। এরকম পরিস্থিতি সরকার নিতে চায়নি। আবার বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশে পাঠানো হয়, সেক্ষেত্রেও অন্য রকমের সমস্যা রয়েছে। বিদেশে গিয়েই বেগম খালেদা জিয়া অন্যরকম ভাবমূর্তির ধারণ করবেন। তিনি তার অসুস্থতা এবং অন্যান্য বিষয়গুলোকে চাপা দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একটা বক্তব্য দিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে পারেন।

এরকম একটি চিন্তা থেকে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিতে চাইছে না। সরকার মনে করছে, বিদেশে গেলেই বেগম খালেদা জিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবেন এবং তখন সরকারের জন্য তিনি একটি বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশে রেখে আবার বিদেশে না যেতে দিয়ে বাড়িতে রেখে সরকার একটা মধ্যবর্তী অবস্থা গ্রহণ করতে চাইছে। এখন বেগম খালেদা জিয়া তার মুক্ত জীবনের জন্য সরকারের সাথে যেকোনো ধরনের সমঝোতা করতে পারে বলেও অনেকে মনে করেন।

বিশেষ করে নির্বাচনের সময় বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার জেলে রাখবে না ফিরোজায় রাখবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা চাপ প্রয়োগের কৌশল নিতে পারেন। বেগম খালেদা জিয়া দু’বছর কারাগারে ছিলেন। তার মধ্যে একটা জেল ভীতি তৈরি হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তাকে বাইরে রাখতে চায়।

এমন কি বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ার পরও বেগম জিয়া যে ফিরোজায় আছে এটা তাদের কাছে মঙ্গলের ভালো। এ কারণে আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যবহার করে হয়তো বিএনপি’র একটি অংশকে নির্বাচনে আনার কৌশল সরকার গ্রহণ করেছে। সেই কৌশল বাস্তবায়নের জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে ফিরোজায় রাখা হয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ফিরোজাতেই থাকবেন।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা অনেকটা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মতো। এরশাদকে যেমন তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করা হতো এবং জেলের ভয় দেখিয়ে এরশাদকে সবকিছুই করতো সব রাজনৈতিক দল, ঠিক তেমনিভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলের ভয় দেখিয়ে হয়তো বিএনপিকে মেরুদন্ডহীন করে রাখার একটি পরিকল্পনা সরকারের আছে।

উৎসঃ বাংলা ইনসাইডার