সেই ঘটনায় অপমান করে শোয়েব আক্তারের কাছে ১০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণও চাইছে পাকিস্তানি চ্যানেল

অপমান করা হয়েছিল শোয়েব আখতারকে। টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছিল তাঁকেই, এমনকি এমন উগ্র আচরণের পরও ক্ষমা চাননি উপস্থাপক। তবু কিনা শোয়েব আখতারকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে!

পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল পিটিভি স্পোর্টস সেটাই করছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে চুক্তি মেনে অনুষ্ঠানে যেতে রাজি না হওয়ায় শোয়েব আখতারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছে চ্যানেলটি। তাঁর কাছ থেকে ১০ কোটি ৩৩ লাখ পাকিস্তানি রুপি চাইছে পিটিভি।

গত ২৬ অক্টোবর পাকিস্তানি চ্যানেল পিটিভি স্পোর্টসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে শোয়েব আখতার, কিংবদন্তি ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান স্যার ভিভ রিচার্ডস, সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড গাওয়ার, সাবেক পাকিস্তানি পেসার আকিব জাভেদ, সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক রশিদ লতিফরা হাজির হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটের পরিচিত মুখ ড. নোমান নিয়াজ।

পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার হারিস রউফ ও শাহিন শাহ আফ্রিদির মধ্যে কাকে নিয়ে আলোচনা করা হবে, এ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান দুজন। একপর্যায়ে নিয়াজ শোয়েবকে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে বলেন, ‘আপনি অতি চালাক এবং অভদ্রের মতো আচরণ করছেন। আপনার উচিত এই অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যাওয়া।’

শোয়েব তবু অনুষ্ঠানে ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে ওই আচরণের জন্য নিয়াজকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন শোয়েব। কিন্তু নিয়াজ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। শোয়েবও সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন।

এমন ঘটনা দেশটির ইমরান খানেরও নজরে পড়েছে। উপস্থাপক বাড়াবাড়ি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইমরান। চারদিক থেকে ধেয়ে আসা সমালোচনার মধ্যে শোয়েবের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন নিয়াজ। গত ৪ অক্টোবর এক ইউটিউব চ্যানেলে বলেছিলেন, ‘টিভিতে ওই আচরণের পর সমালোচনা প্রাপ্যই ছিল আমার। মানুষ মাত্রই ভুল করে, এটা ঘটা ঠিক হয়নি। আমি শুধু একবার না, কোটিবার ক্ষমা চাইতে রাজি। আমি জানি, অনেক মানুষের আবেগে ধাক্কা দিয়েছি এবং শোয়েব আখতারকেও কষ্ট দিয়েছি। এ ঘটনায় তাঁর ভুল থাকুক আর নাই থাকুক…উনি একজন আমোদ দেওয়া তারকা।’

নিয়াজ অবশ্য এর পরই যা বলেছেন, তাতে পরিষ্কার দম্ভ টের পাওয়া গেছে। শোয়েব যত বড় তারকাই হোন না কেন, তাঁর বেতন তিনি দেন—এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন এক ফাঁকে, ‘অন্য কোথাও কথা বলবেন না—এভাবে শোয়েব আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। মানুষের ধারণা, আমি শুধুই একজন উপস্থাপক; তারা ভুলে যায়, আমিই তাঁর বেতন দিই, কারণ আমি চ্যানেলের প্রধান।’

শোয়েবের সঙ্গে তাঁর এ দ্বন্দ্বের পেছনের কারণটাও জানিয়েছিলেন নিয়াজ, ‘সমস্যাটা হলো, তাঁকে আমরা পুরো বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছি কিন্তু বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় এই বড় টুর্নামেন্টগুলো। ফলে, এই বিশ্বকাপের সময়ে অনুষ্ঠানে তিনি থাকবেন, এ ঘোষণা দিয়ে দেওয়ার পর তিনি হঠাৎ করে বেতন বাড়াতে বললেন। অথবা বেতনের বাইরেও বাড়তি একটা অঙ্ক দিতে বললেন। আমরা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে একটা অঙ্ক নির্ধারণ করেছি। আমি কাউকে অপমান করতে চাইনি। দরকার হলে পুরো জাতির সামনে ক্ষমা চাইব, কারণ এটাই আমার দায়িত্ব।’

নিয়াজের কাছে যে আর্থিক দিকটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল এবার। বিশ্বকাপের ভরা মৌসুমে শোয়েবের এভাবে অনুষ্ঠান থেকে সরে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে পিটিভি। শোয়েবের বিরুদ্ধে তাই আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। নোটিশ না দিয়ে নিজের পদ থেকে সরে যাওয়া ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কারণে রিকভারি নোটিশ পাঠিয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি ৩৩ লাখ রুপি (প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা) চেয়েছে পিটিভি।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার রুপি দিতে হচ্ছে তাঁর তিন মাসের বেতন হিসেবে, যা নোটিশ না দিয়ে চাকরি ছাড়ার কারণে দিতে হবে। আর বাকি ১০ কোটি রুপি চাওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে। এ ঘটনায় টুইটারে ক্ষোভ জানিয়েছেন শোয়েব। বলেছেন, ‘খুবই হতাশ হলাম। পিটিভি কাজ করার সময় আমার সম্মান ও খ্যাতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা, এখন আবার রিকভারি নোটিশ পাঠাচ্ছে। আমি একজন যোদ্ধা এবং আমি হাল ছাড়ব না, এই আইনি লড়াই লড়ব। আমার আইনজীবী সালমান নিয়াজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

উৎসঃ prothomalo