সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ইসলামী আন্দোলনকে বিজয়ী করার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাতে হবে-মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টা চালানো আল্লাহ তায়ালা সকল মুসলমানদের ওপর ফরজ বা অত্যাবশ্যকীয় করে দিয়েছেন। হাদিসে রাসূল (সা.)এর বর্ণনায় এসেছে, যার মধ্যে দ্বীন কায়েমের যজবা নেই; তার কোন ঈমানই নেই। মূলত, প্রত্যেক মুমিনের জীবনোদ্দেশ্যই হচ্ছে দ্বীন। তাই ঈমানের দাবিতে সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ইসলামী আন্দোলনকে বিজয়ী করার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি দ্বীন বিজয়ের লক্ষ্যে প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য ইউনিট দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের শাহ আলী থানা আয়োজিত ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষা বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। থানা আমীর ডাঃ মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জিএম হাফিজের পরিচালনায় বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরা সদস্যবৃন্দ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথচলা কখনো মসৃণ ছিল না বরং বন্ধুর ও বিপদসঙ্কুল পথেই দ্বীনের বিজয় অবশ্যাম্ভাবী হয়ে উঠেছে। যুগে যুগে যারাই মানুষের কাছে দ্বীনে হক্বের দাওয়াত দিয়েছেন, কায়েমী স্বার্থবাদীদের পক্ষ থেকে তাদের ওপরই নেমে এসেছে অবর্ণনীয় নির্যাতন। বিশ^ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) ও তার সাহাবীরা (রা.) তা থেকে রেহাই পাননি। তিনি কাফিরদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে শিয়াবে আবি তালিবে তার স্বজন ও সঙ্গীদের নিয়ে দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ ছিলেন। সে সময় তাদের খাদ্যদ্রব ও পানীয় বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে তারা বাবলা গাছের পাতা খেয়ে নিজেদের ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে ও তার সঙ্গীদের জন্মভূমি ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করতে হয়েছিল। তাই যেকোন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার সাথে দ্বীন বিজয়ের প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি জালিমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সকলকে ময়দানে সক্রিয় থাকার আহবান জানান।

তিনি বলেন, দেশ ও জাতি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ক্ষমতাকে অবৈধভাবে দীর্ঘায়িত করার জন্যই জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তারা আগামী দিনে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন আইন ও কথিত সার্চ কমিটি করে নতুন করে তামাশায় লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু জনগণ তাদের পাতানো খেলা মেনে নেবে না বরং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে। তিনি আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি সংবিধানে নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করার আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই আইনী প্রক্রিয়ায় সকল মামলায় জামিন নেওয়ার পরও জেলগেইট থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে গ্রেফতার করে সংবিধান ও আইনের শাসনের মারাত্মক লঙ্ঘন করেছে। মূলত সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দিশেহারা হয়ে জামায়াতসহ বিরোধী দলের ওপর নতুন করে দলনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু জুলম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন স্বৈরাচারি ও অগণতান্ত্রিক শক্তি টিকে থাকতে পারেনি আর কেউ পারবেও না। তিনি অধ্যাপক মিয়া পরওয়ারের বেআইনী গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তিনিসহ সকল রাজনৈতিক নেতার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনতার নেতাদের জনগণই মুক্ত করে আনবে ইনশাআল্লাহ।